আইলা বিধ্বস্থ গাবুরা’য় সংবাদ সম্মেলন: রুপান্তরের অর্থ সহায়তা প্রদানে আর্থিক সুবিধা গ্রহনের অভিযোগ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১২ ||

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: রুপান্তরের মাধ্যমে গাবুরা’র ৯ নং সোরা গ্রামের দুর্গত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রদত্ত অর্থ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে নাম কর্তনের ভয় দেখিয়ে মাথাপিছু আড়াই থেকে তিন হাজার পর্যন্ত টাকা গ্রহনসহ অনেক সুস্থ এবং স্বচ্ছল ব্যক্তি উক্ত অর্থ সহায়তার আওতায় এলেও অনেক হত দরিদ্রকে বিমুখ করার অভিযোগ উঠেছে।

শ্যামনগর উপজেলার আইলা বিধ্বস্থ গাবুরা ইউনিয়নের দৃষ্টিনন্দন-এ জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

গতকাল দুপুরে সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতিতে ৯ নং ওয়ার্ডের সোরা গ্রামের জিএম আবিয়ার রহমান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় স্থানীদের মধ্যে আমজাদ হোসেন, জয়নব বেগম, বিল্লাল হোসেন, আল আমিন, মজিদ মাঝি, আকবর বৈদ্য, শরিফা খাতুন, লাবনী বেগমসহ অসংখ্য গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থ সহায়তা নিয়ে রুপান্তর গাবুরা’য় সাত মাসের একটি প্রকল্প চালু করে। আইলা’য় বিধ্বস্থ জনপদে পরিনত হওয়া গাবুরা’র দুর্দশাগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত উক্ত প্রকল্পের আওতায় নানামুখি উন্নয়নমুলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় মাথাপিছু দশ হাজার করে টাকা দেয়ার জন্য প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে ৯ নং ওয়ার্ডের ১৭৫ জন নারী পুরুষকে নির্বাচন করে প্রাথমিক একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। রুপান্তরের সেলিম ও বিকাশ উক্ত তালিকা প্রস্তুতে মুল ভুমিকা পালন করে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় প্রথম দফা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার পর তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার ভয় দেখিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন মাথাপিছু আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আদায় করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিবন্ধী শাহিনুর রহমান দাবি করেন যে তার কাছে ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন নাম কর্তন না করার শর্তে তিন হাজার টাকা দাবি করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন রুপান্তরের ফিল্ড অফিসার বিকাশ তাকে অসংখ্যবার প্রতিশ্রুতি দিলেও শুধু টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তালিকা থেকে তার নাম বাদ যায়।

লাবনী বেগম জানান তিনি নিজে সুবিধাভোগীর তালিকায় জায়গা পেতে এক হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আরও এক হাজার টাকা দিতে সক্ষম না হওয়ায় তার ভাগ্যে শিঁকে ছেড়েনি।

একইভাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জিয়াদ ঢালীর স্ত্রী জামিরণ বিবি জানান তাকে টাকা দেওয়ার জন্য প্রথমে তালিকাবুকত্ত করা হয় কিন্তু টাকা না পেয়ে মেম্বর পরবর্তীতে তার নাম বাদ দেয়। এছাড়া আল মামুন, হালিমা বেগম ও আব্দুর রউফসহ অন্যরা জানায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের ছেলে মোজাহিদ তালিকায় পরিবারের প্রতিবন্ধী সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে তাদের নিকট থেকে দুই হাজার করে টাকা গ্রহন করেছে।

কিন্তু তালিকা ইউপি সদস্যরা করেছিল কিনা জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় রুপান্তর তালিকা করলেও স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তারা টাকা উত্তোলন করেছে। এই অনিয়মের সাথে তালিকা প্রস্তুতের সাথে জড়িত রুপান্তরের দুই মাঠ কর্মকর্তা বিকাশ ও সেলিমের নাম উল্লেখ করেন অভিযোগকারীরা।

স্থানীয়রা তাদেরকে প্রাথমিক তালিকাভুক্তি করার প্রমানপত্র সাংবাদিকদের দেখিয়ে দাবি করেন শুধুমাত্র উৎকোচ না দেয়ায় তারা তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। গ্রামবাসীরা অবিলম্বে রুপান্তরের দুই ফিল্ড অফিসারসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যের আর্থিক অনিয়মের তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছে।

এবিষয়ে মুটোফোনে রুপান্তরের ফিল্ড অফিসার বিকাশ বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসংখ্যবার তাদের অফিসে যেয়ে কথা বলার আহবান জানান। পরবর্তীতে এবিষয়ে উর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানালে তাকে বলা হয় তালিকা তো আপনি প্রস্তুত করেছেন, সেক্ষেত্রে উর্ধ্বতনরা কি তথ্য দিতে  পারবে- বলে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,  আমরা কোন তালিকা করিনি। অক্সফাম তালিকা করেছে দাবি করে তিনি বলেন “আমরা টাকা নিয়ে তালিকা প্রস্তুত করেছি বলে যদি অভিযোগ করেন তবে বলার কিছু নেই”।

এবিষয়ে ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনি কোন তালিকা প্রস্তুত করেননি। তালিকা তৈরী এবং টাকা বন্টনের দায়িত্ব রুপান্তর নিজে সম্পাদন করে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের সাথে কয়েক মাস পুর্বে মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার সুত্র ধরে প্রতিপক্ষরা তাকে হেনস্থা করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তবে  তিনি দাবি করেন রুপান্তর তালিকা তৈরী করায় অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি সুবিধাভোগীর তালিকায় জায়গা পেয়েছে। তার হাতে তালিকা তৈরীর সুযোগ থাকলে অনেক প্রতিবন্ধী জায়গা পাইতো বলেও তিনি দাবি করেন।