মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রী নিহত


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৭, ২০১২ ||

এস কে টুটুল, নুরনগর (শ্যামনগর): রুমানার স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করার। কিন্তু মুহূর্তের ঝড় সবকিছুকে এলামেলো করে দিলো। ঘাতক পিকআপ কেড়ে নিলো সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পেরুনো এ মেধাবী ছাত্রীর সব স্বপ্ন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ন’টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা রামজীবনপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার। নিহত ওই ছাত্রীর পরিবারসহ সহপাঠী আর গোটা গ্রামজুড়ে এখন চলছে শোকের মাতম। কাটুনিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা রুমানার (১৮) বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলার কাটুনিয়া গ্রামে। হতদরিদ্র পিতা হাবিবুর রহমান গাজীর চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন রুমানা।

নিহতের পিতা হাবিবুর রহমান জানান, শুক্রবার ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে রুমানা সহপাঠীদের সাথে মিলে ইঞ্জিন ভ্যানযোগে পরীক্ষা কেন্দ্র শ্যামনগর মহসীন কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এক পর্যায়ে রামজীবনপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর পিছের দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি খালি পিকআপের ধাক্কায় রুমানাদের বহনকারী ইঞ্জিন ভ্যানটি উল্টে যায়। এসময় অন্যান্যরা কমবেশী আহত হলেও পাকা রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়া রুমানার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি। রুমানার মুত্যর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরীক্ষা কেন্দ্রসহ তার গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতের এক স্বজন জানান, রুমানার স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করে নিজেকে একজন কলেজ শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে মেধাবী রুমানা একমাত্র ছোট ভাইসহ অপর দু’বোনের লেখাপড়ার বিষয়টি দেখাশোনা করতো জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি ফিরে ছোট বোনকে অংক কারানোর কথা দিয়ে গিয়েছিল রুমানা। কিন্তু সে আর বাড়িতে ফিরবে না তাই ছোটবোনকে অংক শেখানোও হবেনা-একথা ভেবে তার মা বার বার বিলাপ করছে। রুমানার সাথে দুর্ঘটনায় আহত আরও এগারজনের মধ্যে তার সহপাঠী শান্তিলতা, পুস্পলতা, ই¯্রাফিল হোসেন, খাদিজা আক্তার ও আরিফুল ইসলামকে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাদেরকে চিকিৎসা শেষে পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সর্বমোট ১২ জন যাত্রী দুর্ঘটনা কবলিত ইঞ্জিন ভ্যানে ছিল। তারা নুরনগর থেকে শ্যামনগর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে লাইলি বেগম (২৫), সামেলা বিবি (৩৫) সহ অন্যদের শ্যামনগর হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।এদিকে দুর্ঘটনার পর শ্যামনগরের গোডাউন মোড় এলাকা থেকে জনতার সহায়তায় পুলিশ ঘাতক পিকআপ ও তার হেলপারকে আটক করলেও চালক আজিজুর রহমান পালিয়ে যায়। শ্যামনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক পিকআপসহ হেলপার গ্রেপ্তার হয়েছে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে রুমানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নুরনগর এলাকায় ইঞ্জিন ভ্যান চলাচল বন্ধের আহবান জানিয়ে মাইকিং করা হয়েছে।