কয়রায় ভাইরাসের কবলে ৫ শতাধিক চিংড়ি ঘের


প্রকাশিত : August 24, 2012 ||

ন্যাশনাল ডেস্ক: বাগদা চিংড়ির ভরা মৌসুমে খুলনার কয়রা উপজেলার ৫ শতাধিক চিংড়ি ঘের ‘হোয়াইটপট’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চলের ৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চিংড়ি চাষি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভাইরাসে চিংড়ি মারা যাওয়ায় চাষিরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন- তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও ব্যাহত হচ্ছে।

চিংড়ি চাষিরা জানান, ২০১১ সালে ভাইরাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা এবার বেশি করে বাগদা চিংড়ির চাষ করেন। কেউ ব্যাংক ঋণ কেউবা মহাজনদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে তাদের ঘেরগুলোতে বাগদা চিংড়ির পোনা ছেড়েছেন। কিন্তু ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় দিশেহারা তারা।

কয়রার উত্তরবেদকাশীর চিংড়ি চাষি তাপস কুমার জানান, গত ২ সপ্তাহ ধরে হোয়াইটপট ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই চিংড়ি মাছ মারা যাচ্ছে।

এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হবে। ইতোমধ্যে এখানকার ৫ শতাধিক ঘেরে ভাইরাস আক্রমণ করেছে বলে জানিয়েছন তাপস কুমারসহ অন্যরা। দক্ষিণবেদকাশীর চিংড়িচাষি হারুন জানান, ভাইরাসের কারণে ঘেরের মাছ মরে যাচ্ছে। যেগুলো বেঁচে আছে- তাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই গ্রামের ঘের মালিক আব্দুল্লাহ জানান, ভাইরাসের আক্রমণে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে আছি। রেণুপোনা কেনার টাকাও হয়ত উঠে আসবে না।

অনেক চাষি মনে করছেন, এ অঞ্চলের ঘেরগুলোতে যে রেণু ছাড়া হয়েছে, তা সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে ভারত থেকে আনা পোনা। এগুলো ভালো মানের নয়। এছাড়াও চোরাইপথে ভারতের চেন্নাই থেকে ভাইরাসযুক্ত নেপালি চিংড়ি মাছের  ডিম এনে বাংলাদেশের কয়েকটি হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন করে তা বাজারজাত করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। এতে করে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাস প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন-এমনটি আশা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি চাষিরা।

এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. খন্দকার আনিসুল হক জানান, পরিবেশবান্ধব আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে ভাইরাসে আক্রমণ করার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে চিংড়ি চাষিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।