শ্যামনগরে চিংড়ি চাষীদের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : জুলাই ২৩, ২০১২ ||

ডেস্ক রিপোর্ট : শ্যামনগরের তিন শতাধিক চিংড়ি চাষীর নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়েরকৃত মামলা থেকে চাষীদের অব্যাহতি দিয়ে চিংড়ি শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চিংড়ি চাষী সমিতির নেতৃবৃন্দ। গতকাল সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান শ্যামনগর উপজেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি এসএম আফজালুল হক। তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ রপ্তানি পণ্য হচ্ছে চিংড়ি। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক বড় অংশ আসে চিংড়ি রপ্তানি করে। শ্যামনগর উপজেলা সাতক্ষীরার মধ্যে চিংড়ি চাষের একটি বৃহৎ ক্ষেত্র। এই উপজেলায় বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিংড়ি শিল্পের সাথে জড়িত। সরকারি হিসেবে শ্যামনগরে ১৪,৬৬৯.২০ হেক্টর এবং বেসরকারি হিসাবে ২৬,৬৪২.৩৩ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ চলমান। দেশের মোট চিংড়ির বৃহৎ একটি অংশ উৎপাদিত হয় শ্যামনগর উপজেলায। চিংড়ি শিল্পের উন্নতির সাথে সাথে এ অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক অবস্থার উন্নতিসহ নাগরিক সুযোগ সুবিধা বেড়েছে এবং উন্নয়ন হয়েছে সব শ্রেণির মানুষের জীবন যাত্রার মান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি নানান প্রতিকূলতায় জর্জরিত হয়ে এ শিল্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই দফায় দফায় চিংড়ির দর পতন, পোনার মূল্য বৃদ্ধি, ঘেরে ব্যাপকভাবে ভাইরাসের আক্রমণে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষীরা। এ পরিস্থিতিতে চিংড়ি চাষীরা সর্বশান্ত হতে চলেছে। ঋণের দায়ে দিশেহারা হয়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দু’এক বছরের মধ্যে চিংড়ি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এমনই দুরাবস্থার মধ্যে গত ১৭ ও ১৮ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ড খোড়া অজুহাতে শ্যামনগর উপজেলার ৩৩৩ জন চিংড়ি চাষীর বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের বি ধারায় থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। চিংড়ি  চাষীদের জন্য এ যেন “মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা”। দেড় মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নোটিশ পেয়ে অধিকাংশ চিংড়ি চাষী ওয়াপদা বেঁড়িবাধের মধ্যে অবস্থিত সকল পাইপ ও বক্সকল বন্ধ ও অপসারণ করে নেয়। চিংড়ির ভরা মৌসুম থাকায় বাকিগুলো অপসারণের জন্য আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌখিকভাবে সময় চেয়ে নেয় চাষীরা। একই দাবিতে তারা গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করে। তারপরও পাউবো কর্মকর্তরা তাদের নামে থানায় হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। পাউবোর’র এই মামলা সাতক্ষীরার চিংড়ি শিল্পের বিরুদ্ধে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এসবের কারণে হঠাৎ করে চিংড়ি চাষ বন্ধ হয়ে গেলে এই এলাকার জমিতে কোনভাবেই ধান চাষ করা সম্ভব নয়। মাটিতে লবণাক্ততার কারণে অনেক জমিতে স্বাভাবিক ধান চাষ হতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ দীর্ঘ সময় চিংড়ি চাষীরা কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে এটা কোন ভাবেই আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর রপ্তানি আয়ের উৎস চিংড়ি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে শ্যামনগর উপজেলার চাষীদের নামে দায়ের করা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান জিএম রেজাউল করিম, রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, বিশিষ্ট চিংড়ি চাষী ও ব্যবসায়ী  হাজী মজিবর রহমান, হাজী মোবারক আলী, শেখ আব্দুস সবুর, শেখ আফজারুর রহমান, শেখ মিজানুর রহমান প্রমুখ।