মেধাবী মুখ: দারিদ্র্য জয় করে অদম্য মিলনের সাফল্য


প্রকাশিত : জুলাই ২৬, ২০১২ ||

কলারোয়া প্রতিনিধি : অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। সেটা আর একবার যেন প্রমাণ করলো অতি দরিদ্র ঘরের মেধাবী মুখ মিলন। আর্থিক বাধাসহ সব ধরনের প্রতিকূলতা পদদলিত করে এসএসসি’র মতো এবারের এইচএসসি’র ফলাফলেও কলারোয়ার মিলন হোসেন অর্জন করেছে জিপিএ-৫। চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজে থেকে মিলন এ সাফল্য লাভ করে। সে উপজেলার  সীমান্তবর্তী কাদপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মিলন ছোট। তার বড় ভাইও দিনমজুর। বাবা সোহরাব হোসেন মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। মা শেফালি খাতুন ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে এ-বাড়ি, ও-বাড়ি ঠিকা কাজ করেন। কৃতি ছাত্র মিলনের মা গৃহিনী শেফালি খাতুন জানান, অভাবের সংসারে ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর সামর্থ তাদের ছিল না। তাই প্রায় সময়ই মিলন তার বাবার সাথে যেতো মাছ ধরার কাজে। ফলে নিয়মিত কলেজে যাওয়া, প্রাইভেট পড়া, এমনকি তিন বেলা দু’মুঠো খাবারও জুটতো না তার কপালে। তারপরও নিজের আগ্রহ ও অদম্য চেষ্টায় সে গতবার উপজেলার চান্দুড়িয়া কেসিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এবারও চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করলো। মিলনের এমন সাফল্যে তার বাবা-মা আনন্দের পাশাপাশি পড়েছেন এক মহা দুশ্চিন্তায়। আর তা হলো, আগামী দিনগুলোতে কিভাবে ছেলের লোখাপড়ার খরচ জোগাবেন। মা জানান, পরীক্ষার সময় কোন কোন দিন সে না খেয়েও পরীক্ষা দিতে গেছে। ছেলে বলতো, এতে তার কোন কষ্ট হয় না। মিলন জানায়, টাকা ধার করে সে পরীক্ষার ফরম ফিলআপ করেছে। পরে কায়িক পরিশ্রম করে সে ধার নেয়া টাকা শোধ করে দিয়েছে। বই কেনার টাকা ছিল না বলে বন্ধুদের কাছ থেকে বই চেয়ে পড়েছে। মানবিক বিভাগের ছাত্র মিলনের এ সাফল্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সে জানায়, এ অর্জনের পেছনে ছিল অনেক না পাওয়ার ব্যাথা ও চাপা বেদনা। জিপিএ-৫ পাওয়া এ মেধাবী ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চায়। চায় তার দু:খে ভরা সংসারে বাবা-মাসহ সবার মুখে হাসি ফোটাতে। সহপাঠীসহ চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ ও সম্মানিত সকল শিক্ষক মন্ডলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিলন হোসেন তার জীবনের সার্বিক সাফল্যের জন্য সকলের আশীর্বাদ কামনা করেছে।