পরিবেশ বিপর্যয়: শ্যামনগরে জনবসতির মধ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে ইট ভাটা


প্রকাশিত : জুলাই ২৩, ২০১২ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর পল্লীতে জনবসতির মধ্যে ইট ভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে জনস্বার্থ পরিপন্থী এমন অপতৎপরতা চললেও দায়িত্বশীল কোন পক্ষ আমলেই নিচ্ছে না। এদিকে লোকালয়ের মধ্যে ইট ভাটা গড়ে তোলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্রমেই ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। স্থানীয়রা জনবসতির মধ্যে ইট ভাটা তৈরীর কাজ বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে জেলা প্রশাসকের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

বংশীপুর গ্রামের আজিজ, মামুন ও সায়রা বানুসহ অন্যরা জানান, প্রায় দু’মাস পূর্বে কৈখালী ইউনিয়নের দাউদ মাস্টারের পুত্র আব্দুর রহিম বংশীপুর গ্রামের মধ্যে ইটের ভাটা গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। ইটের ভাটার ধোয়ায় স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশংকায় স্থানীয়রা শুরুতে বাধা দিয়েও ব্যর্থ হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, ইতালী প্রবাসী আব্দুর রহিম ও তার পরিবার অঢেল ধন সম্পদের মালিক হওয়ায় তারা সব কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে যেকোন অবস্থায় ঐ এলাকায় ইট ভাটা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে তারা জমি লিজ নিয়ে মাটি উত্তোলন এবং ভাটার নির্মাণ কাজ শুরু করেছে জানিয়ে গ্রামবাসী বলেন, ইতিপূর্বে ইটের ভাটার জন্য একই বিলের দক্ষিণ পার্শ্ব থেকে গভীর করে মাটি উত্তোলন করায় প্রায় তিনশত ভূমিহীন পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ে।

বংশীপুর গ্রামে বসবাসরত নারী ও পুরুষেরা অভিযোগ তুলেছেন, ঐ বিলে ইট ভাটা হলে পাশের সমুদয় চাষের জমিতে ধান উৎপাদনের ক্ষমতা হারাবে তেমনি এলাকার গাছগাছালী ধ্বংস হয়ে যাবে। অবিলম্বে তারা জনবসতির মধ্য থেকে ইট ভাটার নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন অংশে উক্ত ইটের ভাটাটি পরিচালিত হতো। কিন্তু সেখানে জমির লিজের মেয়াদ শেষ হওয়াতে প্রভাবশালী ঐ ভাটা মালিক বংশীপুর গ্রামের জনবসতির মাঝ বরাবর ঐ ইটের বাটা গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঐ ভাটা মালিকের পক্ষ নিয়ে লোকালয়ে ইটের ভাটা গড়ে তোলার কাজে বিরুদ্ধচারণকারীদের হয়রানির ভয়ভীতি দেখানোই প্রকাশ্যে কেউ কথা বরছেন না বলেও এসব অভিযোগকারী জানান।

এবিষয়ে ভাটার মালিক আব্দুর রহিমের পক্ষে তার খালাত ভাই শাহিন আলম জানান, পরিবেশ সম্মত ভাটা তৈরী করা হচ্ছে। জনবসতির মধ্যে ইট ভাটা তৈরীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহিন জানান, অনুমতি রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোন কাগজপত্র দেকাতে পারেনি।

জানা গেছে, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ইটের ভাটার অনুমতিপত্রকে পুঁজি করে তারা বংশীপুর এলাকার ভেটখালী রোডের পাশে জনবসতির মধ্যে ঐ ভাটা গড়ে তুলছে।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, জনবসতির মধ্যে ইট ভাটা গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ শ্যামনগর-ভেটখালী মূল সড়কের পাশে ইট কাটানোর মাটি স্তুপাকারে রেখেছে। সামান্য বর্ষাতেই ঐ মাটি গলে রাস্তার উপরর এসে মারাত্মক সব দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে স্থানীয়দের পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার আবু জার, মোসলেম ও মিজানুর রহমানের অভিযোগ।