কলারোয়ায় বিজিবি’র উপর ফের চোরাকারবারীদের হামলা, আটককৃত পণ্য ছিনতাই


প্রকাশিত : জুলাই ২৯, ২০১২ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে আটককৃত ৫০০ কেজি ভারতীয় জিরা ও এলাচ ছিনতাই করে নিয়ে গেছে চোরাকারবারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ সময় বিজিবি সদস্যরা এক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কলরোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কর্তব্য অবহেলার অভিযোগে ঝাউডঙ্গা বিজিবি ক্যম্পের নায়েক সুবেদার ও হাবিলদারসহ চার জনকে গতকাল ব্যাটালিয়ন সদরে ক্লোজ করা হয়।

গ্রামবাসী জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩০-৩৫ জন চোরাকারবারী বিপুল পরিমান জিরা ও এলাচ ভারত থেকে অবৈধ পথে নিয়ে আসে। ওই জিরা ও এলাচ তিনটি নছিমনে করে কলারোয়া বাজারে নিয়ে আসছিল চোরাকারবারীরা। পথিমধ্যে লাঙ্গলজাড়া গ্রামের মাদ্রাসার সামনে থেকে ঝাউডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার বাবূল মিয়ার নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দুটি নছিমন ভর্তি জিরা ও এলাচ আটক করে। আটককৃত পণ্য নিয়ে বিজিবি সদস্যরা ক্যাম্পে আসার প্রস্ততি নিলে চোরাকাবারীরা এক হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে একটি নছিমন থেকে প্রায় ৫০০ কেজি জিরা ও এলাচ ছিনতাই করে নেয়। এ ঘটনার কিছু সময়  পর অপর নছিমন ভর্তি জিরা ও এলাচ চোরাকারবারীরা ছিনতাই করার চেষ্টা চালালে বিজিবি সদস্যরা এক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। খবর পেয়ে মাদরা বিজিবি ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়।

ঝাউডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার সিরাজুল গনী জানান, এ ঘটনায় চোরাকারবারী মহিউদ্দীন গাজি, বরকত আলী, আব্দুল  মালেক ও বাছতুল্লার নাম উল্লেখ করে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছ্।ে এছাড়া চার জন বিজিবি সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবু বাছির ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সময় বিজিবি সদস্যরা এক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। তবে গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে সম্প্রতি সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ছয় মাসে কমপক্ষে ৭ বার চোরাকারবারীরা বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে ছিনতাই করে নিয়ে গেছে আটক ভারতীয় পণ্য। এরমধ্যে ৬টি ঘটনাই ঘটেছে কলারোয়া উপজেলায়। এসব হামলার ঘটনায় জড়িত চোরকারবারীদের নাম উল্লেখ করে বিজিবি’র পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। কিন্ত  কলরোয়া থানা পুলিশ হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে। মামলার অগ্রগতি নেই বললেই চলে। গ্রেপ্তার করা হয় না হামলার সাথে জড়িতদের। এতে বিজিবি’র উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।