কালিগঞ্জে ভূমি সংস্কার বিষয়ক কর্মশালা


প্রকাশিত : নভেম্বর ৩০, ২০১২ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে ভূমি সংস্কার বিষয়ক কর্মশালা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের অতিরিক্ত সচিব আজমল হোসেন। কর্মশালায় উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো ও সকল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি ভূমি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি রাজস্ব, খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, নামজারি, জমাভাগ ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় সম্পর্কে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় প্রধান অতিথি খাস জমিতে  সরকারি দখল নিশ্চিতের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করার জন্য গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নানা প্রকার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। যে সব ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে, কার্যক্রমের সুবিধার্থে সেখানে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদান করা হবে বলে কর্মশালায় জানান।

ফলোআপ: কালিগঞ্জে জাপা’র দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, পত্রদূত’র খবরে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলা জাপা’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা উপজেলা জাপা’র সভাপতি মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত জাপা’র কর্মী সমাবেশে তাদের পুঞ্জিভুত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটায়। জাপা’র ওই কর্মী সমাবেশে জেলা যুগ্ম সম্পাদক খালেদুর রহমান, উপজেলার সাবেক সভাপতি ও কুশলিয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান খান বাবলু, উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম সুরত আলী, মৌতলা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মীর আলী মোত্তর্জা, মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদ আলম, উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীন, মথুরেশপুর ইউনিয়ন সভাপতি বাকিয়ার রহমানসহ বেশকিছু নেতাকর্মী বক্তব্য প্রদান করলেও মূলত উপজেলা জাপা’র সাধারণ সম্পাদক ও কৃষ্ণনগর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান কেএম মোশারাফ হোসেনের নেতৃত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলে জাপা দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

এদিন নেতাকর্মীরা জাপাকে গণবিচ্ছিন্ন করার জন্য উপজেলা জাপা’র সভাপতি মাহবুবর রহমানকে দায়ী করেন। এছাড়াও মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে উগ্র আচরণ, গালিগালাজসহ নানা প্রকার অসদাচারণের অভিযোগ উত্থাপন করেন। বিগত চার বছরে সভা সমাবেশ না করা, এমপি’র বিশেষ উন্নয়নের বরাদ্ধ আত্মসাত, এমপি’র ডিও লেটারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্য হয়ে আত্মীয়করণ এবং নিয়োগ বাণিজ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন, যা এখন ওপেন সিক্রেট। এসব ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ব্যাপক ভাবে নষ্ট হয়েছে। উপজেলা সভাপতি মাহবুবর রহমানের এসব কর্মকাণ্ড পরোক্ষভাবে এলাকার সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমপি এইচএম গোলাম রেজা এলাকার উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিলেও মাহবুবর রহমান ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার কারণে এলাকার জনগণ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপজেলা সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তাছাড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কেএম মোশারাফ হোসেন ফতেপুরে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত হাজতবাস করার ফলে সভাপতি মাহবুবর রহমান একক কর্তৃত্ব গড়ে তোলে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর  এসব ঘটনা এমপি এইচএম গোলাম রেজার গোচরিভুত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সন্দিহান বলে সূত্র জানিয়েছে। এদিকে উপজেলা জাপা’র সভাপতি বিগত কয়েকদিন যাবত দিল্লীতে অবস্থান করছেন। তবে দু’একদিনের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন বলে জাপা’র একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তিনি ফিরে আসার পর পাল্টা কর্মী সমাবেশ বা অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। এর আগে জাপা’র চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় সফরে এলে কালিগঞ্জ উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ একটি বৃহৎ অংশ সভাপতিকে বাদ দিয়ে শুভেচ্ছা মিছিল করে। কয়েকদিন পর সভাপতির পক্ষ থেকেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়। জাপা চেয়ারম্যানের সফর শেষে দ্বন্দ্বের বিষয়টি আপাত নিরসন হয়েছে বলে ধারণা করা গেলেও মঙ্গলবারের কর্মী সমাবেশে তা আবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

এদিকে জাপা’র কর্মী সমাবেশে উপজেলা সভাপতির বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ক্ষোভের বহি:প্রকাশের বিষয়টি দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দলের নেতাকমীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জাপা’র নেতাকর্মীসহ ভুক্তভোগিরা দৈনিক পত্রদূত সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে পত্রিকার কপি না পেয়ে প্রকাশিত সংবাদটি ফটোকপি করে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপা’র কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, মাহবুবর রহমানের দুর্নীতি ও অন্যান্য বিষয়ে যারা এতদিন নীরব ছিলেন তারাও সোচ্ছার হতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরের জন্য এমপি প্রদত্ত উন্নয়ন বরাদ্দের চাউল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে না দিয়ে নিজে বিক্রি করে তা থেকে টন প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা কমিশন নিয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বরাদ্ধ দেয়া এ সব প্রকল্প থেকে টাকা কমিশন নেয়ায় সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা এলাকায় সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়ছেন। এমনকি সভাপতি অনেক ভূয়া পকল্প দেখিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে তারা জানিয়েছেন। তাছাড়া মাহবুবর রহমান এমপি এইচএম গোলাম রেজার নিকট তথ্য গোপন করে একাই চারটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সেই সাথে তিনি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে তার তুঘলকি আচরণে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত না হয়েও শুধুমাত্র এমপি’র ডিও লেটার নিয়ে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির হর্তকর্তা হয়ে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে বিরূপ আচরণের বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যেও খারাপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এ সব বিষয়ে এমপি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এর দায়দায়িত্ব তিনি এড়াতে পারবেন না বলে সচেতন মহল মনে করছেন। সে কারণে সকল ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করাসহ উপজেলা জাপা’র দুর্নীতিবাজ সভাপতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলীয় নেতাকর্মীরা জাপা’র জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দসহ এমপি এইচ এম গোলাম রেজার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 



error: Content is protected !!