তালায় নিক্ষেপকারীকে বাদ দিয়ে বোমা হামলা মামলায় চার্জশিট


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২ ||

তালা প্রতিনিধি: তালায় বোমা বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্তদের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বোমা নিক্ষেপকারীকে আড়াল করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলায় অভিযুক্ত বোমা নিক্ষেপকারীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দেওয়া হয়েছে মারামারি মামলায়। আর মারামারি মামলার আসামিকে ওই মামলার বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১১ মাস ৬ দিন পরে পুলিশ গত ২৯ আগস্ট আদালতে ওই অভিযোগপত্র দিয়েছেন। অথচ আইনে আছে, মামলা হওয়ার তিন মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শেষ করতে হবে। তবে মামলার আলামত পরীক্ষা বা তদন্ত কাজ শেষ করতে দেরি হলে আদালতের কাছে থেকে সময় নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর জামিনে এসে মামলার সাক্ষী ও বাদীসহ তার পরিবারের লোকজনদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

মামলার বাদীর অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফকির পান্নু মিয়া আসামি আটকের কোনো চেষ্টা করেন নি বরং বিষয়টি নিয়ে তিনি নানা ধরনের তালবাহানা করেছেন। মামলার খরচ বাবদও নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। দুই মাসের মধ্যে আলামত নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে মামলার মোটিভ ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টাও করেছেন তিনি। কারণ অভিযুক্তদের সঙ্গে তার ছিল দরহম-মরহম। তবে ডাক্তার তার রিপোর্টে বোমা বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করেছেন। যে কারণে তিনি মূল আসামিদের আড়াল করে অন্যের নামে বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের আলী হোসেন সরদারদের সাথে একই গ্রামের আব্দুল কাদেরদের পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিল। সেই সূত্র ধরে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্ত হাকিম সরদারের বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বের সরকারি রাস্তায় খালের উত্তর পার্শ্বে পৌঁছালে পূর্র্ব পরিকল্পিতভাবে আব্দুল কাদেরসহ তার পক্ষের লোকজন রাম দা, লোহার রড, চাইনিচ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় অভিযুক্তরা বোমাও নিক্ষেপ করে। এতে কয়েক জন আহত হয়। আহতদের তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় আলী হোসেন সরদার বাদী হয়ে বোমা নিয়ন্ত্রণ আইনসহ কয়েকটি ধারায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫/১৬ জনকে অভিযুক্ত করে তালা থানায় একটি মামলা করেন। যার মামলা নং ২০ তারিখ ২৩-০৯-১২ ইং। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তালা থানার সেকেন্ড অফিসার ফকির পান্ন্ু মিয়াকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (মামলায়) অভিযুক্তরা হলেন, হরিহরনগর গ্রামের কফিল উদ্দীনের ছেলে আব্দুল কাদের সরদার (৩৮), তার ছেলে আলমগীর সরদার (২৫), জাহাঙ্গীর সরদার (২৮), হাকিম সরদারের ছেলে সাইদ সরদার (২২), সাদ্দাম হোসেন সরদার (২০), হাসানুজ্জামান ফটিক (৩৫), মনিরুজ্জামান সরদার (২৪), টুটুল সরদার (২৭), শেরে বাংলা সরদার (৩২), দেলদার সরদারের ছেলে কারি সরদার (৩৫), গোলাপ নবীর ছেলে সাইফল্লাহ সরদার (২৫), কফিল উদ্দিন সরদারের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০), আব্দুল হাকিম সরদার (৬৫), দেলদার সরদার (৫৫)সহ ১৫/১৬ জন।

মামলার সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, মামলা হওয়ার পরই তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সেখানে বোমা ফাটানো ও নিক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংগ্রহ করা হয় বোমা ফাটানোর বিভিন্ন সরঞ্জামসহ মামলার আলামত। তবে অভিযোগপত্র দেওয়ার সময়ে দেখানো হয়েছে বোমাটি পানিতে বিস্ফোরিত হওয়ায় আলামত সংগ্রহ করা যায় নি।  অন্যদিকে ডাক্তারি রিপোর্টে বোমার ¯িপ্রন্ট এর আঘাতে একজন আহত হয়েছে উল্লেখ করে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিস্ফোরণ ও মারামারি অভিযোগ এনে একই দিনে দু’টি অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়েছে। যার নং ১৫৮। তারিখ ২৯/০৮/১২। মারামারির অভিযোগপত্রে ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬ ধারায় ১৪ জনের নামে অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়েছে। আর ওই মামলা থেকে আব্দুল কাদের সরদারের নামে শুধু মাত্র বিস্ফোরণ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন কারি সরদার বোমা নিক্ষেপ করে এবং জাহাঙ্গীর সরদার, সাইদ সরদার, মনিরুজ্জামান সরদাররা বোমা নিয়ে বাদী এবং সাক্ষীদের উপর ওই দিন হামলা চালায়। তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাদের সরদারের নামে বিস্ফোরণ মামলার অভিযোগ এনে চার্জশিট দিয়েছে। অর্থের বিনিময়ে বোমা হামলায় অভিযুক্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও বাদীর অভিযোগ।

মারামারি মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল কাদের সরদার বলেন, বোমা নিক্ষেপ করে কারি সরদার। বোমা হামলার ঘটনায় কারি সরদারসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন বাদী। পরে তদন্তে’র নামে পুলিশ কারি সরদারসহ অন্যান্য আসামিদের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের নাম মারামারি মামলায় দিয়েছে। আর আমার নামে বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে চার্জশিট দিয়েছেন। তদন্তকারী অফিসারের চাহিদামত টাকা দিতে না পারায় আমার নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফকির পান্নু মিয়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

তালা থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, মামলার চার্জশিট দাখিল করতে দেরি হয়েছে। কারণ আমার হাত পা বাধা। সেকেন্ড অফিসার ফকির পান্নু মিয়া আমার কথা শোনে না। সে তার ইচ্ছা মত চলে।