বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২ ||

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর জেলার গোয়ালহাটিতে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের যুদ্ধস্থল ও সমাধিতে সম্মাননা প্রদর্শন করেন নবীন প্রজন্ম জাগরণের সংগঠন নব মুক্তিসেনা এবং শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের শাহাদাৎ বার্ষিকী উদ্যাপন কমিটি। এসময় আরো সম্মাননা প্রদর্শন করেন যশোর জেলার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাাফিজুর রহমান, যশোর জেলা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র ভারপ্রাপ্ত সিও মেজর গালিব, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে গোলাম মোস্তফা, শার্শা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ, নব মুক্তিসেনা সংগঠনের আহবায়ক ডা. সুব্রত ঘোষ, যুগ্ম আহবায়ক অয়ন মজিদ, যুগ্ম আহবায়ক এএসএম আল ফাত্তাহ ইমন, সদস্য ইমরান, বিশ্বজিৎ ঘোষ, সোহান প্রমুখ। জাতীয় সংগীত, ৪১টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ১ মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের প্রতি সম্মাননা প্রদর্শন করা হয়। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর তিন লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা আজ সংকটাপন্ন। স্বাধীনতা বিরোধী ও উগ্রপন্থী মৌলবাদী চক্র বিভিন্নভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দেশের নবীন প্রজন্মকেই হাল ধরতে হবে। অত্যন্ত পরিতাপরে বিষয়, স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের মত বাংলা মায়ের অসংখ্য বীর যোদ্ধাদের আমরা স্মরণ করতে পারি নি সেভাবে। জাতীয় কোন প্রিন্টিং এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে এইসব বীর যোদ্ধাদের জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ করা হয় না। রাষ্ট্রীয়ভাবেও ততটা গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের স্মরণ করা হয় নি আজও। শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে দায়সারাভাবে তাঁদের স্মরণ করা হয়। এমনকি তাঁদের পরিবারের প্রতিও কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থার আশু উত্তরণ প্রয়োজন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন পট পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বাধীনতার বিরোধীরা ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে। তারা আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করতে চেয়েছে বিভিন্ন উপায়ে। স্বাধীনতার সূর্য সন্তানদেরকে স্মরণ না করা তারই অংশ মাত্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রাপ্ত এই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াবার অংগীকার ব্যক্ত করে। বক্তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মা-মাটি-দেশকে রক্ষার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের বিরুদ্ধে পরম বীরত্ব আর সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করতে করতে শাহাদাৎ বরণ করেন শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি