ভ্রাম্যমান আদালত সিলগালা করলেও শ্যামনগরের সেবা নার্সি হোমের কার্যক্রম চলছে


প্রকাশিত : আগস্ট ৫, ২০১২ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: এমবিবিএস চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী সেবিকা কিংবা মান সম্মত ওটিসহ ক্লিনিক পরিচালনার কোন শর্তই পুরণ করেনি ক্লিনিক কতৃপক্ষ। অগত্যা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাশরুবা ফেরদৌস’র নেতৃত্বে মাত্র ছয় মাস পুর্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়। এছাড়া ঐ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক তোফাজ্জল হোসেন সে মুহুর্তে ক্লিনিকে না থাকায় ম্যানেজার মোঃ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে এমটি মামলা রুজু করা হয়। যার নং ১১/২০১২। এছাড়া তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড অনাদায়ে দশ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয় বিজ্ঞ আদালত।

কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্লিনিক পরিচালনার কোন শর্ত পুরণ না করেই এবং ঐ মামলার নিস্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও আবার পুরোদমে কার্যক্রম চালু রেখেছে কতৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশ লংঘন করে কোন শক্তির বলে অবৈধভাবে ক্লিনিকটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে সে বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা যায় সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী একটি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য ১০টি লোহার খাট, ২৪ ঘন্টা একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, একজন ডিপ্লোমাধারী সেবিকা, এসিযুক্ত অপারেশ থিয়েটার ও সার্বক্ষনিক জেনারেটরসহ আরও কিছু শর্ত অপরিহার্য্য। কিন্তু এসবের কোন কিছু পুরণ না করেই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত ৩১ জানুয়ারী ২০১২ তারিখের এক অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এবং ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে সিলগালা হওয়ার মাত্র চার দিনের মধ্যে কতৃপক্ষ আবারও চালু করে ক্লিনিক কার্যক্রম।

অভিযোগ উঠেছে সিভিল সার্জনের দপ্তরের একজন বিশেষ ব্যক্তির আনকুল্যে মোটা অংকের টাকর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টরা কোনপ্রকার শর্ত পুরণ না করেই আবারও ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু করেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে কয়েক বছর পুর্বে সেবা নার্সি হোম নামীয় ক্লিনিকটি নওযাবেঁকী এলাকায় পরিচালনার জন্য সিভিল সার্জনের দপ্তরে আবেদন জানানো হয়। সে অনুযায়ী নওয়াবেঁকীতে কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও কতৃপক্ষ বিশেষ মহলের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে পনের কিঃ মিঃ দুরবর্তী শ্যামনগর সদরে এসে হায়বাদপুর মোড়ে ক্লিনিকটির কার্যক্রম চালাচ্ছে। জানা গেছে কতৃপক্ষ জায়গা পরিবর্তনের জন্য সিভিল সার্জনের দপ্তরে আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত সাড়া মেলেনি। কিন্তু কিভাবে নওয়াবেঁকীর পরিবর্তে শ্যামনগরে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে সে বিষয়টি সকলকে বিস্মিত করেছে।

এবিষয়ে ক্লিনিক পরিচালক সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার রিং হওয়া সত্ত্বেও তিনি কল রিসিভ করেননি। একই বিষয়ে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএ ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান, ম্যাজিষ্ট্রেটের অভিযানের পর ক্লিনিকটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও সেটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতির সংক্রান্ত কোন চিঠি তারা পায়নি। তিনি আরও বলেন, এসব ক্লিনিক বন্ধ এবং খোলার বিষয়ে সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হয়।