কলারোয়ার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ ‘চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির ৩ লাখ টাকার জন্য খুন হয় তারা’


প্রকাশিত : আগস্ট ৩, ২০১২ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলারোয়ার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ক্লু উদ্ধার হয়েছে। চোরাই মোটর সাইকেল বিক্রির ৩ লাখ টাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় ওই দুইজনকে। সনাক্ত করা হয়েছে ক্লিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীদের। এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার আভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশের জিজ্ঞসাবাদে এসব তথ্য ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে  তারা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, কলরোয়া উপজেলার গাড়াখালি গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে আশরাফ হোসেন (৩৪) ও একই উপজেলার বোয়ারিয়া গ্রামের এলাই বকস গাইনের ছেলে তাজুল ইসলাম পল্টু (৩০)। সোমবার কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া ও মন্টু মিয়ার বাগান বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা পরে সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সূত্র জানায়, ক্লিলিং মিশনে দুই জন ভারতীয়সহ ছয় জন অংশ নেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরশাফ হোসেন জানিয়েছে, কলারোয়া উপজেলার গাড়াখালি গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে সাহাঙ্গির হোসেনের নেতৃত্বে গাড়াখালি এলাকায় একটি চোরাই মোটরসইকেল সিন্ডিকেট রয়েছে। ভারত থেকে ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সাহাঙ্গির হোসেনের কাছে রাখা হয়। এরপর বিক্রি করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। সিন্ডিকেটের সদস্য সে ছাড়াও কলরোয়ার দলুইপুর গ্রামের মশিয়ার রহমান, হাফিজুর রহমান, পল্টু, সাহাঙ্গিরের শ্যালক ভারতের হাকিমপুর গ্রামের আতিকুর আশিকুর। এরা সকলে মোটরসাইকেল চুরি করেতো। সাহাঙ্গির হোসেনের কাছে চোরাই মোটর সাইকেল বিক্রির ৩ লাখ টাকা পায় মশিয়ার রহমান ও হাফিজুর রহমান। সাহাঙ্গিরের কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করতে পারছিল না তারা। এ ছাড়া তারা সাহঙ্গিরের কাছে মোটরসাইকেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় সাহা্িঙ্গর। ১৬ জুন সাহাঙ্গির হোসেন টাকা দেওয়ার নাম করে তাদের দু’জনকে বাড়িতে আসতে বলে। দুপুরে সাহাঙ্গিরের বাড়িতে এক সাথে খাওয়া দাওয়া শেষে চারটার দিকে তারা ভারতে যায়। এ সময় তার কাছে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় খরচের জন্য। রাত ৯ টার দিকে ভারত থেকে সেসহ মশিয়ার, হাফিজুল, সাহাঙ্গিরের শ্যালক ভারতীয় নাগরিক আতিকুর ও আশিকুর ফিরে আসে। এরকিছু পরে ভাদিয়ালি মোড় থেকে সাহাঙ্গির ও তার পিতা ইয়ার আলীর মোটরসাইকেলে তারা বাগআচড়ায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়। রাত ১০টার দিকে তারা ছয়জন রঘুনাথপুর গ্রামের মাঠের ভিতরে পাট ক্ষেতের দিকে নিচে নেমে যায়। তাকে মোটর সাইকেল পাহারায়  রেখে যায়। ২০ মিনিট পরে ভারতীয় দুইজন ও সাহাঙ্গির ফিরে আসলেও মশিয়ার রহমান ও হাফিজুর রহমান আসেনি। তারা ফিরে বাগঁআচড়ার দিকে চলে যায়। পরের দিন সকালে সে জানতে পারে, দুই জনকে হত্যা করা হয়েছে। একই ধরনের বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা।

গ্রেপ্তারকৃত পল্টু জানায়, সাহাঙ্গির ঘটনার এক সপ্তাহ আগে ২৫০ টাকা দিয়ে কেড়াগাছি বাজার থেকে একটি গাছকাটার দা ক্রয় করে। ঘটনার দিন সাহাঙ্গির তাকে বাঁগআচড়ায় গিয়ে উজ্জলের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আনতে বলে। সাহাঙ্গির চোরাই মোটরসাইকেল বেচাকেনা করে থাকে।  প্রসঙ্গত, দুর্বৃত্তরা গত ১৬ জুন রাতে কলারোয়া ্উপজেলার দলুইপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান (৩০) ও একই গ্রামের মশিয়ার রহমানকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত মশিয়ার রহমানের ছেলে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়ানের ইউপি সদস্য ইয়ার আলী মুঠোফোনে জানান, তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন। একটি মহল তাকে ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তার ছেলে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তিনি নিজে তাকে পুলিশে দেবেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন। সহকারি পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল, কলারোয়া থানার ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোশারাফ হোসেন জানান, গ্র্প্তোরকৃত দু’জন পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যা দিয়েছে। জোড়া খুনের ঘটনার ক্লু উদঘাটন হয়েছে। ক্লিলিং মিশনে কারা কারা ছিল তা সনাক্ত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল বিক্রির পাওনা ৩ লাখ টাকার জন্য তাদের হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা পরে সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।