ফিরে দেখা ২০১২: তালায় ৫৯ জনের আত্মহত্যা, অধিকাংশই নারী


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৭, ২০১৩ ||

আব্দুল জব্বার, তালা: সদ্য বিদায়ী ২০১২ সালে তালা উপজেলায় বিষপান, গলায় দড়িসহ বিভিন্ন উপায়ে ৫৯ জন আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় তালা থানায় ৩৯টি এবং পাটকেলঘাটা থানায় ২০টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছরে আত্মহত্যাকারীদের প্রায় এক তৃতীয় অংশ নারী। তাদের কেউ গৃহবধূ আবার কেউবা শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত বছরে বিষপানে আত্যহত্যা করেছে তালা উপজেলার  ইসলামকাটি গ্রামের স্কুল ছাত্রী চম্পা দত্ত (১৫), আবুল হোসেনর কন্যা জোছনা খাতুন (১৫), জেয়ালা নলতা গ্রামের হাবিবুর রহমানের কন্যা হালিমা খাতুন (১৯), হাজরাকাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা আশা খাতুন (১৫), দোহার গ্রামের মোক্তার আলীর কন্যা তৃপ্তি খাতুন (১৪), হরিহর নগর গ্রামের মালেক শেখের কন্যা পারুল খাতুন (১৫), মির্জাপুর গ্রামের টুম্পা খাতুন (২০), দক্ষিণ শাহাজাতপুর গ্রামের হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫), মাছিয়াড়া গ্রামের সালাম সরদারের স্ত্রী তানজিলা খাতুন (২১), কলাগাছি গ্রামের সত্য পদ’র স্ত্রী রেবা রানী মণ্ডল (৪০), বালিয়া গ্রামের শামীম সরদারের স্ত্রী শিরিনা খাতুন (২২), হাতবাস গ্রামের এছেম মোড়লের কন্যা ফিরোজা খাতুন (১৯), হোসেন গাজী’র স্ত্রী তাছলিমা বেগম (২২), জেঠুয়া গ্রামের জামাল গাজীর কন্যা হিরা খাতুন (১৫), শাহজাদপুর গ্রামের সাত্তার সরদারের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (২৬), জেয়ালা নলতা গ্রামের বারেক জোয়ার্দ্দারের স্ত্রী লাইলী বেগম (১৮), মাদরা গ্রামের গঙ্গারামের স্ত্রী সুমি মণ্ডল (৪০), শ্রীমন্তকাটি গ্রামের আন্না রানী হালদার (৯০), সেনের গাতি গ্রামের হান্নান সরদারের স্ত্রী হালিমা বেগম (৩৫), মহান্দি গ্রামের গফুর সরদারের স্ত্রী মনজিলা বেগম (২৬), কানাইদিয়া গ্রামের নির্মলা-নন্দী (৯০), লাউতাড়া গ্রামের নীজান বিবি (৬৫), মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের ফুল বেগম (২৫), হাজরাপাড়া গ্রামের শিরিনা বেগম(২৩), ধানদিয়া গ্রামের হরিপদ মলি¬কের স্ত্রী শিখা রানী (২২), সোনিয়া বেগম (২২), হরিঢালী গ্রামের সন্তোষ সিংহ (৪৫) সহ অনেকেই।

এসব ঘটনায় তালা ও পাটকেলঘাটা থানায় পৃথক ভাবে ৫৯টি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার সংখ্যাও কম নয়।

অধিকাংশ ঘটনার জন্য পারিবারিক নির্যাতন, শাসন, পরকীয়া প্রেম, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, যৌতুক, সামাজিক বৈষম্য, বেকারত্ব, দরিদ্রতা ইত্যাদি কারণকে দায়ী করা হচ্ছে।  এসব আত্মহত্যার ঘটনায় সংশি¬ষ্টদের তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে আসা হলে পুলিশ কেস খাতায় লিপিবদ্ধ করে। তবে দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা মতে, ধর্তব্য অপরাধ শাস্তিযোগ্য হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ অপরাধে থানা পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করাতো দূরে থাক, এসব ঘটনার তদন্তও করে না।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম জহিরুল হাসান জানান, আত্মহত্যা প্রচেষ্টাকারী অনেক রোগী এখানে ভর্তি হন এবং পুলিশ কেস খাতায় সেগুলো অর্ন্তভুক্ত করা হয়।

তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে পুলিশ কেস খাতা আছে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আত্মহত্যার অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়া রোগীর খবর অনেক সময় আমাদেরকে দেওয়া হয় না। ফলে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে না। এ ধরনের ঘটনায় মামলা হলে এবং আসামিদের সাজা হলে অবশ্যই আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে।