মেধাবী মুখ : নাসরিনের স্বপ্ন ছোঁয়া সাফল্য


প্রকাশিত : জুলাই ২৭, ২০১২ ||

কলারোয়া প্রতিনিধি : অত্যন্ত গরীব ঘরের মেয়ে নাসরিন সুলতানা। তার চলার পথে বাধা আসে বার বার। কিন্তু থেমে থাকে নি নাসরিন। সে অবিচল প্রত্যয় ও আশা নিয়ে এগুতে থাকে। সে অদম্য, অসম্ভবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে। সেটা আর একবার প্রমাণ করলো দরিদ্র ঘরের প্রত্যয়ী এই মেধাবী মুখ নাসরিন। আর্থিক বাধাসহ সব ধরনের প্রতিকূলতা পিছনে ফেলে এসএসসি’র মতো এইচএসসি’র ফলাফলেও নাসরিন সুলতানা অর্জন করলো জিপিএ-৫। চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজে থেকে মানবিক বিভাগে নাসরিন সুলতানা এ সাফল্য লাভ করেছে। সে উপজেলার সীমান্তবর্তী চান্দুড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। নাসরিনরা ২ বোন ও ১ ভাই। তার বড় বোন জেসমিন আকতার কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়েন। ছোট ভাই মাসুদ রানা কেসিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বাবা মিজানুর রহমান একজন নির্মাণ শ্রমিক। তার সামান্য আয়ে সংসার ঠিকমতো চলে না। তার ওপর আবার ৩ ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ। পেরে উঠছেন না তিনি। মা আলেয়া খাতুন জানান, অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর সামর্থ তাদের নেই। অপরের সহায়তা ও ধার-দেনাই একমাত্র অবলম্বন। যত দিন যাচ্ছে, বাড়ছে দেনার পরিমাণ। নাসরিনের প্রাইভেট পড়া- এমনকি সব সময় দু’মুঠো খাবারও জুটতো না। লেখাপড়া সব সরঞ্জাম জোগাড় হতো না। তারপরও নিজের আগ্রহ ও অদম্য চেষ্টায় সে গতবার উপজেলার চান্দুড়িয়া কেসিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এবারও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করলে নাসরিন। নাসরিনের এমন সাফল্যে তার বাবা-মা আনন্দিত হয়েছেন নিঃসন্দেহে। কিন্তু নাসরিনসহ ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার দুশ্চিন্তায় সে আনন্দ আবার ম্লান হয়ে গেছে। মা আলেয়া খাতুন আরও জানান, বই কেনার টাকা ছিল না বলে বান্ধবীদের কাছ থেকে বই চেয়ে পড়েছে সে। প্রাইভেট পড়ার সামর্থ না থাকলেও ওর স্যারেরা তাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। মা আলেয়া খাতুন তাই কলেজের প্রতিটি শিক্ষকবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা জানান। মানবিক বিভাগের ছাত্রী নাসরিনের এ আলোকিত সাফল্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সে জানায়, এ অর্জনের পিছনে ছিল অনেক ত্যাগ, পরিশ্রম ও না পাওয়ার ব্যাথা। জিপিএ-৫ পাওয়া এ মেধাবী ভবিষ্যতে একজন উচ্চ পদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। এমন সম্মানিত একটি অবস্থান চায়, যেখানে থেকে বাবা-মাসহ সবার মুখে হাসি ফোটাতে পারবে। নাসরিন সুলতানা সহপাঠীসহ চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ ও সম্মানিত সকল শিক্ষক মন্ডলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার জীবনের সার্বিক সাফল্যের জন্য সকলের আশীর্বাদ কামনা করেছে।