কপিলমুনির ঐতিহ্যবাহী সহচরী বিদ্যামন্দির কলেজে উন্নীতকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়


প্রকাশিত : জুলাই ২৩, ২০১২ ||

পাউকগাছা প্রতিনিধি : দক্ষিণ খুলনার বাণিজ্যিক উপশহর কপিলমুনির ঐতিহ্য সহচরী বিদ্যামন্দির। সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কলেজ পর্যায়ে উন্নীতকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সু-বার্তা যেন এলাকার আপামর জনসাধারণকে আরও একধাপ সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, এমন মন্তব্য এলাকাবাসীর।

জানাযায়, উপমহাদেশের প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক স্যার পিসি রায়ের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় ক্ষনজন্মা রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধূ বাজার প্রতিষ্ঠার পর মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করেন একাধিক প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে ১৯২৬ সালে মাতামহ সহচরী দেবীর নামানুষারে প্রতিষ্ঠা করেন সহচরী বিদ্যামন্দির। যা বর্তমানে পাইকগাছা-খুলনা যাতায়াতের প্রধান সড়কের পূর্বপার্শ্বে ৪.০৯ একর জমির উপর অবস্থিত। জন্মলগ্ন থেকে হাটি হাটি পা পা করে প্রতিষ্ঠানটি তার স্বীয় মর্যাদা অটুট রেখেছে। ধরে রেখেছে আভিজাত্য ও ঐতিহ্য। ফলে সুশিক্ষায় গড়ে উঠেছে এলাকার বহু সন্তান। যাদের অনেকে আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত থেকে দেশ সেবায় নিবেদিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৭ সালের ১০ জুলাই তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য ঐতিহাসিক রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য স্যার যদুনাথ সরকার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শুভ দ্বারোদঘাটন করেন। সেই সময় প্রতিষ্ঠাতা রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু তার লিখিত দলিলে উল্লেখ করে গেছেন, অত্র প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি থাকবেন (পদাধিকার বলে) জেলা প্রশাসক, খুলনা। ঐ সময় খুলনা ডিস্ট্রিক কালেক্টর অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩৩ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৯৯ সালে অত্র বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা কোর্স, ২০০৬ সালে কারিগরি শিক্ষা কোর্স ও সর্বশেষ গত জুন’১২ সালে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দিরকে কলেজ পর্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে রয়েছে, রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু নির্মিত মূল প্রশাসনিক ভবন। রয়েছে ৪টি একাডেমিক ভবন, অমৃতময়ী মিলনায়তন, বিজ্ঞান ভবন, বিনোদ স্মৃতি ছাত্রাবাস ও প্রধান শিক্ষকের বাস ভবন। রয়েছে সহচরী সরোবর নামে নিজস্ব পুকুর, ভাষা শহীদদের স্মরণে দৃষ্টি নন্দিত শহিদ মিনার, সকল খেলার উপযোগী সুবিশাল মাঠ, ৩টি মার্কেট এর ৮১টি দোকান, ০.৬৬ শতক বিলান জমি। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা (৪র্থ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত) ১০৭৮ জন এবং শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা রয়েছে ২৭ জন।