জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৩ ||

ডেস্করিপোর্ট: নীচু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষেতে লাগানো ধান দু’বার নষ্ট হয়ে যায়। দেরীতে হলেও তৃতীয় বার ধান লাগিয়ে ছিলেন। কেটেছেন এক সপ্তাহ আগে। বিঘা প্রতি ১২ মণ ধান পেয়েছেন। সঙ্গে বিচালিও পেয়েছেন পর্যাপ্ত।

বুধবার সকালে রোপা আমন সম্পর্কে জানতে চাইলে এভাবেই কথা বলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের কৃষক সামছুর রহমান। তিনি বলেন, সোয়া চার বিঘা জমিতে তিনবার ধান লাগাতে হয়েছে। এতে খরচ বেশি লাগলেও দাম বেশি পেলে খরচ পুষিয়েও লাভ হতো। কিন্তু ধানের দাম কম থাকায় অন্যের জমিতে মজুরি না দিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যরাই কোন রকমে বাঁচানো যাবে।

কালিগঞ্জের ফতেপুর গ্রামের লক্ষ্মীপদ মণ্ডল জানান, সাত বিঘা জমিতে ৮৯ মণ আমন ধান পেয়েছেন। সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। তাই আমন চাষে খরচও বেড়েছে। উৎপাদিত ধানের দাম কম হলেও বিচালির দাম ভাল পাওয়ায় কোন রকমে টিকে আছেন। ওই জমিতে বোরো চাষ ভাল হলে আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

আমন ধানের দাম কম থাকায় বিকল্প চাষ করার কথা বলেন কলারোয়ার হিজলদি গ্রামের সাহেব আলী। তিনি জানান, আগে আমন চাষে সার লাগত না। এখন কিছু না হলেও বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ কেজি ইউরিয়া সার দিতে হয়। লাগে কীটনাশকও। এরপরও ধানের দাম যদি মণ প্রতি ২০০ টাকা বাড়ত তাহলে সমস্যা হতো না। তবে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ফলন পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

একইভাবে ধানের দাম কম, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি বলে সমস্যায় পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন আশাশুনির সোদকোনা গ্রামের চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, দেবহাটার সেকেন্দ্রা গ্রামের রমজান আলী, তালা উপজেলার পারকুমিরা গ্রামের তেজেন্দ্রনাথ রায়সহ অনেকেই। তারা জানান, পাশের জমিতে চিংড়ি চাষের ফলে তাদের জমিতেও লবণাক্ততা বেড়েছে। ফলে আমন ধানের উৎপাদন কমেছে। এরপরও আশাতীত ফলন পেয়েছেন বলে জানালেন ওইসব আমন চাষীরা। তারা জেলায় অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ বন্ধের দাবি জানান।

তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা সদরের বল্লী, ঝাউডাঙাসহ কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতার ফলে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা সম্ভর হয়নি। তালার কয়েটি বিলেও একই অবস্থা। এসব এলাকায় নদ, নদী ও খাল খনন করে বিলের পানি নিষ্কাশন করতে না পারলে আগামীতে বহু জমি অজন্মা হড়ে পড়বে। ফলে অভাবের তাড়নায় আইলা দুর্গত শ্যামনগর ও আশাশুনির মানুষের মত অনেকেরই পেশা পরিবর্তন করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

জেলা খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায়  দু’ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৩৯ টন আমন ধানের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৬২ হাজার ১৪ টন, কলারোয়ায় ৩৪ হাজার ২৩০ টন, তালায় ৩১ হাজার ৮২৫ টন, দেবহাটায় ১৬ হাজার ৩১৯ টন, আশাশুনিতে ২৯ হাজার ৬৯২ টন ও শ্যামনগরে ৪৫ হাজার ৪১৩ টন আমন ধানের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোলায়মান আলী জানান, এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯৫ শতাংশ জমিতে আমান ধান কাটা শেষ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হলে  দু’ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ টন চাল উৎপাদিত হবে বলে তিনি আশাবাদী। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধান হলে বছরে আরো তিন থেকে চার হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা সম্ভব হবে।