বাঘ পাচারে কিছু হয় না, তাই বানরকে পিটিয়ে হত্যা


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৭, ২০১২ ||

সামিউল মনির, শ্যামনগর: “বাঘের বাচ্চা পাচারের পর তাই কিছু হলো না, তাতি বানর মারলি কি হবে?”  সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে আসা একটি বানরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত কিনা জানতে চাইলে এভাবেই উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেয় আজিজুল ইসলাম। তার দাবি বানরটি লোকালয়ে ঢুকে মানুষকে উপর আক্রমণ করতে পারে- এমন সন্দেহে সম্মিলিতভাবে গ্রামবাসী বানরটিকে মেরে ফেলেছে। তিনি আরও দাবি করে বলেন, সুন্দরবন থেকে তিনটি বাঘের বাচ্চা পাচারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তুললেও অভিযুক্তদের টিকিটি পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি কেউ। তাতে বানরের মত একটি ছোট প্রাণি মারলে কি ফাঁসি হবে?

শ্যামনগর উপজেলার পূর্ব পোড়াকাটলা গ্রামে শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার পর সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আজিজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বানরটিকে পাশের খোলপেটুয়া নদীতে ফেলে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, আগের দিন বিকালে সুন্দরবন থেকে একটি বড় আকৃতির বানর ভাটার সময় নদী সাতঁরে দুর্গাবাটি গ্রামে চলে আসে। বিকাল থেকে বানরটি দুর্গাবাটি ও পাশের পোড়াকাটলা গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা এবং গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়। এক পর্যায়ে শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে পোড়াকাটলা গ্রামের তফছীর গাজীর দুই ছেলে আজিজুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামসহ আরও অন্তত ৮/১০ জন মিলে বানরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, খাবার দেওয়ার ভনিতা করে আজিজুল বানরটিকে কাছে টেনে নিয়ে হাতে লুকানো লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর অন্যরা একত্রে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। অল্পক্ষণ বাদেই তারা বানরটিকে পাশের নদীতে ফেলে দেয় বলেও এসব স্থানীয়রা জানান।

এদিকে বানরটিকে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল ইসলাম সূচনা মন্তব্যের পাশাপাশি আরও জানান, বানরটি কোন ক্ষতি করলে তার দায় দায়িত্ব কেউ কি নিত? দুর্ঘটনার আশংকায় বানরটিকে মেরে ফেলে হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে স্থানীয়রা দাবি করেছেন সুন্দরবন থেকে প্রায় বানর নদী সাতঁরে এপারে চলে আসার পর স্থানীয় একটি চক্র পিটিয়ে তাদেরকে হত্যা করে। ইতোপূর্বে এধরনের একাধিক ঘটনা গটে বলেও তারা দাবি করে।

এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার হাসান কবির বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশিক্ষণের জন্য আমরা খুলনাতে অবস্থান করছি। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ফিলে এসেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি এই মাত্র শুনলেন। খোঁজ নেয়ার পর এঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।