পাউবো’র জমি দখল করে জামায়াতের কার্যালয় নির্মাণ! মামলা


প্রকাশিত : December 15, 2012 ||

বদিউজ্জামান: পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত অর্ধকোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে সদর উপজেলার আগরদাড়ী আমিনিয়া টাইটেল মাদ্রাসার নামে জামায়াতের কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাউবো, বিভাগ-০১ সাতক্ষীরা সদর এর উপ-সহকারি প্রকৌশলী নূরুজ্জামান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলা দায়ের করেন। মামলায় আগরদাড়ী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস ছালামসহ ৪ জনকে বিবাদী করা হয়েছ্।ে ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হামিম হাসান সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে দখলকারীর দখল বজায় রাখাসহ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওসি সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী নুরুজ্জামান তার আরজিতে উল্লেখ করেন, উপকূলীয় এলাকায় বেডিবাধের জন্য সদর উপজেলার আবাদের হ্টা সংলগ্ন কদমতলা টু বৈকারী সড়কের উত্তর পাশের বিহারীপুর মৌজার এসএ ২৩৯ নং খতিয়ানে ৮ দাগে ১১ শতক এবং ৩৭ দাগে ১০ শতক মোট ২১ শতক সম্পত্তির মধ্যে ১৭ শতক সম্পত্তি সরকার এলএ কেস নং ১৮/৬১-৬২ এবং এলএ কেস নং ১০৫/৬৩-৬৪ মূলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে হুকুম দখল/অধিগ্রহণ করে নিজ দখলে রাখে। কিন্তু অর্ধশত বছরেরও বেশী সময়ের ভোগ দখলীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উক্ত জমি সম্প্রতি জবর-দখল করে আগরদাড়ী আমিনিয়া টাইটেল মাদ্রাসার নামে সেখানে তৈরী করা হচ্ছে বহুতল ভবন।

বাদী নূরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে জানান, দৃশ্যত আগরদাড়ী মাদ্রাসার নামে সরকারি ওই সম্পত্তি জবর-দখলের চেষ্টা করা হলেও মূলত সেখানে স্থানীয় জামায়াতের কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় লোক মারফত জানার পর তিনি নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ করেন, কিন্তু কাজ বন্ধ না করায় তিনি বাদী হয়ে গত ১০ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি (উপ-সহকারি প্রকৌশলী) উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে নিজে বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার আদালেতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মতে মামালা দায়ের করেন। মামলা নং- পিটিশন-১২৯৪। মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন, তোহিদুল সরদার, নজরুল ইসলাম ও আবুল কাশেম বাবলু।

এ ব্যাপারে আগরদাড়ী টাইটেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস ছালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি নির্মাণ কাজের সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানান, জামায়াতের কার্যালয় নয়, মাদ্রাসার কল্যানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নির্মাণ কাজের সমুদয় অর্থ সদর এমপি এমএ জব্বার সাহেব দিয়েছেন এবং তিনি তাঁর নিজস্ব মিস্ত্রি দিয়ে ওই ভবনের নির্মাণ কাজ করাচ্ছেন।

অপরদিকে ভবন নির্মাণের বিষয়ে সদর এমপি এমএ জব্বার এ প্রতিবেদককে জানান, এলাকার উন্নয়নের জন্য আমি ওই কাজটি করাচ্ছিলাম। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি করতে না দেয় তাহলে হবে না, তবে আমার মনে হয়, ওরা (পানি উন্নয়ন বোর্ড) জামায়াতকে টাইট করার জন্য ওই সব করছে। এদিকে সদর ওসি গাজী ইব্রাহীম জনান, বিষয়টি তদন্তের জন্য এএসআই জুলফিকার আলীকে বলা হয়েছে।