বিচারক স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলার জের: স্ত্রীর নামে প্রতারণার মামলা দায়ের


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৯, ২০১৩ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: বিচারক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর যৌতুক মামলার পর স্বামী তার নিকট আত্মীয় দিয়ে স্ত্রীর নামে প্রতারণার অভিযোগ এনে চেক জালিয়াতির মামলা করেছেন। মঙ্গলবার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আদালতে স্ত্রী মারুফা খাতুনের নামে এ মামলা দায়ের করেন জেলার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মাদ আলী গাজীর ছেলে আব্দুল মালেক। তিনি মারুফার বিচারক স্বামী সিরাজুল ইসলামের ভগ্নিপতির আপন সহোদর। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামির প্রতি সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন।  এরআগে আসামিকে একটি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়।

মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, আসামি বিদেশে যাওয়ার জন্য বাদীর নিকট থেকে বিশ্বাস স্থাপন করে ডাচ বাংলা ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ১১০.১০১.২৫৩৬৬০ নং হিসাবের অনুকূলে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দিয়ে নগদ টাকা গ্রহণ করেন। গত ১২ নভেম্বর ২০১২ তারিখের নির্ধারিত দিনে টাকা উত্তোলন করতে যেয়ে একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক ডিজঅনার পূর্বক একটি বার্তা দেন। এরপর ১৫ দিনের সময় সীমা বেধে দিয়ে মারুফা খাতুনকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন বাদী।

তবে আসামি মারুফা খাতুন গতকাল টেলিফোনে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, মোবাইলে আমি শুনেছি আমার নামে সাতক্ষীরা আদালতে মামলা হয়েছে। আমি এ মামলার বাদীকে চিনি না। তবে সে আমার স্বামী সিরাজুল ইসলামের ভগ্নিপতির ভাই এটা জানি। আমি আমার স্বামীর নামে আদালতে যৌতুক মামলা করায় পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে দেবহাটার নাংলা গ্রামের আদম মেটুয়ার কন্যা মারুফা খাতুন তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের নামে ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক আইনের ৪ ধারা মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দেবহাটা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর অনুকূলে আদালতে আসলেও গত ২৬.১২.১২ তারিখ ধার্যদিনে নথিতে তদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় আগামী ৩.৩.২০১৩ তারিখে ফের দিন পড়ে। এরই মধ্যে অন্য একটি মামলায় বাদীক সমনের নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক।