শ্যামনগরে পাউবো’র মামলায় আসামি ৩৩২: গ্রেপ্তার ১?


প্রকাশিত : জুলাই ২৯, ২০১২ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি : পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়ের করা মামলায় আসামি ৩৩২ জন। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় শ্যামনগরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের প্রশ্ন পাউবো’র বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে তিন শতাধিক ব্যক্তির নামে। কিন্তু একজনকে আটক করেই পুলিশ ক্ষ্যান্ত কেন?

গতকাল বিকালে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়া শেখ আফজালের স্ত্রী আক্ষেপ করা জানান, গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেখ আফজাল উপজেলা চিংড়ি চাষী কল্যাণ সমিতির নেতৃত্ব পর্যায়ে কোথাও না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে আটক করে। অর্থচ অন্যরা দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের ভূমিকা নির্বিকার।

তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী মারাত্মক অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে তারাবীর নামায শেষে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মিসেস আফজাল অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রেসক্লাবের বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে তার প্রতিপক্ষ গ্র“পের ষড়যন্ত্রে প্রভাবশালী মহলের ইঙ্গিতে শেখ আফজালকে পাউবোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে রাত দশটার দিকে প্রথমে থানায় নিয়ে যেয়ে চিংড়ি চাষী কল্যাণ সমিতির সেদিন সকালে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সরকার বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে যখন পরিস্কার হয় যে শেখ আফজাল সেদিনের মানববন্ধন কর্মসূচিতে কোন বক্তব্য দেয়নি এবং সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং দু’বারের এমপি একে ফজলুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ সরকার দলীয় অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন তখন তাকে পাউবো’র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গতকাল সরেজমিনে ভেটখালী সোরা গ্রামে যেয়ে দেখা যায় শেখ আফজালের চিংড়িঘেরে পানি উঠানোর যে কল ব্যবহার হচ্ছে তা প্রায় পনের বছর পুরানো। তাছাড়া তার ঘেরে পানি প্রবেশ পথের সামনে নদীর অংশে প্রায় পাঁচশ গজ চর রয়েছে। সেখানে ভাঙনের কোন সম্ভাবনাও নেই। যেখানে রয়েছে ঘন বনভূমি।

অথচ আশপাশের আরও অনেকের চিংড়িঘেরের গেট সংলগ্ন বাঁধ চরম ভাঙন মুখে থাকলেও সেসব ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে পাউবো অজ্ঞাত কারণে মামলা তো দেয় নি, আবার যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নির্বিকার।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বিভাজনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে তাকে হয়রারি করার চক্রান্ত করছিল। শেষমেষ চিংড়ি চাষীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনকে কাজে লাগিয়ে শত্র“পক্ষ উপর মহল থেকে নির্দেশ দিয়ে তাকে আটক করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানিয়েছে, পাউবো’র বাঁধ কাটার মামলায় সাড়ে তিন শতাধিক আসামির অধিকাংশ প্রতিদিন শ্যামনগর সদর এবং অফিস আদালতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কারও কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।