কালিগঞ্জ উপজেলার মাদকাটি গ্রামে চন্ডিচরনের অত্যাচারে এলাকা পুরুষ শুন্য


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৫, ২০১২ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: পুলিশের সহযোগিতায় কালিগঞ্জ উপজেলার মাদকাটি গ্রামের মৃত হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে চন্ডিচরন মন্ডলের অত্যাচারে গ্রামটির অর্ধ শতাধিক হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেছে। প্রায় এক ডজন মামলা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এ গ্রামের অনেকেই। এতে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। অনিশ্চতার মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সংশ্লিষ্টদের পরিবার-পরিজন। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেও সুফল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মাদকাটি গ্রামের শতাধিক নারী পুরুষ।

সরজমিনে জানা যায়, মাদকাটি গ্রামের মৃত হরেন্দ্র নাথ মন্ডরের ছেলে চন্ডিচরন থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এলাকার গরীব হত দরিদ্র কৃষকদের নামে কারণে অকারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে কৃষকদের ধান কেটে নিচ্ছে। তার অত্যাচারে  ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেছে। তাদের রেখে যাওয়া জমি চন্ডিচরন জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। চন্ডিচরন, তার ভাই রবীনন্দ্রনাথ ও তারাপদ মন্ডল গত ১ বছর এলাকাবাসীর নামে অন্তত এক ডজন মামলা দায়ের করেছ। ফলে পুলিশের ভয়ে গ্রামের পুরুষরা গ্রাম ছাড়া। এসব মামালার মধ্যে ১২/১৫২, ৮/৩০, ১৯/২৬১, ১৭/২৫৯, ৭/১৯২ এবং ৯/১৯৪ নং মামলা উল্লেখযোগ্য। এসব মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের স্ত্রী সন্তানরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। চন্ডিচরনের নিজের কন্যা ভালোবাসা করে নৈকাটি গ্রামের তপনের সাথে বিয়ে করে ঘর সংসার করলেও তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে গ্রামের কয়েক ব্যক্তির নামে মিথ্যা মামালা দায়ের করেছে। তাছাড়া চন্ডিচরন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে যেবস মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে, তার মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, মেশিন চুর, গরুচুরি উল্লেখযোগ্য।

এ ব্যাপারে মাদকাটি গ্রামের গোলাম মোস্তফার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তার ক্রয়কৃত ৩.৩০ একর জমির পাকাধান চন্ডিচরন কেটে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। কালিগঞ্জ থানার ওসি চন্ডিচরনের পক্ষ অবলম্বন করে জমির মালিককে ধান না কাটতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে পাকা ধান জমিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপি এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মাদকাটি গ্রামের শতাধিক হিন্দু মুসলিম পরিবারের মহিলারা চন্ডিচরনের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আকুতি মিনতি করে জানান, তাদের স্বামীরা একাধিক মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রাম ছাড়া। তারা চন্ডিচরনের কবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনাসহ চন্ডিচরনের শাস্তির দাবি করেন।