ফের কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন!


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৭, ২০১২ ||

ইয়ারব হোসেন: ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ’র প্রায় ২ কোটি টাকার ঘর নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘরের ভীত উঁচুকরণ, দরজা, জানালা, ইট, কাঠ, টিনসহ অনান্য সামগ্রী ব্যবহারে অনিয়ন ও দুর্নীতি করে করে প্রায় ১ কোটি টাকা লুটপাট করার আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর বন্যায় সদর উপজেলায় ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণের জন্য ১৪০টি পরিবারকে বাছাই করা হয়। ঘর নির্মাণের দায়িত্ব পায় বেসরকারি সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ। ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী ঘর নির্মাণে ১ হাজার ৬০৪টি ইট, টিন ১৮ পিচ, চাম্বল কাঠ ১৭ পিচ, সিমেন্টের পিলার ৮ পিচ, রেন্টি কাঠের জানালা ৩টি ও ৪টি বাঁশের বেড়া ব্যবহারের কথা রয়েছে।এ ছাড়া ঘরের ভীত উঁচুকরণে ৭ হাজার টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুবিধাভোগীদের দিয়ে ঘরের ভীত উঁচু করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভীত উঁচু করতে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ঘরে যে ইট ব্যবহার করা হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের। ঘরের দরজা, জানালা, টিন, বেড়া দেওয়া হয়েছে দায়সারাভাবে।

সরজমিনে সদর উপজেলোর তুজলপুর, আখড়াখোলা, রাজবাড়ি, ঝাউডাঙ্গাসহ কয়েকটি গ্রামে যেয়ে দেখা গেছে, দুই নং ইট দিয়ে ঘরের ভীত তৈরি করা হয়েছে। ঘরে যে ৮টি সিমেন্টের খুটি ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে ব্যবহার করা হয়েছে চিকন ৪টি রড। ঘরে রেন্টি কাঠের দরজা জানালা দেওয়ার কথা থাকলেও কাঁচা ও অসারি শিশু ও আম কাঠ দিয়ে দরজা ও জানালা লাগানো হয়েছে। জানালায় দেওয়া হয়েছে পাট কাঠির মত সরু কাঠ। ঘরের দরজটা ছোট ও দায়সারাভাবে লাগানো হয়েছে। যা ইত্মেধ্যে বাঁকা হয়েগেছে। ঘরের নিম্নমানের বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে।

কথা হয় ঘর নির্মাণ মিস্ত্রি সদর উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের গোলাম মোস্তফার সাথে। তিনি জানান, এ ধরনের একটি ঘরে যে ইট, কাঠ, টিন, দরজা, জানালা লাগনো হয়েছে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ খরচ হবে ৩৫-৪০ হাজার টাকা। এভাবে ১৪০টি ঘর নির্মাণে প্রায় ১ কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন জানান, তিনি জেনেছেন ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচেছ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি বলেন, তাদেরকে কোন কিছু না জানানো হয় না।

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ফিল্ড ফ্যাসিলেটর আতাউল করিম জানান, তারা বাজেট অনুযায়ী কাজ করেছেন। ভাল কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল সঠিকভাবে সরবারহ করা হয়েছে। দুর্নীতির কোন আশ্রয় নেওয়া হয়নি।