শ্যামনগর মুক্ত দিবস আজ, নানা কর্মসূচি গ্রহণ


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৯, ২০১২ ||

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: আজ ১৯ নভেম্বর শ্যামনগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শ্যামনগরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দেশের প্রথম যুদ্ধমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গৌরবান্বিত হয় শ্যামনগরবাসী।

সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলা শ্যামনগরে ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট পাক বাহিনীর অর্তকিত আক্রমণে প্রাণ হারায় ৪ মুক্তিযোদ্ধা। এরা হলেন সুবেদার ইলিয়াস, আবুল কালাম আযাদ প্রমুখ। এ দিনে আরো কয়েক জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। আকস্মিক এ আক্রমণের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে না। গেরিলা যুদ্ধের কৌশল হিসাবে মুক্তিযোদ্ধারা লে. মাহফুজ বেগের নেতৃত্বে শ্যামনগর সদর থেকে ক্যাম্প পিছিয়ে নেন। আর এ দিন থেকে পাকবাহিনী স্থায়ীভাবে ঘাটি গাড়ে শ্যামনগরে। এ সময় থেকে টানা ৩ মাস পাকবাহিনী শ্যামনগর দখলে রাখে এবং তাদের হাতে প্রাণ হারায় কয়েক শত বাঙালি।

শ্যামনগরের মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবুল হোসেন জানান, টানা তিন মাসে পাকবাহিনী শ্যামনগর সদরে ৫/৬ বার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তার মধ্যে শ্যামনগর পাক হানাদার ঘাটিতে এক দিনে চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এমবুশ করে এবং টানা ৩ ঘণ্টা যুদ্ধের পর ৪ পাক সেনা নিহত হয়। এ সময়ের মধ্যে শ্যামনগরের কৈখালী, ভেটখালী, হরিনগর, রামজীবনপুর, গোপালপুরে পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। জানা যায়, কৈখালী ও হরিনগর এলাকায় নৌকমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা বাহিনী যৌথভাবে টানা তিন ঘণ্টা ভয়াবহ যুদ্ধে অংশ নেয়। শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে ও ১৮ নভেম্বর রাতের আধারে শ্যামনগর ত্যাগ করে। পরপরই মুক্তিযোদ্ধারা এসে শ্যামনগর দখল নেয়। এর পর স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে শ্যামনগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড উপজেলা সদরে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা শ্যামনগর কমান্ডের কমান্ডার দেবী রঞ্জন মন্ডলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা এ কে ফজলুল হক।