বন্যা কবলিত তালায় আর্থিক সচ্ছলতা ফিরছে গৃহিনীদের হাস পালনে


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৭, ২০১৩ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: বন্যা কবলিত তালার ২০টি গ্রামের গৃহিনীরা গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদা আর দারিদ্র্যকে জয় করতে হাঁস পালন করে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন।

গৃহিনীদের সাংসারিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ দেশের অর্থনীতিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তালা উপজেলার বন্যা কবলিত ২০ গ্রামের কয়েক’শ গৃহিনী।

নিজস্ব খামারে বাচ্চা লালন পালন ছাড়া আর কোন খরচ না থাকায় আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় জলবদ্ধ এলাকার গৃহিনীদের মধ্যে হাঁস পালনে প্রতিযোগিতাও লক্ষ্য করা গেছে।

তালা উপজেলার জলবদ্ধ এলাকার গৃহিনীদের প্রশংসনীয় এ উদ্যোগ সরজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ভবনীপুর, খরাইল, মৃজাপুর, দেওয়ানীপাড়া, নওয়াপাড়া, কুলিয়া, মুড়াকুলিয়া, তেরছি, আড়ংপাড়া, কলাপোতা, বারাত, কাজীডাঙ্গা, ঘোনাসহ প্রায় ২০ গ্রামের কয়েক শত কৃষাণী হাঁস পালন করে দরিদ্রতা জয় করেছে। ২০০১ সালের পর থেকে এ উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদ যৌবন হারিয়ে ফেলায় প্রতি বছর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে আজ তা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ফলে এ অববাহিকার ৫ লক্ষাধিক মানুষের জীবন যাপনে নেমে আসে অনামিশা। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় ২০১১ সালে বন্যায় উপজেলার ২শ ২৯টি গ্রামই প্লাবিত হয়। এতে ধনী গরীব সবাই জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে উঁচু রাস্তার উপরে পলিথিনের খুপড়ি তৈরী করে গৃহপালিত পশুপাখির সাথে মানবেতর জীবনযাপন করে। সেই থেকে সারাবছরই পানির সাথে যুদ্ধ করে জীবন জীবিকা চালাতে পুরুষের পাশাপাশি তালা উপজেলার গৃহিনীরা হাঁস পালনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রোববার ভোরে সরজমিনে দেখা যায়, হাঁসের প্যাক প্যাক ডাকে গোটা এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। পাখি ডাকা ভোরে কর্মহীন পুরুষের তীব্র শীত উপেক্ষা করে মাছ শিকারে যাওয়া দৃশ্য দেখতে দেখতে ভোরের অন্ধকার শেষ হয়ে কুয়াশাচ্ছান্ন সকালে একের পর এক হাঁসের দল অথৈই পানিতে হাজার হাজার হেক্টর অনাবাদী জমিতে ভেসে চলেছে। সকাল ৮টার দিকে দেওয়ানীপাড়া, ভবানীপুর, কাজীডাঙ্গাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের গৃহিনীদের পালিত হাঁসের ডিম সংগ্রহ করার দৃশ্য আরও বিমোহিত করে।

দেওয়ানীপাড়া গ্রামের শাহীনুর রহমানের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী আছমা বেগম জানান, তার পালিত ৫০টি হাঁসের মধ্যে ৩৫টি হাঁসই ডিম দেয়। প্রত্যেকটি ডিম ১০টাকা করে ৩শ ৫০টাকা বিক্রি হয়। সবচেয়ে মজার বিষয় এতগুলো হাঁস পালনে খরচ নেই বললেও চলে। ভোরে হাঁসের দল খুপি থেকে পানিতে ভেসে যায়। অথৈই পানিতে সারাদিন খাবার খেয়ে সন্ধ্যা হতেই বাড়িতে ফিরে আসে। কেবল মাত্র আছমা বেগমের নয় জলবদ্ধ এলাকার চারপাশের গ্রামের গৃহিনীরা ৫০ থেকে সর্ব নিম্ন ৩০টি হাঁস পালন করছে। এর ফলে বাচ্চা লালন পালন শেষে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের দরিদ্রতা দূর হয়েছে। সাথে সাথে পরিবারের বাচ্চাদের সুষম খাবার, ডিমের সাথে হাঁসের মাংস। সব মিলিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার গৃহিনিদের হাঁস পালন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

এ বিষয়ে বন্যা কবলিত ইসলামকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক জানান, এ এলাকার মানুষ নদ খনন হোক আর নাই হোক বাস্তভিটা ছাড়তে রাজি নয়। তাই পানির মধ্যে জীবন জীবিকা চালাতে গ্রামীণ বধূরা পুরুষের পাশাপাশি সংসারের অভাব দূর করতে হাঁস পালন শুরু করেছে।

এ প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় এনজিওগুলো হাঁস পালন সম্প্রসারিত করার জন্য রিলিপ না দিয়ে হাতে কলমে হাঁস লালন পালন, রোগ নির্নয় ও প্রতিকারের শিক্ষা দেবে এমনটি প্রত্যাশা সকলের।