কালিগঞ্জের বিটিজিআর হাইস্কুলের নির্বাচনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ, মামলা


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০১২ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের লক্ষ্যে তপশীল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীরা গত ০৪/১১/১২ তারিখে শিক্ষক প্রতিনিধি পদসহ বিভিন্ন পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তা পূরণপূর্বক জমা দেন। গত ০৭/১১/১২ তারিখে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ মনোনয়নপত্রের তালিকা প্রকাশের দিনে নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান উপস্থিত প্রার্থী, প্রস্তাবক, সমর্থক ও অভিভাবকদের সম্মুখে দু’জন পুরুষ শিক্ষক প্রতিনিধি পদের বিপরীতের দাখিলকৃত চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়ে গত ১২/১১/১২ তারিখে তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তিনি ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি প্রার্থী যথাক্রমে রায়হানুল হক, মনোয়ারুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনের মনোনয়পত্র বাতিল ঘোষণা করেন। ওই তিন শিক্ষক প্রতিনিধির মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি প্রতিকারের জন্য শহিদুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক প্রতিনিধি প্রার্থী ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের রিটানিং অফিসার ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বরাবর লিখিত আবেদন জানান।

কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অবশেষে বুধবার ১৪/১১/১২ তারিখে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালতে (কালিগঞ্জ) যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার আরজিতে প্রিজাইডিং অফিসার ঘোষিত নির্বাচনী তপশীল অমান্য, সরকারি প্রবিধান ৭ (১) (ঘ) অমান্য করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা, একই অভিভাবককে ভোটার তালিকায় দু’স্থানে নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ভোটার তালিকায় ছাত্র ও অভিভাবকের নাম একই হওয়া, দাতা সদস্য হওয়ার জন্য এককালীন ২০ হাজার টাকা নির্বাচনের তপশীল ঘোষণার ১৮০ দিন পূর্বে স্কুলের তহবিলে জমা না হওয়া ও শিক্ষক প্রতিনিধি পদের জন্য তৈরীকৃত ভোটার তালিকায় অন্য বিদ্যালয়ে চাকুরিরত শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করাসহ ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয়। তাছাড়া ভোটার তালিকা তৈরী ও দাতা সদস্যসহ অন্যান্য যে সব অনিয়মের অভিযোগ করা হচ্ছে তার সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এগুলো ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান দায়িত্বরত সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।