তালায় আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশের এএসআই আটক


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৮, ২০১২ ||

তালা প্রতিনিধি: তালায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে আটক হয়েছেন রফিকুল ইসলাম (৩২) নামের পুলিশের এক এএসআই। তিনি তালা থানার খলিলনগর পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপ-শহরের একটি গেস্ট হাউজ থেকে তিনি আটক হন। ওই রাতেই পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। আর গভীর রাতে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ওই নারীকে। অথচ আইনে আছে, এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ২৯০ ধারায় মামলা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা। কিন্তু তালা থানা পুলিশ তা করে নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আসলে পুলিশ বলে কথা! জনতা ধরে থানায় দেওয়ার পরও পুলিশ ব্যবস্থা নেয় নি। বরং পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতে ওই রাতেই মহিলাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। না হলে তাদের ২৯০ ধারার মামলায় আদালতে পাঠাতেন। তবে অভিযুক্ত এএসআই রফিকুল ইসলাম ওই মহিলাকে প্রথমে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করলেও পরে অকপটে তিনি নিজ দোষ স্বীকার করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ওই নারীর বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায়। তার দু’টি বাচ্চাও রয়েছে। তবে তার স্বামী মাদকাসক্ত। ওই নারীর মাদকাসক্ত স্বামী দু’বছর আগে এএসআই রফিকুল ইসলামের হাতে আটক হয়। সেই থেকে ওই নারীর সঙ্গে এএসআই রফিকুল ইসলামের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। মোবাইল ফোনে তাদের কথাবার্তা চলতো। বিভিন্ন স্থানে তারা একত্রে বেড়ানোর পাশাপাশি রাতযাপনও করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই মহিলা বাবার বাড়ি থেকে ছেলে-মেয়ে আনার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়। এরমধ্যে এএসআই রফিকুল মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তিনি ওই মহিলাকে পাটকেলঘাটা থেকে তালায় নিয়ে আসেন। পরে মোটর সাইকেল গ্যারেজের পাশে একটি গেস্ট হাউজে ওঠেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এএসআই রফিকুল ইসলাম ও এক নারী ওই গেস্ট হাউজের সামনে আসেন। পরে ওই গেস্ট হাউজের একটি রুম ভাড়া নেন তারা। এসময় তাদের দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ওৎ পেতে থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যায় ওই গেস্ট হাউজের তিন তলার একটি রুমে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখেন। এসময় এএসআই রফিকুল ইসলাম নিজেকে বাঁচানোর জন্যে লোকজনের সামনে তাকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। পরে লোকজন উপর তলা থেকে নিচে এসে একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়ায়। হঠাৎ করে এএসআই রফিকুল ইসলাম এবং ওই নারী গেস্ট হাউজ থেকে বেরিয়ে এসে মোটর সাইকেল যোগে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা তাদের ধরে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে ওই নারীকে থানার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়। এক পর্যায়ে মহিলা পুলিশদের বাসায় নিয়ে ওই নারীকে গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে গভীর রাতে মহিলাকে ছেড়ে দেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন ওঠেছে। সকলে বলছেন,‘পুলিশ বলে কথা’।

তালা থানার ওসি রবিউল ইসলাম ওই নারীকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার অভিযোগে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। ওই ক্যাম্পে থানার এএসআই বদিয়ার রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।