তরুণীর সঙ্গে জব্বার এমপির আপত্তিকর ছবি! মামলা: গ্রেফতার চার

ন্যাশনাল ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির এমপি এমএ জব্বারকে ব্ল্যাকমেইল করেছে একটি চক্র। ওই চক্রের এক তরুণীর সঙ্গে জব্বারের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় আরও দুই তরুণী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপর চক্রটি এমপির নগ্ন ছবি জনসমক্ষে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক দফায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি জব্বারের সঙ্গে এমন ঘটনায় শনিবার রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন গতকাল এখবর দিয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত চার ব্যক্তিকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার বরাত দিয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৬ মে ছয়জনের একটি চক্র গুলশান-১-এ ১৩৫নং সড়কে জব্বার টাওয়ারের চতুর্থ তলায় প্রবেশ করে। ওই দলে ছিলেন সোহরাব হোসেন, মেহেরুন্নেসা, শাহনাজ জামান জুঁই, রাসেল, কোহিনূর আক্তার বৃষ্টি ও আসাদুজ্জামান। তারা পরিকল্পিতভাবে ২০ বছরের সুন্দরী বৃষ্টিকে এমপির কক্ষে প্রবেশ করিয়ে দেন। এরপর ওই চক্রের সদস্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বৃষ্টির সঙ্গে এমপিকে আপত্তিকর ছবি তুলতে বাধ্য করেন। পরে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে এমপির কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। ওইদিনই তারা ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর তারা পালিয়ে যান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ওই চক্রের সদস্যরা এমপির কাছ থেকে ফের ২ কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়া না হলে বৃষ্টির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি প্রকাশের ভয় দেখানো হয়। এরপর এমপি জব্বার বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। টেলিফোনে শনিবার রাতে এমপি জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকার একটি পত্রিকাকে বলেন, আসামি গ্রেফতারের কথা শুনেছি। রোজা রেখে ইফতার ও রাতের খাবার খেয়ে আমি শুয়ে পড়েছি। রবিবার আপনাদের সব বলব। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, এমপি জব্বারকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ডিবি চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন সোহরাব হোসেন, মেহেরুন্নেসা, শাহনাজ জামান জুঁই ও বৃষ্টি। তবে এ ঘটনায় জড়িত আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ঘটনার দিন চক্রটি গুলশান-১-এ জব্বার টাওয়ারে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সুন্দরী নারীর সঙ্গে এমপি জব্বারের নগ্ন ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে। পরে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে এমপি এমএ জব্বার বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-৩৬। গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।

জেলায় আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, কাজে আসে নি কৃষি সহায়তা

ইয়ারব হোসেন : জেলায় আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। কাগজে কলমে যে পরিমান জমিতে আউশ ধান চাষ দেখানো হয়েছে তার বাস্তবের কোন মিল নেই।

এতে জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে বিতরণকৃত ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪০ টাকা মূল্যের আউশ চাষ সহায়ক কৃষি উপকরণ কাজে আসে নি বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, সার বীজ পাওয়ার পরও আউশ চাষ করেনি অনেক কৃষক।

জেলা খামারবাড়ি সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় ১১ হাজার ৯শ’৭৩ হেক্টর জমিতে চলতি বছরে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে আউশ ধান চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৪শ’৪০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬শ’ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ৩১০হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৪১০ হেক্টর, তালা উপজেলায় ১ হাজার ৫১০ হেক্টর, কালিগঞ্জ উজেলায় ৬২০ হেক্টর, শ্যামনগর উপজেলায় ১২০ হেক্টর ও আশাশুনি উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ যে পরিমান কাগজে কলমে আউশ ধান চাষ দেখিয়েছে, ওই পরিমান জমিতে আউশ ধান চাষ করে নি র্কষকেরা। সরজমিনে কলরোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখাগেছে, সব মিলিয়ে ১৫০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হয়নি। সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা, বল্লী, বাঁশদা, লাবসা ইউনিয়নে কৃষকরা আউশ ধান চাষ করেনি বললেই চলে।

সূত্র জানায়, আউশ উৎপাদনে উৎসাহী করতে জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪০ টাকা মূল্যের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছিল। জেলার সাতটি উপজেলার ৪ হাজার ৪৪০টি পরিবারের মধ্যে কৃষি উপকরণ হিসেবে এ সার বীজ বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ১৮০ জন কৃষকের মধ্যে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৮০ টাকা, কলারোয়া উপজেলায় ১ হাজার ১৮০ জন কৃষকের মধ্যে ১১ লাখ ৪ হাজার ৪৮০ টাকা, তালা উপজেলায় ৮২০ জন কৃষকের মধ্যে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫২০ টাকা, দেবহাটা উপজেলায় ২৭০ জন কৃষকের মধ্যে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭২০ টাকা, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৭০০ জন কৃষকের মধ্যে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা, আশাশুনি উপজেলায় ৮৫ জন কৃষকের মধ্যে ৭৯ হাজার টাকা ও শ্যামনগর উপজেলায় ১০৫ জন কৃষকের মধ্যে ৯৮ হাজার টাকার কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

ঁেখাজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি বিভাগ থেকে সহয়তা পাওয়ার পরও আউশ ধান চাষ করেনি জেলার অধিকাংশ কৃষক।

সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের তুজলপুর গ্রামের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, তিনি কৃষি বিভাগ থেকে সার বীজ সহয়তা পেয়েছেন। কিন্ত তিনি কোন ধান চাষ করেন নি। তিনি জানান, সময় মত বৃষ্টি না হওয়ায় আউশ ধান চাষ করেনি। জমিতে চাষ, ধান রোয়া, আগাছা পরিস্কার, কাটা , বাধাসহ ধান চাষ করে তাদের খরচ উঠছে না। এ ছাড়া বাজারে ধানের দাম নেই। ধান চাষ করে তারা লোকসানে পড়ছে। এতে করে তারা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তার মত এলাকায় আনেক কৃষক ধান চাষ করেনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সোলাইমান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। কৃষি বিভাগ সঠিকভাবে ধান চাষের হিসাব দিয়েছে। সহায়তা পেয়ে কোন কৃষক ধান চাষ না করলে তাদের কিছু করার নেই। তবে আগামীতে বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে।

 

 

অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা পরিবেশে রেড ক্রিসেন্টের নির্বাচন সম্পন্ন:ভোট গণনা চলছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সাতক্ষীরা ইউনিটের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে অসংখ্য ভোটার ভোট দিতে পারেননি।আবার কোন রকম যাচাই বাছাই ছাড়াই যে যার মত ভোট দিয়েছে। এরফলে ভূয়া ভোটও পড়েছে ব্যাপক হারে। গণনায়ও অত্যন্তধীর গতির কারণে রাত ১২টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পদের ফলাফল চুড়ান্ত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। যদিও ১৮৭৪টি ভোটের মধ্যে ১৪৭৯টি ভোট কাষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। গতকাল বেলা ১১টা থেকে সাতক্ষীরা শিল্প কলা একাডেমিতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং বিকাল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। অসংখ্য ভোটার ভোট না দিয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

 

দেবহাটা সীমান্ত উন্মুক্ত!

পত্রদূত রিপোর্ট : দেবহাটায় ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী দিয়ে দেদারছে দেশে প্রবেশ করছে ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, গাঁজা ও বিড়ি তৈরীর পাতা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, ভাইরাসযুক্ত মাছের রেনু ও ডিম, অনুন্নত পোল্ট্রি’র বাচ্চা, গার্মেন্ট্স সামগ্রী, মেশিনারিজ পার্টস। একই পথে ভারতে পাচার হচ্ছে কাঁষা-পিতল, বিভিন্ন মূল্যবান ঔষধ, সাবান-ডিটারজেন্ট, ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ। শুধু তাই নয় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাজের মিথ্যা প্রলোভনে প্রতিনিয়ত পাঁচার হচ্ছে নারী ও শিশু। এদিকে বর্তমানে উপজেলার চোরাঘাট সমূহ উন্মুক্ত থাকলেও প্রশাসনের চোখে না পড়ায় রাম রাজত্ব কায়েম করতে মাঠে নেমেছে চোরা ঘাটমালিক ও চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের গডফাদাররা, পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশাসনের নাম করে চাঁদা আদায়কারী দালাল চক্র। আর চোরাই পথে দেশে আসা এসব মাদকদ্রব্্য, মেশিনারি পার্টস, গার্মেন্টস সামগ্রী ভাইরাসযুক্ত মাছের রেনু, অনুন্নত পোল্ট্রি’র বাচ্চা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেবহাটা বসন্তপুর স্লুইস গেট সংলঘœ চোরাঘাট স্থানীয় ওয়াজেদ আলীর পুত্র আরমান পরিচালনা করছে, শিবনগর ঘাট চালাচ্ছে ভন্টু, ভারতীয় টাকী পৌরসভার সামনে বাংলাদেশি সীমানা চরশ্রীপুর এলাকায় চোরাকারবারী বজলু, শফিকুল ও মহাসিন চোরাঘাট চালিয়ে আসছে। পাশ্ববর্তী টাউনশ্রীপুর এলাকায় জালাল ওরফে বড় খোকন তার সহযোগী মৃত আতিয়ারের পুত্র শহিদ, পিয়ার আলীর পুত্র ইসলাম ও কবি তাবারকের পুত্র সাঈদ উন্মুক্তভাবে চোরাঘাট চলিয়ে দেদারছে মাদকদ্রব্য আমদানি করে আসছে। এছাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ভাতশালা এলাকায় বিজিবি ক্যাম্প থেকে মাত্র ২শ গজ দূরেই পারুলিয়ার আতি সরদারের পুত্র রবি ও হোসেনের নের্তৃত্বে স্থানীয় গোলাম, সালাম জালাল, নুর্,ো খোকন, মাওলা চোরা ঘাট চালাচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভারত থেকে গরু আনার জন্য ভারতীয় রাখাল ব্যবহারের কথা থাকলেও ভাতশালার গরু ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম গরু আনার জন্য প্রতিদিন শত শত লোককে চোরাঘাট দিয়ে নদী পার করে ভারতে পাঠিয়ে এবং সেখান থেকে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য দেশে নিয়ে এসে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। এ ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত থেকে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে চোরাঘাট মালিক ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করে বিজিবি কে ম্যানেজ করছে প্রাক্তন ইউপি সদস্য হাবুলের পুত্র কান্ত। শাঁখরা কোমরপুর নিমতলা নামক স্থানে একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের তালিকাভুক্ত চোরাকারবারী মনি ও শফিক চোরা ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতে পাঁচার করছে নারী ও শিশু আর ভারত থেকে দেশে নিয়ে আসছে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আর এসব মাদকদ্রব্যের করাল গ্রাসে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এলাকার যুব সমাজ। এসব চোরাঘাট উন্মুক্ত থাকায় প্রতিনিয়ত দেশ থেকে পাঁচার হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সম্পদ আর তার পরিবর্তে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ  করছে বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য, ভাইরাস যুক্ত নিম্নমানের মাছের রেনু ও ডিম, অনুন্নত জাতের পোল্ট্রি’র বাচ্চা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। উপজেলার সীমান্তবর্তী এসব চোরাঘাট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করছে এসব ঘাটমালিক ও ব্যবসায়ীরা। দেবহ্টাা জুড়ে চোরাচালান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির গত সভায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বর্তমানে চোরা চালানীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ভাঁতশালা থেকে পাঁচপোতা হয়ে ধোপাডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ভারী যানবহন, ইঞ্জিন ভ্যান ও মোটর সাইকেল যোগে পাঁচার হয় চোরাইপথে আসা মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য দ্রব্য। এ ব্যাপারে দেবহাটা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আবুল কালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমান্ত চোরাঘাট উন্মুক্ত নয়। চোরাই পথে মালামাল আসতে পারে, আমরা আটকও করছি তো।

 

বিশ্ব বাঘ দিবস উদযাপন

শ্যামনগর প্রতিনিধি : ‘বাঘের আবাসস্থান সুন্দরবন বাঁচান’ এ স্লোগানে গতকাল শ্যামনগরে বিশ্ব বাঘ দিবস উদযাদন করা হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বেলা দশটায় জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ, বনজীবী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি র‌্যালী বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়। র‌্যালী শেষে মুন্সিগঞ্জের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বাঘ দিবসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৌলতুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তৌফিকুল ইসলাম, উপ-বন সংরক্ষক মারুফা সিদ্দিক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পি রানী মৃধ্যা।

প্রধান অতিথি বলেন, জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ না থাকলে সুন্দরবন বাঁচত না। বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহব্বান জানান।

এসময় অন্যান্যেনর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঘ দিবসের সাথে একাত্মতা প্রকাশকারী সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম, জোয়ার, লিডার্স, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল, সুদীপ্তি, আইপ্যাক, সুন্দরবন যৌথ ব্যবস্থাপনা কমিটি, সুশীলন, ডব্লিউটিপি, ভিলেজ টাইগার টিম ও উপজেলা প্রশাসন।

 

তালায় এলজিএসপি প্রকল্পে হরিলুট

ডেস্ক রিপোর্ট : তালা উপজেলায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থানীয় সরকার সাপোর্ট প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্রে ঠিকঠাক করা হলেও বাস্তবে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলেও অনেক প্রকল্পের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। অনেক প্রকল্পে দেখানো হয়েছে, এনজিও বা অন্যকোন প্রতিষ্ঠানের কাজ। অনেক স্থানে কাজ না করে ইউনিয়ন সচিবদের সঙ্গে আতাতের মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়েছে প্রকল্পের টাকা। আবার অনেক জায়গায় কাজ হলেও তা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার সাপোর্ট (এলজিএসপি) প্রকল্পে নামে মাত্র কাজ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এমনই চিত্র চোঁখে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প সভাপতিদের বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ২০ থেকে ৩০ ভাগ টাকা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা কেটে নেন। কি জন্য এই টাকা নেয়া হয়েছে? সে বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেছেন, নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যানদের অনেক খরচ হয়েছে। এভাবে ওই খরচের টাকা তুলতে হচ্ছে।

নিয়মানুযায়ী, স্থানীয় সরকার সাপোর্ট প্রকল্প (এলজিএসপি) মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের একটি (বিজিসিসি) কমিটি গঠন করতে হয়। যেখানে ইউপি চেয়ারম্যান, ব্যাংক একাউন্টে স্বাক্ষরকারী মহিলা ইউপি সদস্য, সিভিল সোসাইটির একজন সদস্য এবং সহকারি প্রকৌশলী হবেন সদস্য সচিব। আর এ প্রকল্পের টাকা খরচ করতে গেলে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা করে খরচ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

তবে এ প্রকল্প নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উপরিউক্ত কর্মকর্তারা বলেছেন ভিন্ন কথা। তাদের অফিসে এ ধরনের তথ্য নেই দাবি করে সংশ্লিষ্টরা জানান, নামে মাত্র বরাদ্দের একটি চিঠি পায়। এ প্রকল্পে কে তদারকি করবে তা আমাদের জানা নেই। তবে শুনেছি ইউপি চেয়ারম্যানদের একাউন্টে সরাসরি এই প্রকল্পের টাকা জমা হয়। তারাই এ প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, তাহলে রক্ষকই এখন ভক্ষক ?

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, এ প্রকল্পের টাকা সরাসরি ইউপি চেয়ারম্যানদের ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়। বরাদ্দ পাওয়ার আগে নামে মাত্র একটি বরাদ্দের চিটি পায়। তদারকি করার দায়িত্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের।

জানাগেছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২০১১-২১২ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৭১০ টাকা বরাদ্দ হয়। এতে হাতে নেওয়া হয় ১৪৫টি প্রকল্প। এরমধ্যে ধানদিয়া ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্পে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫৮৪, নগরঘাটা ইউনিয়নে ১৬টি প্রকল্পে ৯ লাখ ২ হাজার ২৪৯, সরুলিয়া ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্পে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৭, কুমিরা ইউনিয়নে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬০, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে ১৪টি প্রকল্পে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ১৪১, তালা সদর ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্পে ১২ লাখ ২০ হাজার ৬২৫, ইসলামকাটি ইউনিয়নে ১৪টি প্রকল্পে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮, মাগুরা ইউনিয়নে ১০টি প্রকল্পে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭০, খলিষখালী ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্পে ১২ লাখ ১৫ হাজার, খেশরা ইউনিয়নে ১০টি প্রকল্পে ১২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬৩, জালালপুর ইউনিয়নে ১৪টি প্রকল্পে ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৯ ও খলিলনর ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্পে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৫৮৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়া কথা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জালালপুর ইউনিয়নের ১১নং প্রকল্পে দোহার প্রভাত বিশ্বাসের বাড়ি হতে দোহার দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ অভিমুখে রাস্তায় ইটের সলিং নির্মাণে ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যার প্রকল্প সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। এ প্রকল্পে তিনি নামে মাত্র কাজ হয়েছে। আবার ঐ রাস্তায় গত বছরের পুরানো ইটও ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্য’র ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, এ প্রকল্পে নামে মাত্র কাজ করা হয়েছে। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানি হতে হয়। যে কারণে কেউ কথা বলতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এর সঙ্গে মুঠোফেনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কাজ করা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম হয়নি। তবে তিনিসহ তার লোকজন এ রিপোর্ট না করার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে তদ্বীর করেছেন।

এদিকে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ৭নং প্রকল্পে শিরাশুনি হাজী নওয়াব আলী মোড়লের বাড়ি হতে মলঙ্গীপাড়া অভিমুখে রাস্তায় ইটের সলিং নির্মাণে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে তেমন কোন কাজ করা হয়নি। এনিয়ে এলাকাবাসী নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি। এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ১৪৫টি প্রকল্পের অধিকাংশ প্রকল্পে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই।

ইাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইউপি সচিব জানান, চেয়ারম্যানরা বর্তমানে এটাই পুঁজি করে নিয়েছে। এসব প্রকল্পে তেমন কোন কাজ করা হয়নি। নামমাত্র কাজ করে সর্বস্ব হরিলুট করেছে। কারণ তারাই তদারকি কর্মকর্তা।

কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসব প্রকল্পে বরাদ্দ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের ২০ থেকে ৩০ ভাগ টাকা দেওয়া লেগেছে। না দিলে কাজ দেয় না। বরং নানা ধরনের হয়রানি করে।

উপজেলা প্রকৌশলী নারায়ন চন্দ্র সরকার জানান, এসব প্রকল্পে আমাদের ইস্টিমিট করে দেওয়ার কাজ। কাজ তদারকির বিষয় সম্পর্কে তিনি মুখ খুলতে নারাজ। উপজেলা সমবায় অফিসার নওশের আলীও একই কথা বলেন। আর স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যরা কথা না বলে চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোড়ল মিয়াজান আলী জানান, ইউনিয়নে অধিকাংশ কাজ করা হয়েছে। একটি প্রকল্পের কাজ বাকি রয়েছে। তবে পুরোপুরি কাজ করে ওঠা সম্ভব হয়নি।

জালালপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মফিদুল হক লিটু জানান, ইউনিয়নে নেওয়া প্রকল্প’র কাজ অধিকাংশ হয়ে গেছে। একটি প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। তবে পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব হয়নি।

 

খানপুরে অস্ত্র ফেনসিডিল ও এ্যাম্বুলেন্স উদ্ধারের ঘটনায় ৪টি মামলা দায়ের : গ্রেপ্তার ৩

এম জিললুর রহমান : শনিবার রাতে খানপুর গ্রামে পুলিশের সফল অভিযানের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্র গুলি বোমা ফেনসিডিল মোটর সাইকেল ও এ্যাম্বুলেন্স উদ্ধারের পর পৃথক পৃথক অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে ৪টি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ৭৪, ৭৫, ৭৬ ও ৭৭। এমামলায় আটক ৩জনসহ একাধিক আসামী রয়েছে। আটককৃতরা হলো যশোর জেলার অভয়নগর থানার ইকতিয়ারপুর গ্রামের আবু বক্কর সরদারের ছেলে হৃদয় সরদার, সদর উপজেলার ভোমরা গ্রামের শম্ভুপদ ঘোষের ছেলে পলাশ ঘোষ ও একই গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে শওকাত আলী।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম গতকাল রাতে দৈনিক পত্রদূত’কে জানান, ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(৭)৩/খ/২১/৩৩ দঃবিধির আওতায় এসআই শরিফ মিয়াজী বাদী হয়ে ধৃত ৩জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৭৪। অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারামতে আটক ৩জনকে আসামী করে এসআই শরিফ মিয়াজী বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৭৫। পাশাপাশি এসআই শরিফ মিয়াজী বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪(খ) ধারায় আরও একটি মামলা করেছেন নং ৭৬। সর্বশেষ এসআই সুরেশ চন্দ্র হালদার বাদী হয়ে ৭৪ ধারামতে অজ্ঞাত নামা এ্যাম্বুলেন্সের চালক ও মালিক পক্ষকে আসামী করে আর একটি মামলা দায়ের করেছেন মামলা নং ৭৭। গতকাল দিনভর জব্দকৃত আলামত সিজার লিষ্ট পূর্বক মামলা দায়ের করতে পুলিশের মধ্যে চরম ব্যস্ততা দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, গভীর রাতে খানপুর গ্রাম থেকে প্রথমে উঠতি সন্ত্রাসী হৃদয়কে আটক করা হয়। এসময় তার কাছে থাকা ইউএসএর একটি অত্যাধুনিক পিস্তল ও পিস্তলের ভিতরে থাকা ২ রাউণ্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে হৃদয়ের কাছ থেকে একটি হাত বোমা পায় পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করে রাতে থানায় আনার পর হৃদয়ের মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার ফোন করে ভোমরার শম্ভু ও শওকাত। বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে শম্ভু ও শওকাতকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, শওকাত মোটর সাইকেল চালক এবং শম্ভু হৃদয়ের বন্ধু। মাদক পাচারকে কেন্দ্র করে শম্ভুর সাথে হৃদয়ের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা অস্ত্রের ব্যবসা করা সিদ্ধান্ত নেয়। আলোচিত এ অভিযানে আটককৃত পিস্তলটি ভারত থেকে সম্ভুর সহযোগিতায় এনে হৃদয় যশোরে নিয়ে যাচ্ছিল। আর হৃদয় যাওয়ার সময় সম্ভু ও শওকাত তাকে প্রক্সি দিয়ে শহর পর্যন্ত তুলে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল। ঠিক সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হৃদয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার খবরটি তারা দুজনে না জেনেই বার বার হৃদয়ের ফোনে খোজ নিচ্ছিল। পরে পুলিশকে সন্দেহ হওয়ায় হৃদয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শম্ভু ও শওকাতকে গতকাল ভোরে গ্রেপ্তার করলে রহস্য খুব দ্রুত বেরিয়ে পড়ে। এচক্রের সাথে আরও কয়েকজন সদস্য রয়েছে। হৃদয় তাদের নাম পুলিশের কাছে জানালেও তদন্তের সার্থে পুলিশ নাম প্রকাশ করেনি।

এদিকে এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ফেনসিডিল নিয়ে আসার সময় বিধিবাম গাড়িটি খানপুর পশ্চিম পাড়ার একটি পুকুরে পড়ে যায়। চালকসহ অন্যরা পালিয়ে গেলেও তাদের হাদিস করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে চালক ও মালিকের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবশ্য স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঘটনার সময় মালিক গাড়িতে ছিলোনা। তবে কতটা ফেনসিডিল ছিল তা নিশ্চিত করা যাইনি। তবে পুলিশের ধারণা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বেশ কয়েকটি এ্যাম্বুলেন্স রুগী বহনের অন্তরালে ফেনসিডিল বহন করে আসছে। কিছুদিন আগে খুলনার মিশু ক্লিনিকের এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে পুলিশ ফেনসিডিল পায়। সে ব্যাপারে মামলা হলেও তা চলমান রয়েছে। বর্তমানে শহরের আরও কয়েকটি এ্যাম্বুলেন্সের দিকে টার্গেট করেছে পুলিশ। এদিকে গতকাল দুপুরে ভোমরা আটক দুই জনের স্বজনরা জানিয়েছে তারা এঘটনায় জড়িত না পরিকল্পিত ভাবে তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।

 

 

 

বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে পাইকগাছায় আলোচনা সভা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে সুন্দরবন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বনবিবি’র উদ্যোগে গতকাল বিকাল ৪টায় পাইকগাছা বাতিখালী মন্দির প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তৃতা করেন পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আব্দুস সাত্তার, এ্য্ডা. অজিত কুমার মন্ডল, রাড়–লী সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের সভাপতি পঞ্চানন সানা, সাংবাদিক প্রমথ সানা, এ্যাড. সুকল্যাণ সানা, এ্যাড. উত্তম কুমার সানা, কবি মুনছুর হাসান, পরিতোষ রায়, শিমুল আহম্মেদ প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তরা সুন্দরবনের বাঘ বাঁচাতে সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য বাঘ শিকারীদের কঠিন সাজা ও উপকূলীয় এলাকার সুন্দরবনের উ্পর নির্ভরশীল পেশাজীবী মানুষদের সুন্দরবন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

পত্রদূত পবিরারকে কলেজ সাংবাদিক ইউনিয়নের ফুলেল শুভেচ্ছা

গতকাল সন্ধ্যায় কলেজ সাংবাদিক ইউনিয়নের নব নিবার্চিত নেতৃবৃন্দ দৈনিক পত্রদূত’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সাকিবুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আসাদজ্জামান, আব্দুর রহমান, শেখ আসিফ মাহমুদ মমিন, নাহিদ হাসান ও পিকু বরকতউল্লাহ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

শ্যামনগরে বাঘ দিবসের অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের সম্পদ ধ্বংসকারীদের চিঠি দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রমজাননগর/কৈখালী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : গতকাল ছিল বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটি পালনের জন্য পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ’র পক্ষ থেকে র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সুন্দরবন এবং বাঘের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য উক্ত র‌্যালীতে বনবিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অভিযোগ উঠেছে, কৈখালী স্টেশনের অফিসার মোঃ আলাউদ্দীন স্থানীয় গণ্যমান্য বা বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে এমন কিছু মানুষকে আমন্ত্রণ পত্র দেন যারা বিভিন্ন সময় সুন্দরবনের সম্পদ ধ্বংসের সাথে জড়িত ছিল এবং এখনো রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রমজাননগর ও কৈখালী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এসব অভিযোগকারীরা জানান, যারা বনকে ধ্বংস করছে তারাই আবার আমন্ত্রণ কার্ড পাচ্ছে। এ যেন এক মিরাকেল দেশ। এ বিষয়ে কৈখালী স্টেশন অফিসারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

শ্যামনগরে শ্রমিক দলের কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ চরমে

শ্যামনগর প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলার শ্রমিক দলের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অসাংগঠনিক নানান সিদ্ধান্তে নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দারুণ হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে।

অসাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে বিএনপি’র নীতি ও আদর্শের সাথে সমন্বয় করে সংগঠন পরিচালনার বিষয়ে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সুবিবেচনা প্রসূত কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলা শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে শ্রমিক দলের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আর সাংগঠনিক কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নেতৃস্থানীয়রা তাদের মনোপুত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি ঘোষণা করছে।

অভিযোগ উঠেছে, জন্মের পর থেকে একটি বারের জন্যও বিএনপি’র মিছিল সমাবেশে অংশগ্রহণ করে নি বরং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টদের পর্যন্ত শ্রমিক দলের নেতৃত্বভার দেওয়া হচ্ছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে না যেয়ে বরং বংশীপুরে বসেই তারা মনোপুত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি ঘোষণা করছে।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কাছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ মৌখিক অভিযোগ করেছে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, গত শনিবার উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঐ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে রমজাননগর ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারির ছোট ভাইকে। ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সম্পাদক মনোনীত হওয়া আব্দুল হান্নানের আর এক ভাই ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি।

এ বিষয়ে রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শহীদুজ্জামান বলেন, গত প্রায় চার বছর ধরে যারা সরকার দলীয় লোকজন সেজে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল তারাই এখন সময়ের প্রবাহে বিএনপি’র রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে আগামীতেও চাঁদাবাজিসহ অত্যাচারী হিসেবে নিজেদের দাপট অব্যাহত রাখতে চাইছে।

রমজাননগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও তাঁতী দলের নেতৃবৃন্দ অনুরুপ বক্তব্য দিয়ে অবিলম্বে শ্রমিক দল পুনর্গঠন করার জন্য জেলা শ্রমিক দল নেতৃবৃন্দসহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

একই সাথে প্রকৃত শ্রমিকদের সমন্বয়ে উপজেলা শ্রমিকদলের কমিটি পুনর্গঠনেরও দাবি জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি এবং ইতিপূর্বে শ্রমিকদলের রাজনীতির সাথে জড়িতরা।

 

খুলনায় শিল্পী মিনা আবিদ শাহরিয়ার বাপীর প্রয়াণ দিবস পালন

‘আমি করি দেশের জন্য, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য’ সঙ্গীত জগতের রাজপুত্র নন্দিত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিনা আবিদ শাহরিয়ার বাপী দেশবোধে স্নাত। তাই সমুদ্র সৈকতে সলিল সমাধি ঘটলেও তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখছে। রবিবার সকালে তরুণ রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী আবিদের প্রথম প্রয়াণ বার্ষিকীর স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘দেশ বরেণ্য শিল্পী মিনা আবিদ শাহরিয়ার স্মৃতি পরিষদ খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশায় তাঁর সমাধি সৌধের পাশে এ সভার আয়োজন করে। এর আগে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে স্মৃতি পরিষদ, জেলা প্রশাসক, রবীন্দ্রসঙ্গিত সম্মিলন পরিষদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণশিল্পী সংস্থা সাতক্ষীরা, দৌলতপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, খুলনা জিলা স্কুল, সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুল, সৃজনী সাংস্কৃতিক সংস্থা, এ্যাডামসসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

স্মৃতি পরিষদের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট ময়ীনউদ-দীন আহম্মেদের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল হাকিম, প্রফেসর সাধন ঘোষ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গাজী শহীদুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল কাইয়ূম, আবিদের দাদা মিনা শামছুর রহমান, শিক্ষাবিদ মালেকা বেগম, নাসরিন খান লিপি প্রমুখ। স্মরণ সভায় খুলনার কৃতি সন্তান আবিদকে স্মরণীয় করে রাখতে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের নবনির্মিত মিলনায়তন ও একটি সড়ককে তাঁর নামে করার দাবি জানানো হয়। বিকালে স্থানীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সদর হাসপাতালে সনাক সাতক্ষীরা’র মতবিনিময়

‘চাই স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ স্লোগান নিয়ে গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সচেতন নাগরিক কমিটি সনাক সাতক্ষীরা সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদর হাসপাল কর্তৃপক্ষ ও সেবাগ্রহীতাদের সাথে মতবিনিময় করেছে। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপালে সেবার মান অনেক অংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রোগীদের ওয়েটিং টাইম কমাতে পারলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। সভায় মতবিনিময় করেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও সিভিল সার্জন ডা. এস জেড আতিক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এএসএম মারুফ হাসান, জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু মৃণাল কান্তি কুন্ডু, মেডিকেল অফিসার ডা. তওহীদুর রহমান, জুনিয়র কনসালটেন্ট প্যাথলজি ডা. দেলোয়ার হোসেন, সনাক স্বাস্থ্য উপ-কমিটির সভাপতি ডা. সুশান্ত ঘোষ, সনাক সভাপতি আব্দুল মান্নান, সনাক সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি, তৈয়ব হাসান, অলিউর রহমান ও মোমেনা খানম, প্যাথলজিস্ট ডা. আব্দুল গফুর, প্রধান সহকারি আমল চন্দ্র মন্ডল, ফারমাস্টি এসএম কামরুজ্জামান, ওয়ার্ড মান্টার মাহবুবর রহমান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাব রবিন্দ্র নাথ ঘোষ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিও আব্দুল হালিম, অফিস সহকারি আক্তারুজ্জামান, নার্সিং সুপারভাইজার রাশিদা খাতুন ও শাহিদা বানু প্রমুখ। সভায় টিআইবি কর্মকর্তা, ইয়েস সদস্য ও স্বজন সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সংসার যেমন রমনীর গুণে, সুন্দরবন তেমন বাঘের জন্য সুন্দর: কেসিসি মেয়র

খুলনা ব্যুরো : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, সংসার যেমন রমনীর গুণে সুন্দর, সুন্দরবন তেমন বাঘের জন্য সুন্দর। মেয়র গতকাল সকালে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।  সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সিটি মেয়র বলেন, আগামী প্রজন্ম এবং সুন্দরবন রক্ষার জন্য বাঘ রক্ষা করা জরুরী।  তিনি আরও বলেন, বাঘ রক্ষার জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষার জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সেরাজুল ইসলাম, বন সংরক্ষক মোঃ আকবর হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) আবুল কালাম আজাদ এবং পুলিশ সুপার তানভীর হায়দার চৌধুরী।  স্বাগত বক্তৃতা করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহির উদ্দিন আহমেদ। বাঘ দিবস ২০১২’র মূল প্রতিপাদ্য ‘বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন বাঁচান’  এর ওপর আলোচনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রে এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপি¬নের সহযোগী অধ্যাপক ওয়সিউল ইসলাম এবং সহকারি বন রক্ষক আবু নাসের মহসিন হোসেন।

আলোচনা সভায় জানান হয়, বাঘের আবাসস্থল উন্নত করা, জনগণকে সচেতন করা এবং বিশ্বব্যাপী আন্দোলন জোরদার করা, এ তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিতেই বিশ্ব বাঘ দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৩টি দেশে সাড়ে তিন হাজারের মতো বাঘ আছে বলে ধারণা করা হয়।  এরমধ্যে সুন্দরবনে আছে ৪৪০টি বাঘ।          আলোচনা সভার পূর্বে সিটি মেয়রের নেতৃত্বে সার্কিট হাউজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে।

কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা

নিয়াজ কওছার তুহিন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার বর্ধিত সভা গতকাল সকাল ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক সাংসদ মুনসুর আহম্মেদ। বর্ধিত সভায় কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আকবর হোসেন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তার সুচিকিৎসা, ইফতার মাহফিল উদ্যাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়। বক্তারা আকবর হোসেনের ব্যয়বহুল চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শেখ ইকবাল আলম বাবলু’র  সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুস সোবাহান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিগঞ্জ ইউনিটের কমাণ্ডার শেখ নাসির উদ্দীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল বারেক, উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক অধিবাস অধিকারী, রতনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল হোসেন খোকন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আনোয়ারুল কবির লিটু, মৌতলা ইউনিয়ন কৃষকলীগের আহবায়ক আকবর আলী প্রমুখ।