তালায় স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় গৃহবধূর উপর নির্যাতন


প্রকাশিত : January 6, 2013 ||

তালা প্রতিনিধি: যৌতুক লোভী স্বামীকে একের পর এক যৌতুক দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ২ সন্তানের জননী গৃহবধূ নিগার সুলতানার। সব শেষে স্বামী মনিরুল ইসলাম পরকীয়া প্রেমে মত্ত হয়ে নিগারকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ার তার উপর নেমে আসে এ অমানুষিক নির্যাতন।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, বিগত ২০০৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়া গ্রামের মোমিনুল ইসলামের কন্যা নিগার সুলতানার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মধ্যকূল গ্রামের মৃত শামসুর রহমান’র পুত্র মনির হোসেনের। বিয়ের পর যৌতুকলোভী স্বামী, শ্বাশুড়ি নূরী বিবি ও দেবর আনিছুর রহমানের দাবিকৃত যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শারীরিক ও মানুসিকভাবে নির্যাতন করা হয় নিগারকে। পরে নিগারের পিতা মেয়ের সুখের জন্য বাধ্য হয়ে মেয়ের স্বামী, শ্বাশুড়ির হাতে বিভিন্ন সময় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, গৃহস্থলি আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৪ লক্ষ টাকার সম্পদ তুলে দেন। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হলো না নিগারের।

নিগার জানান, বিয়ের পর স্বামী ২টি কন্যা সন্তান রেখে, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রামনগর গ্রামের জনৈক রামেন্দ্র শীল’র কন্যা সরস্বতী শীলের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ১ সন্তানের জননী সরস্বতী বর্তমানে পাইকগাছা উপজেলার আগড়ঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ও একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সাবেক স্ত্রী। তাঁর স্বামী ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে দীর্ঘ ৩ বছর ধরে চুকনগর বাজারে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করেন। এ ঘটনা জানতে পেরে তাতে বাঁধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সরস্বতি বিভিন্ন সময় আমাকে নানাবিধ হুমকি দেয়।

তিনি আরও জানান, স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ার ঘটনায় গত বুধবার রাতে স্বামী মনির উদ্দীন আমাকে ব্যাপক মারধর করে। পরে সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই মোমিনুল ইসলাম গুরুতর আহতাবস্থায় নিগারকে উদ্ধার করে তালায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় নিগার সুলতানা ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রতিকার পেতে আগড়ঘাটা বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর একটি আবেদন করেছেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।