ফলোআপ: কালিগঞ্জের বিটিজিআর স্কুলের নির্বাচন স্থগিত: ইউএনও ও শিক্ষা অফিসারসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ


প্রকাশিত : নভেম্বর ২৫, ২০১২ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ বিচারক নির্বাচন স্থগিত করেছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞ আদালত কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শনোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তপশীল অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীরা গত ০৪/১১/১২ তারিখে শিক্ষক প্রতিনিধি পদসহ বিভিন্ন পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তা পূরণপূর্বক জমা দেন। গত ০৭/১১/১২ তারিখে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ মনোনয়নপত্রের তালিকা প্রকাশের দিনে নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুর রহমান উপস্থিত প্রার্থী, প্রস্তাবক, সমর্থক ও অভিভাবকদের সম্মুখে দু’জন পুরুষ শিক্ষক প্রতিনিধি পদের বিপরীতের দাখিলকৃত চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে গত ১২/১১/১২ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি প্রার্থী যথাক্রমে রায়হানুল হক, মনোয়ারুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনের মনোনয়পত্র বাতিল ঘোষণা করেন। ওই তিন শিক্ষক প্রতিনিধির মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি প্রতিকারের জন্য শহিদুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক সদস্য পদের প্রার্থী ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের রিটানিং অফিসার ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বরাবর লিখিত আবেদন করলেও তিনি এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। এসব কারণ উল্লেখ করে গত ১৪/১১/১২ তারিখে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালতে (কালিগঞ্জ) যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার আরজিতে প্রিজাইডিং অফিসার ঘোষিত নির্বাচনী তপশীল অমান্য, সরকারি প্রবিধান ৭ (১) (ঘ) অমান্য করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করা, একই অভিভাবককে ভোটার তালিকায় দু’স্থানে নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ভোটার তালিকায় ছাত্র ও অভিভাবকের নাম একই হওয়া, দাতা সদস্য হওয়ার জন্য এককালীন ২০ হাজার টাকা নির্বাচনের তপশীল ঘোষণার ১৮০ দিন পূর্বে স্কুলের তহবিলে জমা না হওয়া ও শিক্ষক প্রতিনিধি পদের জন্য তৈরীকৃত ভোটার তালিকায় অন্য বিদ্যালয়ে চাকুরিরত শিক্ষকের নাম অন্তর্ভূক্ত করাসহ ৮ টি সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। মামলার আরজি বিবেচনাপূর্বক আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করেছেন। তাছাড়া মামলার বিবাদি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুর রহমান, বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল বারি গাজী ও প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার স্বর্ণকারকে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার স্বর্ণকার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুর রহমান তড়িঘড়ি করে আহবায়ক কমিটি গঠনের জন্য চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকার অভিভাবকসহ সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার স্বর্ণকারের নিকট জানার জন্য তার ০১৭৩৫৬০৭৮৯৯ নম্বরে অনেক বার যোগাযোগ করলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

 



error: Content is protected !!