জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সুন্দরবনের ফল, বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বনভূমির বিস্তৃতি

শ্যামনগর প্রতিনিধি : সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের ফল এখন উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সুন্দরবন তীরবর্তী উপজেলা শ্যামনগরের পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার পরিবার তাদের প্রতিদিনের জ্বালানীর চাহিদা মেটাচ্ছে সুন্দরবনের ফল দিয়ে। এছাড়া ওই ফল ছাগলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষেতের বন হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে নুতনভাবে বনভূমির বিস্তৃতি বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার সাথে সাথে উপকূলবর্তী এলাকা ক্রমেই ভাঙনমুখে পতিত হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার কলবাড়ী, মীরগাং, গোলাখালী, সিংহড়তলী, চুনকুড়িসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা ফল কুড়িয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা । আর কুড়িয়ে নিয়ে আসা ফল রাস্তার উপর স্তুপাকারে জমা করে রোদে শুকিয়ে পরবর্তীতে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সারা বছর ধরে সুন্দরবনের গরান, গেওয়া, খলিশা, কাঁকড়া, সুন্দরী, পশুর, বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের ফল জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে। বিশেষ প্রজাতির এসব বৃক্ষের ফল কূলে আসার পর তারা (গ্রামবাসীরা) নেট জাল ও ঝুঁড়ি দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে জ্বালানীর কাজে ব্যবহার করছে।

সিংহড়তলী গ্রামের বাবুর আলীর স্ত্রী সফুরা বেগম জানান, এলাকায় জ্বালানীর খুব সংকট, তাই বনের ভ্যাসে আসা ফল তুলে জ্বালানী করি আমরা। তিনি আরও জানান, ভেসে আসা ফল খন্দপাতি (সবজী চাষ) করার জন্যি ক্ষ্যাতের বন হিসেবেও ব্যবহার করি। মীরগাং গ্রামের পারুল বেগম জানালেন, সুন্দরবনের ফল জ্বালানী ছাড়াও ছাগলের খাদ্য হিসেবেও এলাকার মানুষ ব্যবহার করে।

আমরা যারা গরীব-গুরুব মানুষ তারা বাধ্য হুয়ে নদী থেকে বনের ফল কুড়িয়ে নিচ্ছি জ্বালানীর জন্যি জানালেন একই গ্রামের কওছার মোড়লের পুত্র মিজানুর রহমান। তবে এসব ফল না তুলে নিলে চরে বড় বড় বনের সৃষ্টি হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জোয়ারের সময় ভেসে আসা ফল চর থেকে তুলে নেওয়ায় বনবিভাগ বা অন্য কেউ আপত্তি করে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে মধুমিতা মন্ডল জানায় “না”। চুনকুড়ি গ্রামের ঐ গৃহবধূ আরো জানান, ফল এসে চরে জমে গাছ হলিও ছাগলে খেয়ে ফেলে। কেউ কোন বাঁধা না দেওয়ায় এখন আশপাশের গ্রামের মানুষ ঐ ফল তোলে জ্বালানীর জন্যি। মুন্সিগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ বিধুস্রুবা মন্ডল বলেন, চরাঞ্চলে গাছ-গাছালী না থা থাকায় প্রতিনিয়ত উপকূলরক্ষা বাঁধ ভাঙছে। যেসব এলাকায় চরে বনের ভেসে আসা ফল বসতে পারছে সেখানে বনভূমি গড়ে উঠছে। কিন্তু কারও কোন নজরদারি না থাকায় প্রতি বছর সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা কোটি কোটি ফলের সবটুকুই উপকূলবাসী ধরে নিয়ে জ্বালানীর জন্য ব্যবহার করায় সুন্দরবনের বিস্তৃতি বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া একই কারণে আশপাশের নদীতে সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই এসব এলাকার বাঁধ নদীতে বিলীন হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বন বিভাগের পক্ষে সামাজিক বনায়নে শ্যামনগর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আমরা যে এলাকায় বনায়নের কাজ করছি সেসব এলাকায় আমরা কাউকে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল তুলতে দেই না। তিনি আরও বলেন, আমাদের কার্যসীমার বাইরে অনেকেই সুন্দরবনের ফল তুলে প্রাকৃতিক বনায়নে বাধার সৃষ্টি করছে। এসব ভেসে আসা ফল সংগ্রহে স্থানীয়দের সতর্ক হওয়ার দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এবিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম জানান, জ্বালানীর চাহিদা মেটাতে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা ফল সংগ্রহের উপর ষ্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের সচেতনতার অভাব এবং বনবিভাগের স্বল্প জনবলের কারণে অনেকেই ঐসব ফল নদী থেকে তুলে নিচ্ছে। তবে অসংখ্যবার এমন কাজ না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করার কথাও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, সারা বছর সুন্দরবন থেকে একইভাবে ফল ভেসে আসলেও বছরের এই সময়টা মূলত বৃক্ষরাজি জম্মানোর জন্য উপযুক্ত। অথচ স্থানীয়দের তৎপরতায় বছরের পর বছর ধরে দীর্ঘ চরাঞ্চলে এক ইঞ্চিও বনভূমি বাড়তে পারছে না।

ইতিপূর্বে স্থানীয়রা উপকূল রক্ষা বাঁধের বাইরের অংশ ইজারা নিয়ে নদীর চরে চিংড়িঘের কিংবা কাঁকড়ার পয়েন্ট গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সিডর ও আইলা’র পর থেকে উপকূলবর্তী এলাকা রক্ষার্থে উপকূলবর্তী নদীর চর ইজারা প্রদান বন্ধ করে তদসংলগ্ন চরাঞ্চলে বনাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু সুন্দরবনের ভেসে আসা যাবতীয় ফল জ্বালানীর কাজে ব্যবহার হওয়ায় বনাঞ্চলের বিস্তৃতি কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজিবি’র অভিযানে ছয় মাসে ১৮ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য আটক, ৩০ চোরাকারবারী গ্রেপ্তার, মামলা হয়েছে আরো ৭২ জনের নামে

ইয়ারব হোসেন : সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গত ৬ মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ মালামাল আটক করেছে। এ সময়ে ৭৬ হাজার বোতল ফেনসিডিল, ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭৭ পিচ ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৩০ চোরাকারবারীকে। পলাতক দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে আরো ৭২ চোরকারবারীর নামে।

৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাসে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে আসা ১৬ কোটি ২৯ লক্ষ ১৫ হাজার ১৫০ টাকার ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পথে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ২১ হাজার ৮১ টাকার মালামাল আটক করা হয়। এর মধ্যে উল্লিখিত মাদকদ্রব্যসহ ১ হাজার ৭২ বোতল বিদেশী মদ, ৩৫ কেজি গাঁজা, ৮ গ্রাম হেরোইন রয়েছে।

সীমান্তের রুদ্রপুর, গোগা, চান্দুড়িয়া, হিজলদী, মাদরা, কাকডাঙ্গা, তলুইগাছা, কুশখালি, বৈকারী, গাজীপুর, ঘোনা, ভোমরা, পদ্মশাখরা, দেবহাটা, ঝাউডাঙ্গা, কলারোয়া, বাঁগআচড়া, কুলিয়া, পারুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ বিপুল পরিমান অবৈধ পণ্য আটক করা হয়। এছাড়া ভারত থেকে সীমান্ত গলিয়ে আসার পথে আটক করা হয় উন্নত মানের শাড়ি, মাছ, থ্রি-পিচ, জিরা, এলাচ, গরু, সার, ওষুধ, শার্ট ও প্যান্ট পিচসহ বিভিন্ন পণ্য। অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পথে আটক করা হয় চামড়া, রসুন, সুপারি, কুলের চারা, ঝালসহ বিভিন্ন পণ্য।

৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু বাছির জানান, কয়েক বছরের তুলনায় গত ৬ মাসে বিপুল পরিমান অবৈধ পণ্য আটক করা হয়েছে। যা এর আগে সারা বছরেও আটক হতো না। বিজিবি’র অভিযানে প্রতিদিনই অবৈধ পণ্য আটক হচেছ্। চোরচালান রোধে সীমান্তে বিজিবি তৎপর রয়েছে।

মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না কনিকার

সামিউল মনির, শ্যামনগর : বিয়ের পর চারটি বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো ‘মা’ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট পল্লীর দেবদাস গাইনের স্ত্রী কনিকা গাইনের (২২)। স্বামী-স্ত্রী মিলে সিদ্ধান্ত নেয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার। স্বপ্ন পূরণের মনোবাঞ্চনায় দু’জন বাড়ি থেকে রওনা হয় সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে। কিন্তু শ্যামনগর বাসস্ট্যাণ্ডে পৌঁছানোর পর দ্রুতগামী ট্রাকের চাকায় পিষ্ঠ হয় কনিকা’র মা হওয়ার স্বপ্ন।

গতকাল খুব সকালে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় গাছ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। নিহতের স্বামীকে সঙ্গাহীন অবস্থায় শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকাল সাতটার দিকে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলযোগে কনিকা-দেবদাস দম্পতি সাতক্ষীরার দিকে যাচ্ছিল। শ্যামনগর বাসস্ট্যাণ্ড অতিক্রমকালে স্ট্যাণ্ড চার্জের জন্য মোটর সাইকেল স্ট্যাণ্ডের দুই শ্রমিক তাদের বহনকারী মোটর সাইকেল ধরে টানা-হেঁচড়া শুরু করে। এসময় মোটর সাইকেলের পিছে বসা কনিকা গাইন উল্টে পড়ে যাওয়ার মুহুর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা যশোর-ট-১১-২২৭২ নম্বরধারী দ্রুত গতির বালু ভর্তি ট্রাকটি প্রথমে কনিকার ডান কাঁধ ও হাতের উপর দিয়ে চলে যায়। প্রথম আঘাতের পরও কনিকা জীবিত ছিল দাবি করে শরিফুল ইসলামসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক গজ সামনে যেয়ে ট্রাকটি মুহুর্তের মধ্যে আবার পিছিয়ে (ব্যাকে) এসে পিছনের চাকা কনিকার মাথার উপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হলে দীর্ঘক্ষণ ধরে স্বামী দেবদাস গাইন মৃত স্ত্রীর লাশ জাপড়ে রাস্তার মধ্যে শুয়ে বিলাপ করতে থাকে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকের চালক শ্যামনগর ইসলামী ব্যাংকের সামনে ট্রাকটি ফেলে মালিক চিত্ত সিংহের বাড়ির মধ্যে ঢুকে যায়। ট্রাকটি মা মনসা ভাণ্ডারের মালিকের বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

নিহতের ভগ্নিপতি কৃষ্ণপদ বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে সন্তান না হওয়ায় কনিকা ও দেবদাস সাতক্ষীরায় যাচ্ছিল ডাক্তারের কাছে। কনিকার স্বামী দেবদাস পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা অফিসে চাকুরী করে জানিয়ে তিনি বলেন, স্ত্রীর আবদারে সে দু’দিনের ছুটিতে গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসে। ঘাতক ট্রাক তাদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে বলে- তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জরিনা খাতুন, মনোয়ারা বেগম ও নেছার আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করেন ঢাকাগামী সংগ্রাম পরিবহনের একটি বাস যাত্রীর অপেক্ষায় মূল সড়কের উপর দাড়িয়ে ছিল। এসময় মোটর সাইকেল স্ট্যান্ডের শ্রমিকদের টানা-হেঁচড়ায় পিছন থেকে ঐ গৃহবধূ পড়ে যাওয়ার মুহুর্তে দ্রুতগতির ট্রাকটি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়রা মোটর সাইকেলকে ধাক্কা দেওয়া দুই শ্রমিক ও ঘাতক ট্রাকের চালকের শাস্তিসহ সংকীর্ণ ঐ সড়কের উপর থেকে ঢাকাগামী পরিবহনের কাউণ্টারগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

শ্যামনগর থানার ওসি আমীর তৈমুর ইলি জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে চিহ্নিত করা গেছে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে ব্যারিকেড সরিয়ে দিয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি আটকের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঐ ঘটনায় মামলা হচ্ছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এদেশে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই: মুনসুর আহমেদ

নিজস্ব প্রতিনিধি : জেলা পরিষদের প্রশাসক মুনসুর আহমেদ বলেছেন, রোজা আমাদের সংযমী হতে শিক্ষা দেয়। ধনী গরীবের ব্যবধান দূর করে পবিত্র রমজান মাস। হিংসা-হানাহানি ভুলে শান্তিময় সমাজ গঠনে রোজার ভূমিকা অপারিসীম। বিশ্বভ্রাতৃত্বকে সুদৃঢ় করতে রোজা ও ঈদ সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এদেশে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। তিনি শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার শিমুল বাড়িয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, নীতি নৈতিকতা, সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ধর্মীয় শিক্ষা মানে মৌলবাদ জঙ্গিবাদ নয়। ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি শিক্ষাকে কর্মমুখী করতে বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতি দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এ সময় তিনি শিমুল বাড়িয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শাহাজান আলী, দপ্তর সম্পাদক গনেশ চন্দ্র মন্ডল, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবুল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ শফিউদ্দীন শফি, এ্যাড. রায়হান আলী, সদর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, ফিংড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, ফিংড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শেখ আফজাল হোসেন মারুফ, শ্যামুয়েল ফেরদৌস পলাশ, জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাও. আকতারুজ্জামান।

তালায় চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস, চাষীরা হতাশ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : চলতি মৌসুমের শুরুতেই হতাশ হয়ে পড়েছে তালা উপজেলার কয়েক হাজার চিংড়ি চাষী। চিংড়ি পোনা সংকট হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করে চিংড়ি পোনা সংগ্রহ, তার ওপর চিংড়ি ঘেরগুলোতে ভাইরাস লাগায় ব্যাপক হারে মড়ক ধরেছে। চিংড়ি চাষে এ অবস্থার জন্য বৈরী আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন মংস্য বিশেষজ্ঞরা। জানা গেছে, ৯০ দশকে এখানকার চাষীরা অধিক লাভবান হওয়ার জন্য ধানের পরিবর্তে চিংড়ী চাষে মনোনিবেশ করে। ধীরে ধীরে চিংড়ি চাষ বৃদ্ধি পায়। ধানের পরিবর্তে বছরের ৮ মাস বাগদা চিংড়ির চাষ হয়ে থাকে। চিংড়ি চাষে অল্প দিনে অধিক লাভবান হওয়ায় চাষীরা চিংড়ি চাষের প্রতি ঝুকে পড়ে। উপজেলার মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৭ হাজার ১৬ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৬শ ৭৬টি ছোট বড় ঘেরে চিংগি চাষ হয়েছে। চিংড়ি চাষীরা জানান, বিগত কয়েক বছর চিংড়ি চাষে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অনেক চাষী মহাজনের নিকট থেকে টাকা নিয়ে আবার কেউবা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে চিংড়ি চাষ করে। আবার কেউবা মহাজনের জমি হারি নিয়ে চাষ করে। মাছের পোনা ছাড়ার ২ মাসের মাথায় ঘেরে ব্যাপকহারে মড়ক লাগার কারণে অনেক ঘেরে মাছ মরে ভেসে উঠেছে। অধিকাংশ ঘেরে যে মাছ বেঁচে আছে তা দুর্বল। এ অবস্থায় মৎস্য চাষীরা নতুন করে মাছ ছাড়ার কথা ভাবছেন। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, ঘেরে অধিক লবণাক্ততার কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মৌসুমের শুরুতেই প্রস্তুতির জন্য অধিক পরিমাণ চুন দেয়া ও মাটি ভালভাবে না শুকানোর কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হবে বলে অনেকের ধারণা। স্থানীয় চিংড়ি চাষী ও জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু জানান, ভাইরাস চিংড়ির জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। ভাইরাসের কারণে চিংড়ি চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। ভাইরাস নিরাময়ে কোন ব্যবস্থা না থাকায় চিংড়ি চাষীরা চিংড়ি চাষ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। অপর দিকে তৈলকূপী গ্রামের চিংড়ি চাষী রোকনুদ্দীন, বড়গাছা গ্রামের দিলীপ সরকার ও কালীপদ সাধু জানান, বর্তমানে ভরা মৌসুমে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া কথা ছিল সম্পূর্ণ তা বিপরীত চিত্র দেখা দিয়েছে।

 

বিজিবির অভিযানে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় থ্রি-পিচ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিজিবি সদস্যরা গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের পলাশপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাক ভর্তি  প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় থ্রি-পিচ উদ্ধার করেছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর সামি-উন-নবী চৌধুরির নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শহরের পলাশপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় কাপড় ভর্তি একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ড-১১-৮৪০) আটক করে। পরে ট্রাক থেকে ভারতীয় থ্রি-পিচের ৫২টি গাইড উদ্ধার করা হয়। এর আগে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানীরা ভারতীয় কাপড় ভর্তি ট্রাকটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আটক মালামালের মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে বিজিবি জানিয়েছেন। পরে গাইড থেকে ৩২০০ পিচ ভারতীয় থ্রি-পিচ পাওয়া যায়।

বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর সামি-উন-নবী চৌধুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ভারতীয় এই বিপুল পরিমান কাপড় চোরাই পথে আনা হয়। এসব কাপড় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে তিনি জানান।

গ্রামীণ ফোনের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে ৩ কর্মচারী আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি : গ্রামীণ ফোন টাওয়ারে ব্যবহৃত (জিএনজি) ব্যাটারি চুরি করে পালানোর সময় জনতার সহতায় পুলিশ গ্রামীণ ফোনের ৩ কর্মচারীকে আটক করেছে। এ সময় একটি মিনি পিকআপসহ চালক ও হেলপার এবং ২৪ পিচ ব্যাটারি উদ্ধার করে পুলিশ। রাতে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শহরের আবাসিক হোটেল সাউদিয়ায় অভিযান চালিয়ে নাটোর জেলার বারঘড়িয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে বশির উদ্দীন তুষার, পটুয়াখালির বাউফল থানার কনকদিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের ছেলে শামিম হোসেন ও মেহেরপুরের গাংনি থানার গাংনি গ্রামের মুকুল ইসলামের ছেলে আনোয়ার ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধারকৃত ২৪টি ব্যাটারির মূল্য ৩ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে গ্রামীণ ফোনের খুলনা ও বরিশান জোনের রিজিওনাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দীন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ধৃতরা এনজেল ডিজিটেক কোম্পানিতে চাকুরি করে। তবে কোম্পানির সাথে গ্রামীণ ফোনের চুক্তিভিত্তিক তারা সারা দেশে গ্রামীণ ফোনের টাওয়ারের নেটওয়ার্কভিত্তিক কাজ করে আসছিল। সে সুবাদে তাদের কাছে দেশের বিভিন্ন এলাকার টাওয়ারের রুমের চাবি রয়েছে।

সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় ধৃত বশির শামিম ও আনোয়ার শহর থেকে একটি মিনি পিকআপ (খুলনা মেট্রো-ন ১১-০১৭৬) ভাড়া নিয়ে শহর উপকণ্ঠের গোপিনাথপুর এলাকায় নির্মিত গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক টাওয়ার অফিসের ৩টি তালা খুলে ২৪ পিচ জেনারেটরের ব্যাটারি নিয়ে ট্রাকে তোলে। এ সময় স্থানীয় জনতা ও নাইট গার্ড এসে চ্যালেঞ্জ করলে চোরেরা কৌশলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ ট্রাকসহ চালক ও হেলপারকে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উল্লিখিত তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার আলামত হিসেবে উদ্ধারকৃত গাড়িটিকে পুলিশ রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। ওসি আমিনুল ইসলাম মামলা হয়েছে স্বীকার করে বলেন ধৃতদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

নছিমন, করিমন, ভটভটি

শ্যামনগর প্রতিনিধি: প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনার কারনে। অপরিপক্ক চালকের হাতে গাড়ির ষ্টিয়ারিং আর অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি অননুমোদিত যানবাহনের ব্যাপক উপস্থিতি স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে সেক্ষেত্রে। বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠনসহ নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাথে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন সেক্টরের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা মুল সড়কগুলো থেকে অবৈধ এবং ঝুঁকিপুর্ন যানবাহনসমুহ প্রত্যাহারে জোর দাবি জানালেও কোনভাবে সে দাবি পুুরন হচ্ছে না। এছাড়া অনেকে আবার ঝুঁকি রয়েছে জেনেও স্বেচ্ছায় করিমন-নসিমনের মত ঘাতক যানে সওয়ার হচ্ছে পয়সা সাশ্রয়ের অভিলাশে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে মালামাল ভর্তি করিমনের উপর চড়ে বসেছে এক নারী। চলন্ত ঐ যানটি কোন কারনে দুর্ঘটনার শিকার হলে উপরে বসে থাকা যাত্রীটির কপালে কি জুটবে তা কেবল সময় বলে দিতে পারে। এধরনের ঝুঁকিপুর্ন চলাচল নিয়ন্ত্রনের জন্য কোন না কোনপক্ষকে এগিয়ে আসা উচিত। ছবিটি গতকাল সকাল আটটার দিকে শ্যামনগর-খানপুর সড়কের চন্ডিপুর এলাকা থেকে তোলা।

তালায় মাছ চুরি করতে গিয়ে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তি আটক

তালা প্রতিনিধি : তালায় হাসান গোলদার (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে মাছ চুরির অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ভোররাত ৩টার দিকে তালার চাড়িভাঙ্গা মৎস্য ঘের হতে ধারালো অস্ত্রসহ ঘেরের পাহারাদাররা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তালার বিশিষ্ট চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামের চাড়িভাঙ্গা ও কোলাসবিলের চিংড়ি ঘের থেকে মাছ চুরি করার সময় ঘেরের পাহাদাররা টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যয়ে ধারালো অস্ত্র ও একটি লাঠিসহ পাশ্ববর্তী জেয়ালা নলতা গ্রামের রহিম গোলদারের পুত্র হাসান গোলদার (৩২) সহ দু’ব্যক্তিকে আটক করে। এসময় হাসান গোলদারের সহযোগী একই গ্রামের শহর আলী নিকারীর পুত্র মৎস্য চোর ছোবহান নিকারী কৌশলে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ঘের মালিক রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে তালা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

যশোরে আইন শৃঙ্খরার চরম অবনতি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে

বদরুদ্দিন বাবুল, যশোর:  র‌্যাবের কর্মকান্ড অনেকটা নিষ্ক্রিয়তা ও পুলিশের দায়িত্বহীনতায় কারণে যশোর শহর শহরতলীতে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা। মাদক ও সন্ত্রস কবলিত ক্রাইম পয়েন্ট যশোর পূরাতন বাসটার্মিনাল, মণিহার চত্ত্বর বারান্দীপাড়া, মোল¬াপাড়া, ঢাকারোড, নীলগঞ্জ, বকচর বাবলাতলা, নিউমার্কেট, বিরামপুর, বাহাদুরপুর, খাজুরা, ফতেপুর, ধর্মতলা, শংকরপুর, চাঁচড়া মন্ডলগাতি খোলাডাঙ্গা প্রভৃতি এলাকা এখন ছিনতাইকারীদের নিরাপদ জোন হিসেবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গোটা যশোর শহর পরিনত হয়েছে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। ছিনতাই, বোমাবাজি মারামারীসহ এহেন অপরাধমুলক কাজ নেই তারা করছেনা।সন্ধ্যা নামলেই মানুষ ছিনতাই আতংকে ভুগছে। পুলিশ কিছুতেই এসব অপরাধীদৈর থামাতে পারছেনা। কখনো এদেরকে ধরে পুলিশে দিলেও তাদের আটক রাখতে পারেনা পুলিশ। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহনকারী তাদের গডফাদাররা পুলিশের কাছ থেকে সহজেই তাদেরকে মুক্ত করে। ফলে অপতিরোধ্য অপরাধ সংঘটিত ঘটনায় আতংকিত সাধারণ মানুষের চলাচল।

সুত্রে প্রকাশ, যশোরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ছত্র ছায়ায়। তাদের মধ্যে অনেকে সাংগঠনিক কর্মকান্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত এ কারণে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান জোরদার করা হলেও এসব সন্ত্রাসী থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আর এরা গোটা শহরজুড়ে তাদের অপরাধ সংঘটিত করে চলেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে দখলদারীত্বের মত অপ্রতীকর ঘটনা ছাড়াও এদের হাত থেকে রেহায় পায়নি তরুন তরুনী সহ সাধারণ মানুষ। এদের সাথে যশোর কোতয়ালী থানার ওসিসহ কতিপয় দারোগার সখ্যতা থাকায় পুলিশের পরোক্ষ সহযোগিতায় চোর সিন্ডিকেটের  গড়ে  উঠেছে।   যশোর শহরের পুরাতন বাস টার্মিণাল,মণিহার চত্বর বারান্দী পাড়া, মোল¬াপাড়া, আর এন রোড, নীলগঞ্জ, ঝুমঝুমপুর ফতেপুর বকচরসহ অত্র অঞ্চল জুড়ে তাদের আধিপত্য। প্রতিদিন তারা অত্র এলাকায় ছিনতাই চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। গ্রাম-গজ্ঞ থেকে আসা সাধারণ মানুষ শহরে এসে এচক্রের হাতে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। এরা শিকার ধরার জন্যে মণিহার সিনেমা হলের আসে পাশে ওৎ পেতে থাকে । যশোরের গুরুত্পূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকেও সন্ত্রসীচক্র মোবাইল নগদ টাকাসহ মুল্যবাণ মালামাল ছিনতাই করে যাচ্ছে হর হামেশ। এদের কর্মকান্ড দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার নেই পুলিশের। ফলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার নাপেয়ে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেবার পরিকল্পনা করছে। অত্র অঞ্চলের অধিকাংশ ব্যবসায়ী  চোর সেচ্ছর থেকে শুরু করে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মী । এসকল অপরাধীচক্রের হাতে এলাকার মানুষ জিম্মী হয়ে পড়লেও কেউ মুখ খুলতে সাহষ পায়না। কোন ব্যাক্তি জমি ক্রয বা জমিতে ঘর করতে গেলেও মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনীকে। রাস্তায় গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রেও তাদের কাছ থেকে চাঁদার বিনিময়ে রুট পারমিট নিতে হয়েছে। কোন ব্যবসায়ীকে ব্যাবসা করতে হলে বাহিনীর অনুমতি নিতে হয়েছে। এক কথায় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন হয় অধিকাংশ মানুষ।

আশাশুনিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সমন্বয় কমিটি গঠন

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনিতে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর, নির্ভুল ও সুচারুরূপে সম্পাদনের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন, উপদেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, আহবায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাচন অফিসার, সদস্য সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইমরান আহমেদ, উপজেলা কৃষি অফিসার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, শিক্ষা অফিসার, পরিসংখ্যান অফিসার, সমবায় অফিসার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পিআইও, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা, সকল ইউপি চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার, প্রেস ক্লাবের সভাপতি, মনিরুজ্জামান ও প্রধান শিক্ষক জুলহাজ উদ্দিন।

 

আজকের পঞ্জিকা

আজ ২৮ জুলাই, ১৩ শ্রাবণ, ০৮ রমজান, শনিবার সূর্যোদয় ৫ঃ৩৮ মিঃ গতে, সূর্যাস্ত ৬ঃ৪৮ মিঃ গতে। দশমী রাত্রি ৭ঃ৩৪ মিঃ পর্যন্ত তারপর একদশী আরম্ভ এবং তা রোববার দিবা ৫ঃ০৮ মিঃ পর্যন্ত তারপর দ্বাদশী আরম্ভ। জন্মে-বৃশ্চিকরাশি বিপ্রবর্ণ দেবারিগণ প্রাতঃ ৬ঃ১১ মিঃ গতে দেবগণ, রাত্রি ৪ঃ৩০ গতে দেবারিগণ। যোগিনী-উত্তরে রাত্রি ৭ঃ৩৪ মিঃ গতে অগ্নিকোনে। রাত্রি ৭ঃ৩৪ মিঃ গতে ইন্দ্রাদিদেববিহিত শ্রীকৃষ্ণস্য ঝুলনযাত্রারম্ভ।

কালিগঞ্জে বাবুরাবাদে শহীদ জায়েদার ১৫ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

কালিগঞ্জ দেবহাটা উপজেলা ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে গতকাল শুক্রবার বিকালে জায়েদা নগর বাবুর আবাদ শহীদ জাহেদার ১৫তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ভূমিহীন উচ্ছেদ প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুল ওহাব আলী সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এ্যাডঃ আব্দুর রহিম, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতা দৈনিক কালের চিত্রের সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, জেলা ওয়ার্কাস পাটির সাধারণ সম্পাদক পি পি, এ্যাডঃ লুৎফুল¬াহ নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কালিগঞ্জ শাখার সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, কালিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, যুগ্ন সম্পাদক এম, হাফিজুর রহমান শিমুল, সাংবাদিক অসীম চক্রবর্তী, এ্যাডঃ জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, এ্যাডঃ মনির উদ্দীন, জেলা বাস্তহারা সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ, ভূমিহীন নেতা ওকালাত আলী, আবুল কাশেম, উত্তোরণের মিজানুর রহমান প্রমূখ।

ভূমিহীন নেতা এ্যাডঃ আব্দু রহিম বলেন, ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বাবুর আবাদে ভূমিহীন জায়গা ভূমিদস্যুরা রেকর্ড করার পাইতারা চালাচ্ছে। তিনি ভূমিহীনদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে থেকে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিহত করার আহবান জানান। সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির বিষয়ে স্বজাগ থাকতে বলেন। ভূমিহীন সভাপতি অহাব আলী সরদার বলেন জাহেদাকে নিয়ে একটা গ্র“প রাজনীতি শুরু করেছে। ভূমিদস্যুরা শহীদ জায়েদার কবরস্থান, খেলার মাঠ রেকর্ড করে নিয়েছে। সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের স্বরজমিনে তদন্ত পূর্বক রেকর্ড বাতিলের আহবান জানান। তিনি আরো বলেন আমার উপরে মিথ্যা মামলা ও হামলা হতে পারে এজন্য  ভূমিহীনদের স্বাথ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনে আন্দোলন করবো রক্ত দেব পিছে হাটবো না। জাহেদার মৃত্যু বার্ষিকীতে সকলে শপথ নিতে হবে। এর আগে সকালে ভূমিহীন দের পক্ষে শহীদ জাহেদার কবরস্থানে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়। পরে কুরআনখানি এবং সকলের মাঝে ইফতার ও খাদ্য সামগী বিতরণ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আবু বক্কার সিদ্দীক।

 

সংস্কারের অভাবে খুলনাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়

এ কামাল, খুলনা : বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে মহাজোটের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় সাড়ে চার বছর অতিবাহিত হলেও সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় খুলনা মহানগর, জেলার ১৪টি উপজেলাসহ বিভাগের অধিকাংশ জেলার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বড় সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তার পরেও ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। প্রায় ৪ বছর ধরে এ সব রাস্তা সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না করায় শহরের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমানে খুলনা মহনগরের খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে গল¬¬ামারী জনবহুল সড়কটি একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।  এছাড়া খুলনা কয়রা সড়কের বেহাল দশা, বিশেষ করে আঠার মাইল থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত রাস্তায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা মানুষও চলতে পারে না। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি মেরামত করা হচ্ছে না। সরেজমিন দেখা গেছে, খুলনা মহানগর বাদে জেলার ৯টি থানার প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ জনপদের এসব রাস্তার বেশিরভাগ চলাচলের অযোগ্য। খুলনা থেকে বাগেরহাট বা মোংলা সড়কে বর্ষা মৌসুমে কাজ শুরু করায় খোড়া গর্তে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড় খুলনার তেরখাদা থেকে নড়াইল সড়কের একই অবস্থা। বছরের পর বছর রাস্তাগুলো সংস্কার হচ্ছে না। এসব রাস্তা দিয়ে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলার প্রায় ৩০টি উপজেলার মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। খুলনা বিভাগীয় শহর হওয়ায় সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় অসংখ্য লোক চরম দুর্ভোগের মধ্যেদিয়ে যাতয়াত করছে। খুলনা থেকে বটিয়াঘাট হয়ে চালনা রাস্তাটিওে একই অবস্থা। খুলনা জেলখানা ঘাট থেকে তেরখাদা রাস্তার অবস্থা বড়ই করুণ, বড় বড় গর্তে পানি জমে একেবারে অকেজো হয়ে পড়েছে। খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার কপিলমুনি বাজার থেকে হরিঢালী হয়ে বালিয়া খেয়াগাটের রাস্তা, পাইকগাছা থেকে শাহাপাড়ার রাস্তা, কৈয়া বাজার থেকে রায়ের মহলের রাস্তাসহ জেলার অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা একই। সংকারের অভাবে আস্তে আস্তে এসব রাস্তা থেকে পিচ খোঁয়া উঠে যাচ্ছে। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এসব রাস্তায় যানবাহন চলাচল করেছ। খুলনা এলজিইডি জানিয়েছে, রাস্তার গুরুত্ব বুঝে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়ে থাকে। গ্রামের কিছু রাস্তা আছে যেগুলো রাজনৈতিক কারণে তৈরি হবে। কিন্তু মেরামত হবে না। এ সব রাস্তা মেরামতের কোনো ফান্ড আসে না। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে খুলনা জেলার অনেক রাস্তা নির্মিত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার এর উপর ফান্ড না হলে আমরা কি করবো ।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফান্ড থাকুক বা না থাকুক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রায় সময় মেরামত করা হয়। তবে গ্রামের কিছু রাস্তা মেরামতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফান্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ বিষয়ে আসনের-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সোরব আলী সানার বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা মেরামতের জন্য জরুরি ভিক্তিতে অর্থ বরাদ্দের জন্য তিনি সংশি¬¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে চেষ্টা করছেন। পাইকগাছার কিছু কিছু এলাকার রাস্তার সংস্কার করার কাজ চলছে, তবে অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে এ এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা খুব ভয়াবহ। এর মূল কারণ কপোতাক্ষ নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে জলবিদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অধিকাংশ রাস্তা রাস্তার নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কেসিসি মেয়র বলেন, সোনাডাঙ্গা থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তায় সংস্কার কিছুটা করেছি, অতিবৃষ্টির কারণে রাস্তা সংস্কারে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে এ সমস্য অচিরেই দূর হবে।

 

কলারোয়ায় ভারতীয় থ্রি-পিচ ও ওষুধ উদ্ধার

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় পুলিশের অভিযানে ভারতীয় থ্রিপিচ ও ব্যাথানাশক ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গতকাল শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে কলারোয়া সরকারি কলেজ মোড়ে ভারত থেকে আসা ১৯২ পিচ থ্রি-পিচ ও ২০ হাজার পিচ ব্যাথানাশক ট্যাবলেট ডাইক্লোফেন এম উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে চোলাচালানীরা তাদের বহনকৃত পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা। কলারোয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আশশুনিতে আমন ধান উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ

 

গত বৃহস্পতিবার আশাশুনিতে ৩০ জন কৃষক ও কৃষাণীকে উন্নত প্রযুক্তিতে আমন ধান উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এতে আশশুনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা  কেন্দ্রের এডিও দেবব্রত এবং আব্দুর রাজ্জাক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব  পালন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি