কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় পণ্য


প্রকাশিত : আগস্ট ২০, ২০১২ ||

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: ঈদ-উল-ফিতর’র বাজার দখল করতে কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্যের চালান পাচার হয়ে আসছে। প্রকাশ্য দিবালোকে আসা চোরাচালানের বহর দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সচেতন মহল।

কোথাও দৈনিক, কোথাও সাপ্তাহিক, কোথাও  মাসিক চুক্তিতে চোরাচালানের ঘাট ডাক দেওয়া হয়েছে। চোরাচালানের জন্য ভারতের সাথে আনুমানিক ১৭ কিলোমিটার সীমান্তে অন্তত ২০টি ঘাট স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপদে ভারতীয় পণ্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আনার জন্য কেঁড়াগাছি চারাবাড়ি ঘাট, কেঁড়াগাছি কুটিবাড়ি ঘাট, কেঁড়াগাছি রথখোলা ঘাট, কেঁড়াগাছি গাড়াখালী ঘাট, দক্ষিণ ভাদিয়ালী ঘাট, কালিবাড়ি ঘাট, তেঁতুলতলা ঘাট, কামারবাড়ি ঘাট, খা-বাগান ঘাট, রাজপুর ঘাট, চান্দা ঘাট, স্লুইচ গেট ঘাট, দক্ষিণ বড়ালী ঘাট, উত্তর বড়ালী ঘাট, হিজলদী ভদ্রশাল ঘাট, হিজলদী শিশুতলা ঘাট, সুলতানপুর ঘাট, গোয়ালপাড়া ঘাট, চান্দুড়িয়া ঘাট, কাদপুর ঘাট ব্যবহৃত হচ্ছে। এরপর সীমান্ত থেকে ভারতীয় পণ্য নিরাপদে দেশের অভ্যন্তর ভাগে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দেশের অভ্যন্তরে কায়বা ঘাট, গয়ড়া ঘাট, রামভদ্রপুর ঘাট, বয়ারডাঙ্গা ঘাট, বুঝতলা ঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট, সোনাবাড়িয়া ঘাট, বোয়ালিয়া ঘাট, বালিয়াডাঙ্গা ঘাট, মুফতিবাড়ি ঘাট, যুগিবাড়ি ঘাট, কলারোয়া বাজার ঘাট, ব্রজবক্স ঘাট, কাজিরহাট ঘাট, খোর্দ্দ ঘাট, কেশরপুরের ত্রিমোহিনী ঘাট, সরসকাটি ঘাট, ঝিকরগাছার বাঁকড়া ঘাট, মনিরামপুরের চাকলা ও রাজগঞ্জ ঘাট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ঘাটের সহায়তার মাধ্যমে ভারত থেকে রোজা ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর এর জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীসহ ইউরিয়া সার পাচার হয়ে আসছে। এর মধ্যে চিনি, ময়দা, সুজি, ছোলা, মুগ, মশুর, বুট, ডিম, গো-মাংস, জিরা, গোল মরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচ, আলু, পিঁয়াজ, আতর, সেণ্ট, সেভিং লোশন, বডি লোশন, বিভিন্ন কসমেটিকস, ইমিটেশন অলংকার নেকলেস, কানের কানের দুল, চুড়ি, চুলের ব্যান্ড, লিপষ্টিক, ভ্র-পেইন, আই-লাইনার, লিপ লাইনার, বোম্বে প্রিণ্ট শাড়ি, সাউথ ইন্ডিয়ান সিল্ক, কাতান, বেনারসি, গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া, ব্রেসিয়ার, পাজ্ঞাবী, থ্রিপিচ, টুপিচ, শিশু পোশাক, তোয়ালে, শার্ট পিচ, প্যাণ্ট পিচ, স্টীলের প্লেট, গ্লাস, গামলা, জগ, মগ, হাড়ি, কড়াই, প্রেসার কুকার, রাইচ কুকার, ঘরের ওয়ারিং এর সুইচ, সুইচ বোর্ড, চ্যানেল, ঘড়ি, রেডিও, টিভির যন্ত্রাংশ, সাইকেল, মটর সাইকেল, টেম্পুর যন্ত্রাংশ, বেসিন, প্যান, পলিথিন ব্যাগ ও শপিং ব্যাগ দেদারসে পাচার হয়ে আসছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পাসপোর্টে বা চোরাই পথে ভারতের কলকাতায় মাড়োয়ারী ব্যবসায়ীদের ঘরে পছন্দের পণ্য সামগ্রী বাছাই করে ফিরছে । আর কলারোয়া সীমান্তের চোরাচালান সিন্ডিকেট কমিশনের বিনিময়ে সেই সব পণ্য সামগ্রী কলকাতা থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের মালামাল ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ নির্দিষ্ট আস্তানায় পৌঁছে দিচ্ছে। কলকাতার মাড়োয়ারীদের পাঠানো পণ্য বাংলাদেশে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরে বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে তার দাম পরিশোধ করা হচ্ছে। নিরাপদে পণ্য পৌঁছানোর পরে দাম পরিশোধের সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের বহু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে চাকচিক্যময় ভারতীয় পণ্যের ব্যবসা শুরু করেছে। ফলে কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে দেদারছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মূল্যবান শাড়ী, থ্রিপিচ, টুপিচ, পাঞ্জাবী, প্যান্ট ও শার্ট পিচের চালানসহ হাজার হাজার বস্তা ভারতীয় নিম্নমানের ইউরিয়া পাচার হয়ে আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো চালান দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এবং ঈদের আগে আরো অনেকগুলো চালান আনার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া স্থানীয় চোরাচালানীরা ভারতীয় পণ্য এনে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে বাজারে অবৈধ বাড়তি মুনাফা অর্জনে তৎপর হয়ে উঠেছে। ফলে চারিদিকে ভারতীয় পণ্য বহনের ধুম পড়ে গেছে। এরমধ্যে চান্দুড়িয়া, কাদপুর থেকে বাগআঁচড়া, সুলতানপুর থেকে কলেজ মোড় হয়ে বাগআঁচড়া, হিজলদী বড়ালী, চান্দা সীমান্ত থেকে নকাটির বিলের রাস্তায় বাগআঁচড়ায়, রাজপুর, উত্তর ভাদিয়ালী সীমান্ত থেকে সোনাবাড়িয়া/পাঁচপোতা হয়ে কলারোয়া, দক্ষিণ ভাদিয়ালী থেকে বোয়ালিয়া দমদম হয়ে কাজিরহাট-কলারোয়া, গাড়াখালী, রথখোলা চারাবাড়ি সীমান্ত থেকে বেলেডাঙ্গা বাজার মুফতি বাড়ি হয়ে কলারোয়া বা ঝাউডাঙ্গায় এসব মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সীমান্ত থেকে মাথায়, সাইকেলে, ভ্যানে, নসিমনে, করিমনে, আলম সাধু, মাইক্রো, প্রাইভেটে, সীমান্তের বাজারগুলোতে পণ্য সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান ভারতীয় পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিদিন চোরাচালানীরা থানা পুলিশের নাকের ডগায় কলারোয়া উপজেলা মোড় থেকে উত্তর বঙ্গ, বরিশাল, ঢাকাগামী পরিবহন এবং সাধারণ রুটের বাসে কলারোয়া বাজার ও সংলগ্ন এলাকার রাস্তা থেকে নিয়মিত ভাবে ভারতীয় পণ্য পাচার করে যাচ্ছে। এদিকে দেদারছে আসা ভারতীয় পণ্যে কলারোয়ার হাট বাজার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা সদর, কেশবপুর, মনিরামপুর, পাটকেলঘাটা, রাজগঞ্জ, বাকড়া, বাগআঁচড়া বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা কম মূল্যের চাকচিক্যময় ভারতীয় পণ্য বিক্রির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।