দেবহাটা সীমান্তে চোরাচালানী রোধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই!


প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০১২ ||

পত্রদূত রিপোর্ট : দেবহাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী চোরাঘাটগুলো দিয়ে রমরমা চেরাচালানী হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় ব্যাপক আলোচনা হলেও টনক নড়েনি বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় শাড়ি-থ্রিপিচ ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চোরাকারবারীরা। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক পত্রদূতে প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের টনক না নড়লেও আর যেন সংবাদ প্রকাশ না হয় সে জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছে উপজেলার চোরাঘাট মালিক ও চোরাকারবারীরা।

সূত্র আরো জানায়, চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের গডফাদাররা প্রতিদিনই স্থানীয় বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হিসেবে উৎকোচ দিয়ে চোরাঘাট চালাচ্ছে। অবৈধ পথে নিয়ে আসছে  ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, গাঁজা, বিড়ি তৈরীর পাতা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, ভাইরাসযুক্ত মাছের রেনু ও ডিম, অনুন্নত পোল্ট্রি’র বাচ্চা, গার্মেন্ট্স সামগ্রী ও মেশিনারিজ পার্টস। এসব চোরাঘাট মালিক ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে বিজিবি ও প্রশাসনের জন্য উৎকোচ আদায় করছে দেবহাটার ভাড়া মোটর সাইকেল চালক কালাম।

আর বাকী টাকা ঘাটমালিক বা চোরাকারবারী এবং বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তার মধ্যে সরাসরি আদান প্রদান করা হয় বলে জনশ্র“তি রয়েছে। এক চোরাকারবারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিজিবি ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আমাদের ব্যবসা করা সম্ভব হয় না তাই তাদেরকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালাতে হয়। আপনারা পত্রিকায় লিখেলে আমাদের একটু ভোগান্তি পোহাতে হবে, আর বিজিবি বেশী টাকা আদায় করার সুযোগ পাবে। মাদকদ্রব্য কিভাবে কেনাবেচা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারত থেকে আসা ফেনসিডিল স্থানীয়ভাবে ২শ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। আর খুলনাতে পাঠাতে পারলে ৪শ টাকা এবং ঢাকাতে পাঠালে ৬-৮শ টাকা বিক্রি করা যাবে। আর সামনে ঈদ বলে ভারত থেকে আসা শাড়ি-থ্রি পিচ ও অন্যান্য গার্মেন্টস সামগ্রী পারুলিয়া, নলতা, কালিগঞ্জ ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন নামী দামী কাপড়ের দোকানে পাইকারীভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

চোরাচালানীদের এ অপতৎপরতায় মাদকের কালো ছায়ায় ধ্বংস হচ্ছে দেশের যুবসমাজ। বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে ভারতীয় কাপড়ে। ফলে দেশীয় গার্মেন্টস ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।