তালার রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বন্ধের দাবি


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৭, ২০১৩ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌঁছেছে তালা উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজাপুর ইউবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা ও মোটা অংকের অর্থ উৎকোচ নিয়ে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এরমধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক বাংলা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ উপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অন্য শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে মনোজ মন্ডলসহ কয়েকজন রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেল বছর ২৪ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে সহকারি শিক্ষকের শুন্য পদে বাংলা বিষয়ে পাঠদানের জন্য শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেন। তবে তার সুপারিশ উপেক্ষা করে ৯ ডিসেম্বর স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে ধরনী কুমার বিশ্বাসকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ৭ লাখ টাকা, সহকারি শিক্ষক পদে রুপালী সরকারকে চাকুরি দেয়ার জন্য ৬ লাখ টাকা ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে অরুন সরকারকে নিয়োগ দিতে ২ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। এর আগে ওই বিদ্যালয়ে উৎকোচ নিয়ে কয়েকজন অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার ফলে এলাকার শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।

তালা উপজেলার মেশারডাঙ্গা গ্রামের রিঞ্চি মন্ডল জানান, আমার একটি মেয়ে রাজাপুর ইউবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। তবে সেখানে মেধাবী শিক্ষক নেই বলে আমার পঞ্চম শ্রেণি থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ ছেলেকে অন্য স্কুলে ভর্তি করেছি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিরিঞ্চি বিশ্বাস বলেন, শুক্রবারের নিয়োগ বোর্ডে যারা প্রথম হবেন তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে। বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগে জেলা শিক্ষা অফিসারের সুপারিশ উপেক্ষা করে অন্য বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামীতে ওই বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। তবে প্যাটার্ন অনুযায়ী আর শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি স্বরজিৎ সরকারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।