কপিলমুনিতে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৩ ||

কপিলমুনিপ্রতিনিধি: জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির সাথে মানিয়ে উঠতে পারছে না কপিলমুনিবাসী, ভাল নেই সাধারণ মানুষ। দফায় দফায় তেলের মূল্য বৃদ্ধি, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসের দাম বৃদ্ধির ফলে চলমান জীবন যাত্রাকে থমকে দিচ্ছে। আয় ব্যয়ের সমন্বয় করতে না পেরে অনেকেই দীর্ঘ দিনের কষ্টাজিত সঞ্চয়, সম্পদ হারাচ্ছেন অপর দিকে অনেকে আবার ঋণের জালে জড়িয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন।

কপিলমুনিতে বসবাসকারী লিটু জানান, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাবার যোগান দিতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছি সেখানে বছর ঘুরতেই বাসাভাড়া বাড়ছে, বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, ভাল খাবার পানির বিল, যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধি সব মিলিয়ে বাঁচার কোন উপায় নাই। কি শহর, কি গ্রাম সব খানেই হাহাকার।

বুধবার কপিলমুনি বাজার ঘুরে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচামাল ব্যবসায়ী সাজ্জাদ পাড় জানান, যেহেতু এলাকার তরিতরকারি বাজারের চাহিদার তুলনায় কম সে কারণে আমাদের মালামাল কিনতে হয় উপজেলার পাইকগাছা বাজার থেকে আবার কোন সময় পার্শ¦বর্তী তালা বাজার থেকে। আর এসব মালামাল পরিবহন খরচ করে আনতে একটু বেশি খরচ হচ্ছে, কারণ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচও আগের তুলনায় অনেক বেশী। মূলত তেলের দামের সাথেই সব পণ্যের দাম বাড়া কমা নির্ভর করে। ভ্যান চালক নোয়াকাটি গ্রামের সালাম রহমান বয়স পঞ্চাশোর্ধ বলেন, সারাদিন ভ্যান চালিয়ে কোন দিন দুই তিন শত টাকা আবার কোন দিন এক দেড়শ টাকা হয়, তাতে ছেলে মেয়ে নিয়ে আট জনের সংসার চালানো বড়ই কষ্টের। জিনিস পত্রের দাম বেশী হওয়াই ভাল কোন খাবার কিনতে পারি না। কপিলমুনি গ্রামের শিথুন মিস্ত্রী বলেন, বাজারে গেলে প্রতিদিন শুনতে হয় সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। আয়ের উপর নির্ভর করে মাসিক যে বাজেট থাকে তাতে এখন সংসার চালান খুবই দুরহ। এক সময় ছিল একশত টাকা নিয়ে বাজারে গেলে বাজার করার পরও কিছু টাকা ফিরে আসত, কিন্তু এখন দুই তিন শত টাকা নিয়ে গেলেও ভাল কোন বাজার নিয়ে বাড়িতে ফেরা সম্ভব হয় না। তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উধর্ক্ষ গতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন যাত্রা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।