কলারোয়ায় গ্রামীণ সড়কগুলো খানা-খন্দে ভরা, চলাচলের অযোগ্য


প্রকাশিত : আগস্ট ২৫, ২০১২ ||

ডেস্ক রিপোর্ট : বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ভারী বর্ষণে কলারোয়া পৌরসভাসহ গ্রামীণ জনপদের বেশিরভাগ পাকা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোর সংস্কার কাজ নামমাত্র শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে-চুরে রাস্তাগুলো রূপ নিয়েছে খানা-খন্দকে। বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে মরণ ফাঁদ।

সরেজমিনে যেয়ে দেখা গেছে, উপজেলার গ্রামীণ পাকা সড়কের অবস্থা কোথাও ভাল নেই। অধিকাংশ সড়কে ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে পিচ, ইট, খোয়া উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্তের। চলতি ভারী বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো আরও ভেঙে গেছে। এ অবস্থায় সব ধরণের যান চলাচল করছে ভীষণ ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্যে।

এদিকে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কলারোয়া থেকে আলাইপুর হয়ে খোরদোগামী পাকা সড়কের মির্জাপুর ও আলাইপুরের বিভিন্ন স্থানে ভগ্ন দশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানে স্থানে উঠে গেছে পিচ, ইট, খোয়া। আলাইপুর থেকে ছলিমপুর বাজার পর্যন্ত পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্তের। এতে পথচারীদের পথ চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। সেই সাথে সব ধরনের যান চলাচল করছে ঝুঁকির মধ্যে। ছোট-খাট দুর্ঘটনা তো নিত্য খবরে রূপ নিয়েছে। এ অবস্থা চলছে বছরের পর বছর। বৃষ্টিতে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এই বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের ভাঙন আরও বেড়েছে। কাজীরহাট থেকে শাকদাহ বাজার হয়ে খোরদোগামী আর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের বর্তমান করুণ অবস্থা। কাজীরহাট বাজার পার হয়ে দেখা মিলবে অজস্র খানা-খন্দ। কোন যানবাহনে যে কেউ চোখ বন্ধ করে গেলেও প্রচন্ড ঝাকুনি তাকে বলে দিবে এখন তিনি ধানঘরার বিধ্বস্ত পাকা সড়ক পাড়ি দিচ্ছেন। ভয়াবহ ভাঙনকবলিত এই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগীর তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। প্রায় তিন কি.মি. দীর্ঘ ভাঙাচোরা সড়কটি প্রায় শাকদাহ বাজার ছুঁয়েছে। এরপর শাকদাহ বাজার থেকে কলাটুপি, পাটুলি ও উলুডাঙ্গা হয়ে খোরদো বাজারে মেশা সড়কেরও বেহাল দশা। কলারোয়ার কুশোডাঙ্গা বাজার থেকে শিবানন্দকাটি হয়ে শাকদাহ বাজার অভিমুখি সড়কটি দেখলে মনে হবে, এটি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত সড়ক। সড়কের বাঁকে বাঁকে বিভিন্ন পুকুরের পাড় ভেঙে সড়কটি গ্রাস করে ফেলছে। কলারোয়া থেকে দমদমা-সোনাবাড়িয়া বাজার হয়ে চান্দুড়িয়া সীমান্তে যোগাযোগের প্রধান সড়কটির অনেক স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। লোহাকুড়া প্রাইমারি স্কুলের পিছন থেকে দাউদের মোড় পর্যন্ত সড়কটি অনেক স্থানে পিচ-খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার আগে দমদমা বাজার থেকে সোনাবাড়িয়া বারেকের মোড় পর্যন্ত সড়কে সংস্কার করা হয়। কিন্তু এর একটু পরে সোনার বাংলা ডিগ্রি কলেজের সামনে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ, ইট, খোয়া উঠে গেছে। এছাড়া ছোট ছোট অনেক সংযোগ সড়কেরও বর্তমান ভীষণ বেহাল দশা। এর মধ্যে সোনাবাড়িয়া-সিঙ্গা, সিঙ্গা-হুলহুলিয়া, সিঙ্গা-কাজীরহাট সড়ক, সোনাবাড়িয়া-মাদরা-ভাদিয়ালি সড়ক, দমদম-পাঁচপোতা, খোরদো-দেয়াড়া সড়ক উল্লে¬খযোগ্য। এ ছাড়া কলারোয়া পৌর এলাকার অভ্যন্তরীণ সকল পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যান চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছে সবগুলো সড়ক। পৌর এলাকার বেশির ভাগ ওয়ার্ড এবারের বর্ষায় পানি নিমজ্জিত থাকায় পাকা সড়কগুলোর ভীষণ ক্ষতি হয়েছে। যা বর্ষার পর পরই জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন বলে জানান পৌর মেয়র আকতারুল ইসলাম।

কলারোয়া উপজেলা প্রকৌশলী আবেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান,  উপজেলার গ্রামীণ জনপদের চলাচল উপযোগী ৭১৯ কি.মি. সড়কের মধ্যে ১৫৯ কি.মি পাকা, ১৩ কি.মি সড়ক খোয়া আচ্ছাদন ও ৫৪৭ কি.মি সড়ক কাঁচা। ক্ষতিগ্রস্ত দু’টি সড়ক প্যাকেজ আকারে সংস্কারের আওতায় নেয়া হয়। যার বাস্তবায়ন বর্ষার অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া শতভাগ সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে হামিদপুর আরএন্ডএইচ (বটতলা)-জালালাবাদ ইউপি অফিস পর্যন্ত। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। বরাদ্দ মিললেই টেন্ডার দেয়া হবে।