পুরাতন সাতক্ষীরায় চেতনানাশক ছিটিয়ে স্বর্ণালংকারসহ ছয় লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৮, ২০১৩ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা নাথপাড়ায় রোববার দিবাগত রাতে এক বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোরেরা ঘরে চেতনানাশক ঔষধ ব্যবহার করে মটর সাইকেল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ছয় লক্ষধিক টাকার মালামাল নিয়ে চম্পট দিয়েছে। ফলে শহরে ফের চুরির আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।

পুরাতন সাতক্ষীরা নাথপাড়ার ব্যবসায়ী মাদার চন্দ্র দেবনাথ জানান, পরিবারের সকলে রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। তার পুত্র পলাশ দেবনাথ ও পুত্রবধূ বাড়িতে না থাকায় ঐ ঘরে তার মেজ মেয়ে সাগরিকা ঘুমিয়ে ছিল। দুর্বৃত্তরা রাতে বাড়ির দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল কেটে তার ঘরে প্রবেশ করে এবং অন্য রুমসহ তাঁর রুম থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। সে সময় তিনি কিছুই বুঝতে পারেন নি বলে জানান। তবে দুর্বৃত্তরা পলাশের বেডরুমে প্রবেশ করতে পারেনি। দরজায় কাঠ দিয়ে আঘাত করলেও ভয়ে ঐ ঘরে থাকা পলাশের বোন দরজা খুলেন নি বলে জানা গেছে। পরে ভোর হলে গৃহকর্তা ও গৃহকত্রীকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এ সময় তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুর্বত্তরা পলাশের ব্যবহৃত লাল রঙের হিরোহোন্ডা হাংক মটর সাইকেল, পলাশের বোনের ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ৯০ হাজার টাকা, স্বর্ণের কানের দুল, হাতের বালা, চেইন, আংটি, লকেটসহ মোট প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণের জিনিস ও একটি নোকিয়া মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এছাড়া বাড়ির ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিস নিয়ে যায়, যার মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা। মটর সাইকেলটি তাদের বাড়ি সংলগ্ন সাবান কারখানায় ছিল। স্থানীয়দের ধারণা দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে সাবান কারখানার তালার চাবি এনে মটর সাইকেলটি বের করে নেয়।

গৃহকর্তা মাদার চন্দ্র দেবনাথ জানান, মটর সাইকেলের চাবির রিং এ গেটের চাবি থাকার সুযোগে তাঁর কারখানার কর্মচারী আলিয়া মাদ্রাসাপাড়ার রামপদ দাসের পুত্র বিলাশ দাস অন্য কোন সময় না চালালেও রোববার সন্ধ্যায় কোন কারণ ছাড়াই তাদের না বলে পলাশের মটরসাইকেলটি নিয়ে যায় এবং রাতে আবার রেখে যায়। কারখানার একটি স্ক্র ড্রাইভার সকালে বসত ঘরের বারান্দায় পাওয়া গেছে যেটি ঘরের গ্রিল কাটার জন্য জানালা খোলার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ রয়েছে। আর এই স্কু ড্রাইভারটি কারখানার দরজা না খোলা পর্যন্ত কারখানার ভিতরে থাকার কথা। কিন্তু কারখানার তালা ভাঙ্গা নয় বরং খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঐ চাবি তার রুমের ভিতর ছিল। ফলে তাদের সন্দেহ এ কাজে কর্মচারীদের সংযোগ থাকতে পারে।

সোমবার সকালে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুলফিকার, পুরাতন সাতক্ষীরা ফাঁড়ির ইনচার্জ টিএএসআই আনারুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সাতক্ষীরা পৌরসভার ০৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা সকালেই ঘটনাস্থলে যেয়ে খোঁজখবর নেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।