দেবহাটায় কন্যাকে অপহরণের ঘটনায় মামলা করে মানুষের দ্বারে দ্বারে অসহায় পিতা


প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০১২ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেবহাটায় বিবাহিত স্কুল পড়–য়া কন্যাকে প্রেমের প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে অপহরণের অভিযোগে মামলা হলেও অপহৃতাকে উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা রহস্য জনক। এ ঘটনায় অপহৃতার পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এেিদক মামলা প্রত্যাহারে জন্য বাদীর পরিবারকে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেও কোন ফল হয় নি। দেবহাটা উপজেলার কোড়া গ্রামের ঘটনা এটি।

অবশেষে এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ওই অপহৃতার পরিবার। এম্ময বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান আশ্বাস্ত করেন।

প্রাপ্ততথ্যে জানাগেছে, দেবহাটা উপজেলার কোড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের কন্যা হাবিবা খাতুনের (১৯) পারিবারিক ভাবে গত ২৩ এপ্রিল বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রতিবেশী খালেকের ছেলে মেয়ারাজ তাকে নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু হাবিবা সে প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় চলতি বছরের ২১ মে দুপুরে মামার বাড়িতে যাওয়ার পথে উপজেলার চিনেডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে মেয়ারাজ হোসেন, একই এলাকার বড় খোকার ছেলে নুরুজ্জামান, জামাই মতি, রিয়াজুল, সুমনসহ বেশ কয়েকজন তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার উপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। ঐ রাতেই পারুলিয়ার সাবেক রেজিস্ট্রার সাইফুল্লা বাহারের বাড়িতে নিয়ে বিবাহের লক্ষ্যে কাবিন নামায় সহি করিয়ে নেয়। হাবিবা বিবাহিত তার স্বামী আছে জানালেও বখাটেরা তার কোন কথাই কর্ণপাত করেনি। তারা অপহৃত হাবিবাকে মেয়ারাজের ভাগ্নির বাড়ি সখিপুরে আটকিয়ে রাখে।

পরদিন ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে হাবিবা তার পরিবারকে মোবাইলে জানানোর পর রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে হাবিবার পিতা বাদী হয়ে পরদিন দেবহাটা থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দাখিল করে। অভিযোগ উঠেছে, ওসি কাজী দাউদ হোসেন নিজে অপহৃতার জবানবন্দি গ্রহণ করলেও ১৬১ ধারায় তা লিপিবদ্ধ করেন নি। এরই মধ্যে আসামিরা দেনদরবার শুরু করে।

অবশেষে ঘটনার ৪দিন পর ২৪ মে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। নং-১৪। মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেবহাটা থানার ওসি দাউদ হোসেন এর গড়িমসির কারণে ভিকটিমের ১৬৪ ও ২২ ধারায় কোন জবানবন্দি রেকর্ড  করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে আসামিদের সাথে হাত মিলিয়ে ওসি নিজেই মোটা অংকের দফারফা করে মামলাটি ফাইনাল দেওয়ার পায়তারা করছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওয়াহেদুর রহমান জানান, মামলাটি শত ভাগ সত্য নয়। ছেলেটির সাথে মেয়েটির পূর্ব থেকে সম্পর্ক ছিল। অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, একাধিকবার তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনা ও মামলার দীর্ঘ সময়ে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি মিথ্যা দিকে যাচ্ছিল, আবার যতেষ্ট রাজনৈতিক চাপ ছিল তাই কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।