তালায় সড়কের পাশের শতাধিক সরকারি গাছ কেটে সাবাড়


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৩ ||

নিজস্বপ্রতিনিধি: তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামে তিনটি সরকারি সড়কের পাশের প্রায় শতাধিক বিভিন্ন প্রকৃতির সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত তিন মাস ধরে দফায় দফায় দু’কাট ব্যবসায়ী ওই গাছগুলো কাটছেন। হাজরাকাটি ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ সরদার গাছগুলো বিক্রি করে ওই টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগও দিয়েছেন গ্রামবাসী। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্থানীয় তহশীলদার (নায়েব) আব্দুল মালেক সরেজমিনে সড়ক তিনটি পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অথচ নিয়ম আছে, সরকারের সাথে চুক্তি করে গাছ রোপন করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গাছগুলো কাটার জন্যে উপজেলা কমিটির কাছে আবেদন করতে হবে। ওই কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পরে গাছগুলো কাটা যাবে। তবে ওই গাছগুলো বিক্রির টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা রাখতে হবে। পরে সরকারি কোষাগারের টাকা কেটে রেখে চুক্তিপত্রের মালিক পক্ষ বাকী টাকা পাবেন।

এলাকাবাসী জানান, হাজরাকাটি ওয়ার্ডের মানিক সরদারের বাড়ির পেছন থেকে বিল, হাজরাকাটি বাজার থেকে দলিল উদ্দীন গাজীর বাড়ি ও হাজরাকাটি বাজার হতে আটারই অভিমুখে সরকারি সড়কের পাশে থেকে গাছগুলো কাটা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন না নিয়েই সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ সরদার প্রায় শতাধিক গাছ হাজরাকাটি গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আসাদ শেখ ও মুনসুর জোয়াদ্দারের কাছে বিক্রি করেন। গত তিন মাস ধরে ওই দু’কাঠ ব্যবসায়ী দফায় দফায় গাছগুলো কাটছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলেও তারা কর্ণপাত করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানায়, দফায় দফায় আসাদ ও মুনসুর ব্যাপারী প্রায় শতাধিক গাছ কেটেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ সরদার তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই গাছগুলো কাটেন। এসময় আমাদের বলেন, কিসের অনুমোদন লাগে। নিজে মানুষের অনুমোদন দিই। আমার নিজের সময় আবার কিসের অনুমোদন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজরাকাটি গ্রামের তিনটি সড়কের পাশে প্রায় শতাধিক সরকারি গাছ ইতোমধ্যেই গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে মেহগুনি, ইউকেলেকটার, শিশুসহ বিভিন্ন প্রকৃতির গাছ রয়েছে।

এসময় স্থানীয়রা জানান, গাছগুলো কেটে নছিমনে করে করাতকলে নিয়ে গেছেন গাছ ব্যবসায়ী আসাদ শেখ ও মুনসুর জোয়াদ্দার। কেটে ফেলা গাছগুলোর মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা।

কাঠ ব্যবসায়ী মুনসুর জোয়াদ্দার জানান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ সরদারের কাছ থেকে তিনি ৮০টিরও অধিক গাছ কিনেছেন। টাকা পরিশোধ করে ৫ দফায় ওই গাছগুলো কেটেছেন।

কাঠ ব্যবসায়ী আসাদ বলেন, হাজরাকাটি বাজার হতে দলিল উদ্দীন গাজীর বাড়ি অভিমূখে সড়ক থেকে আমি কয়েকটি গাছ কিনেছিলাম। ক্রয়কৃত গাছগুলো কাটা হয়ে গেছে। টাকাও পরিশোধ।

সাবেক ইউপি সদস্য কর্তৃক গাছ বিক্রি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে হাজরাকাটি ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ আক্কাজ আলী বলেন, গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে ওই টাকা কি করা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।

খলিলনগর ইউনিয়নের তহশীলদার (নায়েব) আব্দুল মালেক সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সড়কের গাছ কাটার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। গাছগুলো কাটার ব্যাপারে কোনো টাকা বা কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি। বা কোন অনুমোদনও আমাদের কাছে থেকে নেয়নি।

গাছ কাটার ঘটনায় জড়িত সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ সরদার গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরকারের কাছ থেকে অনেক আগে লিজ নিয়ে ওই গাছ লাগিয়েছিলাম। যে কারণে আমি ওই গাছগুলো কেটে বিক্রি করে নিয়েছি।

খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ বাবলু গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরকারের কাছ থেকে একটি ক্লাবের নামে চুক্তিপত্র করে ওই রাস্তায় গাছ লাগানো হয়। এই গাছের ৪০ শতাংশ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ পাবে। কিন্তু তারা তা দেয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানাছিল না। প্রমাণ পেয়েছি অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ-প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে বলেন, আগে বিষয়টি আমকে কেউ জানায় নি। যে কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।