তালায় পুলিশে চাকুরি দেয়ার নামে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র


প্রকাশিত : January 4, 2013 ||

তালা প্রতিনিধি: সরকারি চাকুরি দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে তালার এক বেকার যুবকের ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। সহায় সম্বল বিক্রি করে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারকদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও চাকুরি ও প্রদত্ত টাকা কোনটাই ফেরত না পেয়ে সর্বশান্ত হয়ে প্রতারণার শিকার ওই যুবক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিচ্ছে।

জানা যায়, খুলনার টুটপাড়া ৩নং ক্রস রোডের ৭নং বাড়ির তৃতীয় তলার বাসিন্দা, গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া (সদর) গ্রামের জনৈক শেখ ফরিদ উদ্দীনের ছেলে প্রতারক শেখ স্বপন তালা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামের মৃত মোনতাজ আলীর ছেলে ময়েজ উদ্দীন ও ডুমুরিয়া উপজেলার বেতাগ্রাম গ্রামের মো. তছির শেখের ছেলে কামরুল শেখের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরে স্বপন নিজেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আ.লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মামা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গী কামরুল ও ময়েজের মাধ্যমে উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত আনোয়ার আলী সরদারের দরিদ্র ও বেকার ছেলে জাহিদুল ইসলামকে পুলিশ প্রশাসনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এক পর্যায়ে জাহিদুল তাদের প্রলোভনের শিকার হয়ে সহায় সম্বল বিক্রি করে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২০১০ সালে ৩ লক্ষ ৮ হাজার টাকা ময়েজউদ্দীন ও কামরুলের মাধ্যমে স্বপনের হাতে তুলে দেয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময়ের ব্যধানে জাহিদুল পুলিশ এ চাকরি না পেয়ে এক পর্যায়ে টাকা ফেরৎ চাইলে নানান টালবাহানা শুরু করে প্রতারক চক্র। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত যুবক জাহিদুল ইসলাম জানান, নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে সরকারি চাকুরির আশায় ওদের হাতে টাকাগুলো তুলে দিয়ে এখন ঋণের চাঁপে বাড়ি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় ৩ বছর পূর্বে দেয়া টাকা ফেরৎ পাবার আশায় গত মাসে স্বপন শেখের খুলনার বাড়িতে যেয়ে দেখি, সে বাড়ি পরিবর্তন করেছে এবং তার মোবাইল নম্বরটিও এখন বন্ধ রেখেছে। যে কারণে স্বপনের অপর সহযোগী কামরুল ও ময়েজউদ্দীনের কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে তারা এখন নানান হুমকি ও গালিগালাজ করছে। জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামা পরিচয় দিয়ে স্বপন শেখ আমাদের স্থানীয় দু’আ.লীগ নেতার মাধ্যমে টাকা নেয়ায়, দেয়া টাকা উদ্ধার করতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ই-মেইল’র মাধ্যমে একটি আবেদন এবং রেজিস্ট্রি ডাক যোগে টাকা দেয়ার প্রমানসহ আরও একটি আবেদন করেছি। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন ও তালা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।