কলারোয়ায় দিন মজুরকে পিটিয়ে হত্যা করলো মাদক ব্যবসায়ীরা, অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

কলারোয়া প্রতিনিধি: মাদক ব্যবসায়ীরা এক দিন মজুরকে  পিটিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল রাত ৮টার দিকে কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কাকডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আব্দুল জলিল (৪০)। তিনি কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের আমজের আলীর ছেলে।

গ্রামবাসী জানায়, কাকডাঙ্গা গ্রামের তাহের, ছালামসহ কয়েক জন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে। একই গ্রামের আব্দুল জলিল তার ছেলের কাছে বাকিতে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করে তাহের ও ছালামকে। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় তারা তাকে মারধর করে ইট দিয়ে শরীর থেতলে দেয়। এ সময় গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার মো. আছাদুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পলিশ সুপার জয়দেব চক্রবর্তি পরির্দশন করেছেন। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচেছ।

এদিকে কলারোয়া থানা পুলিশ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। কলারোয়া-দমদম সড়কের একটি ইট ভাটা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবকের বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার পরণে ছিলো কালো রঙের প্যান্ট ও সবুজ-সাদা ফুল শার্ট। কলারোয়া-দমদম সড়কের বিএম নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন ইট ভাটা থেকে সন্ধ্যার পূর্বে  পুলিশ ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই যুবকের কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা পুলিশ জানতে পারেনি। কলারোয়া থানার এসআই সরোয়ার ও এসআই মহসীন লাশ উদ্ধারে সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, এটি আত্মহত্যা না অন্য কিছু, তা এখনো ধারণা করা যায়নি। পুলিশ লাশ মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। কলারোয়া থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান মোল্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

খুলনা-পাাইগাছা সড়কে ধানের চারা রোপন করেছে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী

তালা প্রতিনিধি : গতকাল খুলনা-পাইকগাছা সড়কের তালা উপজেলা সংলগ্ন মেলা বাজার নামক স্থানে ধানের চারা রোপন করে এলাকাবাসী তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। এতে ৪/৫ দিন আগে সড়কটিতে গাড়ী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও ঝুঁকি নিয়ে দু’একটা গাড়ি চলাচল করছে।

সূত্র আরো জানায়, দায়সারাবাবে সংস্কার কাজ করায় বছর না ঘুরতেই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে  সড়কটি মানুষের মনণ ফাঁদে পরিণত হওয়ার পর আর কোন সংস্কার কাজ হয়নি। একটু বর্ষা হলেই চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়! সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে তা আর চেনার উপায় থাকে না। তাছাড়া গর্তগুলোতে গাড়ি আটকে ঘন্টার পর ঘন্টা চলাচল বন্ধ থাকে।

সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে কয়রা থেকে যশোর, ঢাকা, খুলনাসহ উত্তরবঙ্গের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া চলতি বর্ষা মৌসুমে সংস্কার করা না হলে আঠার মাইল -পাইকগাছা সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আঠার মাইল থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত সড়কটির কাজের জন্য অর্থ বরদ্ধসহ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, কাজ শুরু না হওয়ায় এ জনপদের মানুষের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সেকারণে রাস্তায় ধানের গোছা রোপন করে স্থানীয় লোকজন তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেছে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, এ সড়ক সংস্কারের জন্য আমি সর্বদা চেষ্টা চালাচ্ছি। এমনকি  সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। সে সময় তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, যতদ্রুত সম্ভব এ সড়ক টি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে। এমনকি বর্তমান এ সড়কটি চলাচল উপযোগী করার জন্য উপজেলার জাতপুর নামক স্থানে কয়েক ট্রাকে করে ইট ফেলানো হয়েছে।

তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জনান, এ সড়ক সংস্কারের জন্য তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। সে নির্দ্দেশানুযায়ী আমি প্রায় ৮/৯ দিন যাবৎ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা, রবি ভাইস চেয়ারম্যান, নূরুল সেক্রেটারি নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক নৌ কমাণ্ডার মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও সেক্রেটারি পদে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে জোৎস্না আরা ৬৬৩ ভোট, মীর মোশারফ হোসেন মন্টু ৬১৮ ভোট, প্রভাষক শেখ শরিফুল ইসলাম ৬০৩ ভোট, ছাইফুল করিম সাবু ৫৯৩ ভোট এবং আব্দুস সেলিম ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্র জানায়, ৮৪৮ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম শওকত হোসেন পেয়েছেন ৫২৯ ভোট। এ পদে ৫৫টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়।

অন্যদিকে সেক্রেটারি পদে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল হক ৭৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ পেয়েছেন ৬১৮ ভোট। এ পদে ৬০টি ভোট নষ্ট বলে বিবেচিত হয়।

অপর দিকে নির্বাচনে নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক আবু আহমেদ ৪৯৫ ভোট, এমএম মজনু ১৬২ ভোট, কাজী আক্তার হোসেন ৫৩১ ভোট, জাহাঙ্গীর আলম ৩২৯ ভোট, আবু সাইদ ৪৪২ ভোট, আসাদুর জামান ৪০২ ভোট ও শেখ মোঃ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে মোট ৬০টি ব্যালট বাতিল হয়।

সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ গতকাল এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এসময় প্রার্থী ও প্রার্থীদের মনোনীত এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষে ভোট গ্রহণ ও গণনার সময় ২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

রোববার সকাল ১১টায় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও দুপুরে অবিরাম বৃষ্টির কারণে দূর দূরান্ত থেকে ভোটাররা আসতে বিলম্ব করায় ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ১৮৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৪৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ২০১২-১৪ মেয়াদের এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সেক্রেটারি পদে ২ জন এবং নির্বাহী সদস্য পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট গ্রহণ শেষে রোববার রাত ৮টায় শুরু হয় গণনা এবং তা শেষ হয় ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে।

 

‘তোমাগো ত্রাণ পাইয়ে সেহরীর চিন্তা দূর হুয়েছে’

সামিউল মনির, শ্যামনগর : “শুধু কেওড়ার পানি আর পান্তা ভাত খেয়ে রোযা থাকতিলাম, ইফতারী করতিলাম কেওড়া গোলা পানি আর চিড়েদে। আজকে তোমাগো ত্রাণ পাইয়ে কডা রোযার সেহরীর চিন্তা দূর হুয়েছে” বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে পঁচাত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধা তাহমীনা খাতুন।

নিঃসন্তান এবং অন্ধ তাহমীনার স্বামী আব্দুল হাকিম চলাচল করতে অক্ষম, তাই সে বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার কর্দমাক্ত রাস্তা ঠেলে এসেছিল বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে প্রদত্ত ত্রাণ সহায়তা নিতে। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডাক্তার দম্পতি ডা. এমএ আউয়াল এবং ডা. নাসরীন সুলতানার পক্ষে বিজিবি’র খুলনা সেক্টর কমাণ্ডার কর্নেল জিএসএম হামিদুর রহমান, ৩৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলামের হাত থেকে ত্রাণের প্যাকেট পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন বৃদ্ধা তাহমীনা। গতকাল বেলা এগারটায় গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা হাট শেডে ছয় শত পঞ্চাশটি পরিবারের মধ্যে ঐ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

খলিশাবুনিয়া গ্রামের শওকাত সানা বলেন, গেলো বছর রোযার ঈদি পর্যন্ত একটু সেমাই জোটেনি, এবার চাল, ডালির সাথে সেমাই আর চিনি পাইয়ে মনডা ভরে গেছে। পরিবারের ব্যাকডারে (সবাইকে) নিয়ে রোযাগুনো পার করার মত একটা ব্যবস্থা অনন্ত হলো।

একই ধরনের অনুভূতির কথা শোনালেন জেলেখালী গ্রামের সত্তোরোর্ধ্ব বয়সের গনি গাজী, ইউসুফ মোড়লসহ অসংখ্য মানুষ। তাদের উচ্ছ্বাস এটাই যে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোন ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাওয়া না গেলেও অন্তত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডাক্তার দম্পতি আর বিজিবি’র কল্যাণে রোযার সময়টাতে কয়েকটা দিনের খাওয়ার চিন্তা দূর হলো। এসব বৃদ্ধ মানুষরা আক্ষেপ করে জানান, এলাকায় ধান চাষ না হওয়া এবং চিংড়ি চাষ বন্ধ রয়েছে আইলার পর থেকে। যে কারণে গোটা গাবুরাজুড়ে কোন কাজকর্ম না থাকায় সত্তর/পঁচাত্তর বছর বয়সেও তাদের সুন্দরবনের পার্শ্বস্থ নদীতে মাছ ধরে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রায় দু’বছর ধরে আইলা উপদ্রুত গাবুরা এলাকায় সব ধরনের ত্রাণ সহায়তা বন্ধ রয়েছে। এদিকে সেখানে ধান উৎপাদন না হওয়ায় এবং নদী থেকে লবণ পানি উত্তোলন করতে না পেরে চিংড়িচাষ বন্ধ থাকায় দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ এবং যুবকরা পার্শ্ববর্তী সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও বয়োবৃদ্ধরা চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ভিক্ষুকও ভিক্ষা পাচ্ছেনা সেখানে। এমন অবস্থার মধ্যে গতকাল অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডাক্তার দম্পত্তি ডা. এমএ আউয়াল এবং ডা. নাসরীন সুলতানার পক্ষে বিজিবি’র তত্ত্বাবধানে ত্রাণ সহায়তা পেয়ে তারা বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে।

এমপি এমএ জব্বারকে ব্ল্যাকমেইলের কথা স্বীকার করেছে ওরা

ন্যাশনাল ডেস্ক: তাদের টার্গেট দেশের বড় ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে এ চক্রটি সাতক্ষীরার জাপা দলীয় এমপি এমএ জব্বারের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলার পর বেশ ক’জন ধনাঢ্য ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এ চক্রের তিন নারী ও দুই পুরুষ সদস্য গ্রেফতার হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রোববার তাদের দু’দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ চক্রের হোতাদের গ্রেফতারে গোয়েন্দারা অভিযান চালাচ্ছেন। গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. আবদুল আহাদ জানান, গ্রেফতারের পর চক্রের সদস্য মেহেরুন্নেসা, শাহনাজ জামান ওরফে জুঁই, বৃষ্টি ওরফে কোহিনুর আক্তার, অপু ওরফে সোহরাব হোসেন ও রাসেল সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি এমএ জব্বারকে ব্ল্যাকমেইল করার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে অপুর কাছ থেকে একটি নগ্ন ভিডিওচিত্র সংবলিত পেন ড্রাইভ, হুমকির কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি ভিডিও ক্যামেরা ও ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গোয়েন্দ সূত্র জানায়, এ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে। চক্রটি কখনও নিজেদের রাজনীতিবিদ, আবার কখনও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয়ে তরুণীদের বিভিন্ন অফিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পরিচিত হয়।

একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে চক্রের পুরুষ সদস্যরা ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে অফিসের ভেতর গিয়ে অফিসের দরজা বন্ধ করে দেয়। ওই সময় চক্রের তরুণী সদস্য নিজে বিবস্ত্র হয়ে টার্গেট করা লোকের পাশে দাঁড়ায়। অন্য সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে জোর করে বিবস্ত্র করে তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্য ভিডিও করে। পরে তারা ধারণ করা নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। ১৬ মে গ্রেফতার হওয়া চক্রটি সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপিকে এভাবেই ব্ল্যাকমেইল করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আহাদ জানান, চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও হোতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ ক’জন ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া উদ্ধার করা পেন ড্রাইভ ও ভিডিও ক্যামেরাটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এর ভেতর এমএ জব্বার এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করে ধারণ করা কোনো দৃশ্য আছে কি-না।

দেবহাটা সীমান্তে চোরাচালানী রোধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই!

পত্রদূত রিপোর্ট : দেবহাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী চোরাঘাটগুলো দিয়ে রমরমা চেরাচালানী হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় ব্যাপক আলোচনা হলেও টনক নড়েনি বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় শাড়ি-থ্রিপিচ ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চোরাকারবারীরা। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক পত্রদূতে প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের টনক না নড়লেও আর যেন সংবাদ প্রকাশ না হয় সে জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছে উপজেলার চোরাঘাট মালিক ও চোরাকারবারীরা।

সূত্র আরো জানায়, চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের গডফাদাররা প্রতিদিনই স্থানীয় বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হিসেবে উৎকোচ দিয়ে চোরাঘাট চালাচ্ছে। অবৈধ পথে নিয়ে আসছে  ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, গাঁজা, বিড়ি তৈরীর পাতা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, ভাইরাসযুক্ত মাছের রেনু ও ডিম, অনুন্নত পোল্ট্রি’র বাচ্চা, গার্মেন্ট্স সামগ্রী ও মেশিনারিজ পার্টস। এসব চোরাঘাট মালিক ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে বিজিবি ও প্রশাসনের জন্য উৎকোচ আদায় করছে দেবহাটার ভাড়া মোটর সাইকেল চালক কালাম।

আর বাকী টাকা ঘাটমালিক বা চোরাকারবারী এবং বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তার মধ্যে সরাসরি আদান প্রদান করা হয় বলে জনশ্র“তি রয়েছে। এক চোরাকারবারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিজিবি ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আমাদের ব্যবসা করা সম্ভব হয় না তাই তাদেরকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালাতে হয়। আপনারা পত্রিকায় লিখেলে আমাদের একটু ভোগান্তি পোহাতে হবে, আর বিজিবি বেশী টাকা আদায় করার সুযোগ পাবে। মাদকদ্রব্য কিভাবে কেনাবেচা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারত থেকে আসা ফেনসিডিল স্থানীয়ভাবে ২শ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। আর খুলনাতে পাঠাতে পারলে ৪শ টাকা এবং ঢাকাতে পাঠালে ৬-৮শ টাকা বিক্রি করা যাবে। আর সামনে ঈদ বলে ভারত থেকে আসা শাড়ি-থ্রি পিচ ও অন্যান্য গার্মেন্টস সামগ্রী পারুলিয়া, নলতা, কালিগঞ্জ ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন নামী দামী কাপড়ের দোকানে পাইকারীভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

চোরাচালানীদের এ অপতৎপরতায় মাদকের কালো ছায়ায় ধ্বংস হচ্ছে দেশের যুবসমাজ। বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে ভারতীয় কাপড়ে। ফলে দেশীয় গার্মেন্টস ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে মাছরাঙা টেলিভিশনের বর্ষপূর্তি পালিত

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। গতকাল এ উপলক্ষ্যে র‌্যালী, বৃক্ষরোপন, কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এসে শেষ হয়। র‌্যালীতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও সাতক্ষীরা পৌর মেয়র আব্দুল জলিল।

পরে মাছরাঙা টেলিভিশনের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লারব্রেরির প্রধান ফলকের সামনের দু’পাশে দুটি দেবদারু গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এরপর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের হলরুমে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলাচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল মান্নান ও সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ইনামুল হক বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যনার্জি, একুশে টেলিভিশন ও ইত্তেফাক’র জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মিনি, এটিএন বাংলার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান, জিটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি অসীম চক্রবর্তী প্রমুখ।

সাতক্ষীরার রাজনীতিক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ মাছরাঙা টিভির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার শুরুতে জন্মদিনের কেক কাটেন অতিথিরা।

 

কালিগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা

বিশেষ প্রতিনিধি : কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদীর বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাসভবনসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালায়।

জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের এক ষোড়শী মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করে সাঈদ মেহেদী। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই কিশোরীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করায় সে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নম্বর: জিআর ২২৪/১২ (সাত)। এছাড়াও টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত অপর একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মামলাটি করেন সাতক্ষীরার আল-মুনসুর হ্যাচারির প্রতিনিধি জনৈক কামাল হোসেন, যার নম্বর: সিআর ৪৩০/১০ (সাত)। এ দু’টি মামলায় বিজ্ঞ বিচারক সাঈদ মেহেদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। প্রেপ্তারি পরোয়ানা পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীক গ্রেপ্তারের জন্য রোববার দিন ভর তার বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ঘেরে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করলেও তাকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।

খানপুরে অস্ত্র ও ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় আটক ৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সদর উপজেলার খানপুরে পুলিশের অভিযানে আটক ৩ জনকে গতকাল দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সময় অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধৃত ৩ জনকে ৭ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করেছেন।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আকরাম হোসেন পত্রদূত’কে জানান, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমাণ্ডে দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করবেন।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে সদর উপজেলার খানপুর থেকে একটি অস্ত্র, একটি বোমা ও ৭০ বোতল ফেনসিডিল আটকের ঘটনায় হৃদয়, পলাশ ও শওকত নামের তিন অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।

বাবুলিয়ায় গরুর ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কালে হাতেনাতে দুই চাঁদাবাজ আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি : সীমান্তে গরুর ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করার সময় হাতেনাতে দুই চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা-বৈকারি সড়কের বাবুলিয়া এলাকা থেকে ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সিও হাতেনাতে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া শ্রমিক ইউনিয়নের রশিদ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত চাঁদাবাজরা হলো সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের আমির আলীর ছেলে শওকাত আলী (৪০) ও তলুইগাছা গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে মাহফুজুল আলম (২৫)।

সদর থানার ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, কয়েকটি চক্র সীমান্ত এলাকায় গরুর ট্রাক আটকে প্রতিটি ট্রাক থেকে ৪০০-৫০০ টাকা করে আদায় করে আসছে। তাদের চাহিদামত চাঁদা না দিলে গরুর ট্রাক আটকে রাকা হয়। নানাভাবে হয়রানি করা হয় গরুর মালিকদের। ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজ চক্রটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাবুলিয়া এলাকায় রাতে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করছিল দুই চাঁদাবাজ। ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবু বাছির সীমান্তে যাচিছলেন। পথিমধ্যে বাবুরিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনি হাতেনাতে ওই দুই চাঁদাবাজকে আটক করেন। পরে তাদের সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অদিনায়ক লে. কর্নেল আবু বাছির দুই চাঁদাবাজ আটকের কথা নিশ্চিত করে বলেন সীমান্তে চাঁদা আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

শ্যামনগরে পুলিশের নোটিশ পেয়ে অভিযোগকারীকে পেটালো দুর্বৃত্তরা

শ্যামনগর প্রতিনিধি : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের নোটিশ পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিপক্ষ অভিযোগকারী এক বৃদ্ধকে পিটিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় আরও একটি অভিযোগ করে সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ঐ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা।

জানা যায়, উপজেলার পাতড়াখোলা পল্লীর মাজেদ গাজীর ভোগদখলীয় একটি জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী ধুমঘাট পাঁচশত বিঘা এলাকার বাবর আলী ও তার ভাই সৈয়দ আলী মল্লিকসহ নুর ইসলাম ও মোশারফ গাজীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিবাদমান উভয় পক্ষ উক্ত সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে অনেক আগে থেকেই আদালতেরও দারস্ত হয়। এক পর্যায়ে মামলার নিস্পত্তি কিংবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত জমির স্থিতিবস্তা বজায় রাখার নির্দেশ দেয় বিজ্ঞ আদালত। অভিযোগ উঠেছে কোন কৌশলেই জমির উপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে না পেরে বাবর আলীসহ তার সহযোগীরা গত দুই সপ্তাহ আগে ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে ঐ জমিতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা উক্ত জমিতে আব্দুল মাজেদ কর্তৃক আঠার বছর ধরে গড়ে তোলা কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস করাসহ শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে সাবাড় করে।

জানা যায়, ভোগ দখলীয় জমি জবর দখল করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি পাতড়াখোলা গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে আব্দুল মাজেদ আদালতের নির্দেশ রক্ষার আবেদন এবং জোরপূর্বক ঐ জমি দখলের বিষয়ে শ্যামনগর থানায় বাবর আলী, সৈয়দ আলী, নুর ইসলাম, মোশরফ হোসেন গাজী, রবিউল ইসলাম, আজিজুল ও রেজাউলকে অভিযুক্ত করে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করে।

জানা গেছে, অভিযোগ পেয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগ তদন্তের ভারার্পণ করেন এএসআই আল মামুনের উপর। এএসআই মামুন গত ২৮ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুপক্ষকে আগামী ১ জুলাই শ্যামনগর থানায় ডেকে পাঠান। সেজন্য দু’পক্ষকে নোটিশ পর্যন্ত পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের থানা পুলিশ করার মত সাহস দেখে দখলবাঁজরা গত রবিবার সকালে আব্দুল মাজেদকে রাস্তায় আটকে বেদম মারপিট করে। আব্দুল মাজেদ অভিযোগ করে বলেন, রবিবার ভেটখালী মাছের আড়ৎ-এ সাছ বিক্রি বাড়ি ফেরার পথে মোশারফ, বাবর, সৈয়দ আলী, নুর ইসলাম, রবিউল, আজিজুল, রেজাউল ও এনামুল তার উপর হামলা করে। এসময় দুবৃর্ত্তরা তার নিকট থেকে সাইকেল, দস্তার হাড়িসহ মাছ বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নেওযার পাশাপাশি তাকে হত্যার চেষ্টা চালায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমির নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর প্রতিপক্ষেও সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে আব্দুল মাজেদ গত ২৯ জুলাই রাতে ফের শ্যামনগর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন।

দেবহাটায় কন্যাকে অপহরণের ঘটনায় মামলা করে মানুষের দ্বারে দ্বারে অসহায় পিতা

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেবহাটায় বিবাহিত স্কুল পড়–য়া কন্যাকে প্রেমের প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে অপহরণের অভিযোগে মামলা হলেও অপহৃতাকে উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা রহস্য জনক। এ ঘটনায় অপহৃতার পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এেিদক মামলা প্রত্যাহারে জন্য বাদীর পরিবারকে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেও কোন ফল হয় নি। দেবহাটা উপজেলার কোড়া গ্রামের ঘটনা এটি।

অবশেষে এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ওই অপহৃতার পরিবার। এম্ময বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান আশ্বাস্ত করেন।

প্রাপ্ততথ্যে জানাগেছে, দেবহাটা উপজেলার কোড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের কন্যা হাবিবা খাতুনের (১৯) পারিবারিক ভাবে গত ২৩ এপ্রিল বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রতিবেশী খালেকের ছেলে মেয়ারাজ তাকে নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু হাবিবা সে প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় চলতি বছরের ২১ মে দুপুরে মামার বাড়িতে যাওয়ার পথে উপজেলার চিনেডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে মেয়ারাজ হোসেন, একই এলাকার বড় খোকার ছেলে নুরুজ্জামান, জামাই মতি, রিয়াজুল, সুমনসহ বেশ কয়েকজন তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার উপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। ঐ রাতেই পারুলিয়ার সাবেক রেজিস্ট্রার সাইফুল্লা বাহারের বাড়িতে নিয়ে বিবাহের লক্ষ্যে কাবিন নামায় সহি করিয়ে নেয়। হাবিবা বিবাহিত তার স্বামী আছে জানালেও বখাটেরা তার কোন কথাই কর্ণপাত করেনি। তারা অপহৃত হাবিবাকে মেয়ারাজের ভাগ্নির বাড়ি সখিপুরে আটকিয়ে রাখে।

পরদিন ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে হাবিবা তার পরিবারকে মোবাইলে জানানোর পর রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে হাবিবার পিতা বাদী হয়ে পরদিন দেবহাটা থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দাখিল করে। অভিযোগ উঠেছে, ওসি কাজী দাউদ হোসেন নিজে অপহৃতার জবানবন্দি গ্রহণ করলেও ১৬১ ধারায় তা লিপিবদ্ধ করেন নি। এরই মধ্যে আসামিরা দেনদরবার শুরু করে।

অবশেষে ঘটনার ৪দিন পর ২৪ মে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। নং-১৪। মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেবহাটা থানার ওসি দাউদ হোসেন এর গড়িমসির কারণে ভিকটিমের ১৬৪ ও ২২ ধারায় কোন জবানবন্দি রেকর্ড  করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে আসামিদের সাথে হাত মিলিয়ে ওসি নিজেই মোটা অংকের দফারফা করে মামলাটি ফাইনাল দেওয়ার পায়তারা করছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওয়াহেদুর রহমান জানান, মামলাটি শত ভাগ সত্য নয়। ছেলেটির সাথে মেয়েটির পূর্ব থেকে সম্পর্ক ছিল। অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, একাধিকবার তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনা ও মামলার দীর্ঘ সময়ে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি মিথ্যা দিকে যাচ্ছিল, আবার যতেষ্ট রাজনৈতিক চাপ ছিল তাই কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

 

শ্যামনগরে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্টের র্যালী

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : ‘বাংলার বাঘ বাংলায় বেঁচে থাক’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ রবিবার বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। র‌্যালীটি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হয়ে হরিনগর বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে মুন্সিগঞ্জ ইউপি মিলনায়তনে সংস্থার সাতক্ষীরা রেঞ্জ ইনচার্জ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ ইউপি সদস্য ফজলুল হক, শিক্ষক রনজিৎ কুমার বর্মন, আহসানুল হক, সঞ্জিত কুমার, রিজু, মোস্তফা লিটন, হ্নদয়, ভিলেজ টাইগার টিমের সদস্য আইয়ুব আলি, জামাল, আব্দুল গণি প্রমুখ।

 

 

 

 

 

খুলনায় উপজেলা পরিষদের সেবাদানে দক্ষতা অর্জন বিষয়ক কর্মশালা

খুলনা ব্যুরো : উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ‘উপজেলা পরিষদের সেবাদানে দক্ষতা অর্জন’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক অবহিতকরণ কর্মশালা গতকাল খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। সকালে কর্মশালার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মোঃ আব্দুল হান্নান বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সেরাজুল ইসলাম। উদ্বোধনকালে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেয়ার কোন বিকল্প নেই। এ ব্যবস্থাকে জোরদার করতে সরকারের যেমন পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, তেমনি জনপ্রতিনিধিদেরও আন্তরিকতা থাকতে হবে। কর্মশালায় মাগুরা, নড়াইল, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ডিডিএলজি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন। কর্মশালায় উপজেলা পরিষদের ১৭টি স্থায়ী কমিটি কিভাবে কার্যকর করা যায়, বার্ষিক বাজেট, পঞ্চবার্ষিক ও বার্ষিক পরিকল্পনা কাঠামোতে কর্মকর্তাদের সম্পৃক্তকরণ; উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ কার্যকর এবং ১৭টি স্থায়ী কমিটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের ভূমিকা বিষয়ক সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়।

 

খুলনায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

খুলনা ব্যুরো : ‘আদর্শ গ্রাম বাংলা দেশের প্রাণ, আদর্শ গ্রাম উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক’ এই সে­াগানকে সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ খুলনার শাখার পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। ব্যাংক’র খুলনা জোনাল অফিস অডিটরিয়ামে গতকাল সোমবার বিকেলে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক ফয়জুল কবিরের সভাপতিত্বে ও ব্যাংকের সহকারি অফিসার ও প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুস সামাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী ব্যাংক’র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খুলনা জোনাল হেড ওবায়দুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখার মহা-ব্যবস্থাপক শ্যামল কুমার দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান।