কিলিং মিশনের খবরে তোলপাড়, যুগের বার্তার আবু সাঈদকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ


প্রকাশিত : August 24, 2012 ||

পত্রদূত রিপোর্ট: যুগেরবার্তার আবু সাইদের কথিত অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। দফায় দফায় আবু সাঈদকে থানায় ডেকে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বুধবার ও গতকাল বৃহস্পাতিবার সদর থনার অফিসার্স ইনচার্জ আসলাম খান ও এসআই সুরেশ হালদার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার না করে জিজ্ঞাসাবাদ করায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সদর থানার এসআই সুরেশ হালদার জানান, যুগেরবার্তা পত্রিকার সম্পাদক আবু সাঈদকে বুধবার তার বাড়িতে যেয়ে অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গতকাল এ ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তাকে থানায় ডেকে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে দফায় দাফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিডির ভাষ্য অনুযায়ী অস্ত্রটি ঈদের দিন কেন, কি জন্য ঈদের মাঠে নিয়ে গিয়েছিলেন? কি উদ্দেশ্য ছিল? কিভাবে হারিয়ে গেল? দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ার পর জিডি করলেন কেন? কোন সময়ের মধ্যে অস্ত্রটি খোয় গেছে? এসব বিষয়ে বিস্তারিত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, আবু সাইদ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, জিডিতে যেভাবে উল্লেখ করেছেন ওই ভাবেই অস্ত্রটি খোয়া গেছে। এসআই সুরেশ হালদার জানান, প্রাথমিকভাবে জিডি’র সুত্র ধরে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলা হলে আরো গভীরে যেয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন। এমন কি কাদের হাতে অস্ত্রটি রয়েছে সেটিও চিহ্নিত করে উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে গতকাল দৈনিক পত্রদূতে “কিলিং মিশনে অস্ত্র পাঠিয়ে থানায় হারানোর জিডি করেছেন যুগের বার্তার আবু সাইদ” শীর্ষক খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পত্রদূতকে টেলিফোনে অনেকে জানিয়েছেন আবু সাইদের বেপরোয়া চলাফেরার কথা। এমনকি শহরের চিহ্নিত হেরোইন ফেনসিডিল আসক্তদের সাথে তার উঠাবসার বিষয়টিও জানিয়েছেন অনেকে। মটরসাইকেল সংক্রান্ত আইনজীবী পুত্রের সাথে দ্বন্দের বিষয়ে অনেকে দিয়েছেন আরো অনেক তথ্য।

অপর একটি সুত্র জানায়, কথিত অস্ত্র হারানোর ঘটনার যদি কোন সত্যতা থাকতো তবে আবু সাইদ সম্পাদিত দৈনিক যুগের বার্তার গতকালের সংখ্যায় খবরটি থাকতো। তা না হলে অন্ততপক্ষে একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেত। কিন্তু এমন কিছুই খুজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আসলাম খান বলেন, পুলিশ কথিত অস্ত্র হারানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথেই দেখছে। এ জন্য সবার আগে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অস্ত্রটি উদ্ধারের পর সব তথ্য উৎঘাটন করা সম্ভব হবে।