জেলা বাকশিস প্রণীত ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁস! কাশিমাড়ীতে উচ্চ মাধ্যমিকের নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০১২ ||

নিয়াজ কওছার তুহিন/রবিউল ইসলাম: বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) সাতক্ষীরা জেলা শাখা প্রণীত উচ্চ মাধ্যমিক নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সাতক্ষীরার বিভিন্ন কলেজে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষা বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) সাতক্ষীরা জেলা শাখা প্রণীত প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৮ নভেম্বর থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়। এদিকে বুধবার অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে সংগৃহীত প্রশ্নপত্রের সাথে বাকশিস’র প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়। এ খবর জানার পর দু’একটি কলেজে প্রশ্নপত্র আংশিক সংশোধন করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ কলেজ ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে বলে জানা গেছে। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র কিভাবে এবং কোন কলেজ থেকে ফাঁস হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর জানাজানির পর পরীক্ষার্থীর মধ্যেও পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটির গাফিলতির কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া কমপক্ষে ৩ সেট প্রশ্নপত্র তৈরি এবং সরবরাহের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। নির্বাচনী পরীক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের অবহেলার দায় শিক্ষক সমিতি কোনভাবে এড়াতে পারেন না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর শিক্ষক সমিতি আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁসের কারণে কাশিমাড়ীতে বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার ছিল ইংরেজি ২য়পত্র পরীক্ষা। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য শ্যামনগরসহ সমগ্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ উক্ত পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।