শ্যামনগরে বাল্যবধূর আত্মহত্যা


প্রকাশিত : December 15, 2012 ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: হাতে মেহেদির রং এখনও শুকায়নি। বিয়ের দিন শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পর সবে স্বামীর সাথে পিতৃালয়ে বেড়াতে এসেছে। তবে সে আসা সুখকর হলো না নব বিবাহিতা শিশু সীমা মন্ডলের জন্য। তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে স্বামীর সাথে অভিমানের পর মায়ের বকুনি খেয়ে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে সে। সীমা রানী মন্ডল এ বছর সুন্দরবন বালিকা বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আগামী ২৭ ডিসেম্বর তার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের আবাদচন্ডীপুর পানখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দু’পরিবারেই এখন শোকের মাতম চলছে। পুলিশ শুক্রবার বিকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শ্যামনগর থানায় নিয়ে যায়।

নিহত সীমা মন্ডলের ভাই প্রিয় রঞ্জন মহালদার জানান, গত রোববার পাশের গ্রামের নীলকান্ত মহালদারের ছেলে সুব্রত মহালদারের সাথে তার বোন সীমা মন্ডলের বিয়ে হয়। সোমবার সকালে নববধূকে নিয়ে বর পক্ষ বাড়িতে যায় উল্লেখ করে প্রিয় রঞ্জন আরও বলেন, গত বুধবার জামাই মেয়েকে তাদের বাড়িতে আনা হয়। এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাত বারটার দিকে ধান ক্ষেতে ব্যবহারের জন্য ঘরে রক্ষিত কীটনাশক পান করে সে আত্মহত্যা করে।

নিহতের মা আরতি মন্ডল জানায় তার চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সীমা সবার ছোট। তিনি জানান,  বুধবার শ্বশুর বাড়ি থেকে জামাইসহ সে বাড়িতে ফেরে। বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে শোবার ঘরে যাওয়ার পর সীমা বিষ পান করে। এসময় দ্রুত তাকে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। তিনি জানান, রাতে স্বামীর সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে সীমা। এসময় তিনিও মেয়েকে এ ধরনের আচারণ না করার জন্য পরামর্শ দিলে অভিমান করে মেয়েটি বিষপান করে।

এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালীনি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক জাফর হোসেন জানান, পিতৃালয়ে ফিরে রাতে স্বামীর সাথে শোবার ঘরে থাকার এক পর্যায়ে মেয়েটি বিষ পানে আত্মহত্যা করে। কিন্তু কি কারণে বিষ খেয়েছে সে বিষয়ে মেয়েটির পরিবারের কোন সদস্য মুখ খুলছে না। তিনি আরও জানান, মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।