তালায় ফের কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, চার গ্রাম প্লাবিত


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১২ ||

তালা প্রতিনিধি: শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের গোপালপুর ময়রাঘাট নামকস্থানের ২০ হাত ও ঘোষপাড়া খেয়াঘাট নামক স্থানে ৩০ হাত বেড়িবাঁধ কেটে দিয়েছে। এতে জোয়ারের পানিতে ইসলামকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়নের চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অবিলম্বে বাঁধ মেরামত না করা গেলে আরো কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইসলামকাটি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বেনেপাড়ার রামপদ দত্ত, কৃষ্ণপদ দত্ত, জেলেপাড়ার সত্য চরন বিশ্বাস, হরিপদ বিশ্বাসসহ কয়েকজন জানান, গত বছর বর্ষাকালে  কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে তালার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তা ও বেড়িবাঁধের উপরে আশ্রয় নেয়। ফসল নষ্ট হয়ে মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে থাকে। বেসরকারি ও সরকারিভাবে ত্রাণ পাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আবার একটি মহল বিলের পানি সেচ দিয়ে জমিন মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি মাছ বিক্রি করে বহু টাকা লাভবান হয়।

গোপালপুর গ্রামের সামাদ গাজী, রহিম গাজীসহ কয়েকজন জানান, গোপালপুর গ্রামের প্রশান্ত নন্দী, দীলিপ আইচ, গব্বলসহ উথালিম চাঁদপুর ও ঘোনায় বেশ কিছু লোক দীঘূদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছে। গত বারের বন্যায় ওইসব ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানি কমে যাওয়ার পর জমির মালিকদের কাছ থেকে পানি সেচ দিয়ে চাষ উপযোগী করার নামে সুশীল দাস, আসাদুল শেখসহ একটি মহল টাকা আদায় করে। পানি সেচ দিয়ে তারা কয়েকজন মিলে সাত থেকে আট লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে লাভবান হয়। এবারেও একইভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ওই মহলটি গত ২১ আগস্ট রাতে গোপালপুর স্লুইস গেটের ২০০ মিটার দক্ষিণে কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধ ভেঙে দেয়। গোপালপুর খাল দিয়ে জোয়ারের পানি বিলে তোলার জন্য পাঁচ ভেন্টের স্লুইস গেটের একটি কপাট ভেঙে দেওয়া হয়।

তারা অভিযোগ করে বলেন, ওই মহলটি শুক্রবার রাত ১২টার দিকে গোপালপুর ময়রাঘাটা নামকস্থানে কপোতাক্ষের ২০ হাত বেড়িবাঁধ কেটে দিয়েছে। ফলে জোয়ারের পানিতে গোপালপুর গ্রামের বেনেপাড়া, জেলেপাড়া, উথালি, চাঁদপুর গ্রামের শতাধিক বাড়ি পানিতে ডুবে ও এক ৫০০ বিঘার মত চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। সকালে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁশ, বেড়া ও মাটির বস্তা দিয়ে  বাঁধ মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এভাবে বাঁধ মেরামত করলে কয়েক ঘণ্টা না যেতেই আবারো বাঁধ ভেঙে যাবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

একইভাবে ঘোষনগর গ্রামের আব্দুল আলিম, সোহারাব হোসেনসহ কয়েকজন জানান, এখানকার বিলে ধান চাষের পরিবর্তে  চিংড়ি ঘের করার জন্য একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ওই মহলটি পরিকল্পিতভাবে শুক্রবার গভীর রাতে ঘোষনগর খেয়াঘাট থেকে গোনালী নলতার দিকে কপোতাক্ষের ৩০ হাত বেড়িবাঁধ কেটে দিয়েছে। ফলে ঘোষনগর গ্রামের ৫০টির বেশি বাড়ি জলমগ্ন ও দুই শত বিঘা চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। স্থানীয় উদ্যোগে ওই বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দেখতে পানি উন্নয়র বোর্ডের কোন কর্মকর্তা না আসায় এলাকাবাসী ক্ষোভ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনদ কুমার বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যেয়ে বলেন, ভাঙন কবলিত নদীবাঁধ মেরামতের জন্য উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় গ্রামবাসী চেষ্টা করে চাচ্ছে। সন্ধ্যার আগেই বাঁধ মেরামত করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান, মজবুতভাবে বাঁধ মেরামতের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড- ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। বিষয়টি দেখশুনা করার জন্য একজন উপসহকারি প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে।