চরমপন্থী নেতা মোজাফফর গ্রেপ্তার


প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০১২ ||

ইয়ারব হোসেন : গোপন দলের আঞ্চলিক নেতা জেলাবাসীর আতঙ্ক মোজাফফর রহমান সানাকে (৩০) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শনিবার ভোরে সদর উপজেলার বাওয়ালডাঙ্গা গ্রামের তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে প্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তালায় দুই সহযোগীসহ চরমপন্থী আর এক র্শীষ নেতা হত্যাসহ প্রায় এক ডজন মামলার পলাতক আসামি বিদ্যুৎ বাছাড়কে (৩৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উভয়ই পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি এমএল (জনযুদ্ধ) এর সাথে সম্পৃক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মোজাফফর রহমান সানা তালা উপজেলার দোহার গ্রামের আব্দুল গফফার সানার ছেলে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম খান জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত দুটোর দিকে তার নেতৃত্বে সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম, উপ পরিদর্শক সুরেশ হালদারসহ পুলিশের একটি দল মোজাফফর রহমানের শ্বশুর মহিউদ্দিন ঢালীর বাড়ির ঘেরাও করে রাখে। ভোর সাড়ে চারটার দিকে ওই বাড়ি থেকে মোজাফফরকে বন্দুকের দুটি গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, পূর্বাবাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মোজাফফর একই উপজেলার মাগুরঝড়া গ্রামে ২০০৪ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে একটি হত্যা মামলা, ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি হত্যা মামলা, একই সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি ডাকাতি মামলা ও ২০১০ সালের জুলাই মাসের একটি ডাকাতি মামলার আসামি। এসব মামলায় মোজাফ্ফরের নামে অভিযোগপত্র রয়েছে। উপরিউক্তদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া, তালা, আশাশুনি থানায় আরও এক ডজন মামলা রয়েছে।

মোজাফফর জানান, তিনি চার মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ছয়দিন আগে তিনি শ্বশুরবাড়ি সদর উপজেলার বাওয়ালডাঙ্গ গ্রামের মহিউদ্দিন ঢালীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এর আগে তার এই চরমপন্ত্রী কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রথম স্ত্রী দোহার গ্রামের রজিনা খাতুন তাকে তালাক দেয়।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, মোজাফফর শীর্ষ চরমপন্থী সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রবিউল ইসলাম দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদ্যুৎ বাছাড় ও মোজাফ্ফর রহমানকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেন। পুলিশ সুপার মো: আছাদুজ্জামান জানান, চরমপন্থী দলের শীর্ষ দুই নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। এতে তাদের সাংগঠনিকভাবে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।