ফিরে দেখা ২০১২: জেলায় অপহরণ ডাকাতি ও এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ৪২টি


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৩ ||

এমজিললুররহমান: ফেলে আসা ২০১২ সালে জেলায় ডাকাতি অপহরণ ও এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এরমধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৫টি। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি এবং এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। তবে বাস্তবতার সাথে পুলিশের এচিত্র নিয়ে এক মত হননি সচেতন মহল। গেল বছরের শেষ সময়ে সীমান্তের কুশখালি এলাকা থেকে ট্রাকসহ গরু ডাকাতি, সদর থানা থেকে ২০০ গজ দূরে দীঘির পাড়ে পুলিশ পরিচয়ে সিগারেট কোম্পানির এজেন্ট অফিসে ডাকাতিসহ নানাবিধও অভিযোগ থাকলে অধিকাংশ ঘটনায় ডাকাতির পরিবর্তে চুরির অভিযোগে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এমনটি অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গেল বছরের জানুয়ারি ফেব্র“য়ারি ও মার্চ মাসে জেলায় কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। তবে জানুয়ারি মাসে সদর ও শ্যামনগরে অপহরণ হয়েছে ২ জন। এছাড়াও সদর ও কালিগঞ্জ থানায় এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ২টি। ফেব্র“য়ারি ও মার্চ মাসে জেলায় কোন এসিড নিক্ষেপের ঘটনা না ঘটলেও সদর কলারোয়া ও শ্যামনগরে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। মার্চ মাসে অপরহণ হয়েছে কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরে ৩ জন। এপ্রিল মাসে সদর থানায় ১টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি শ্যামনগরে ৩টি, কালিগঞ্জে ১টি ও কলারোয়ায় ১টি অপরণের ঘটনা ঘটলেও এ মাসে জেলায় কোন এসিড নিক্ষেপের ঘটনা নি। মে মাসে কলারোয়া ও কালিগঞ্জে ১টি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসিড নিক্ষেপের ঘটনা না থাকলেও অপরণ হয়েছে সদর আশাশুনি ও কালিগঞ্জে ৩ জন। গেল বছরের জুন মাসে ডাকাতরা শান্ত থাকায় জেলায় কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। তবে শুধুমাত্র তালায় একজনকে এসিড নিক্ষেপ ও কলারোয়ায় ১টি অপরণের ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে জেলায় কোন এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি। তবে তালায় ১টি ডাকাতিসহ সদর, আশাশুনি, কালিগঞ্জে একজন করে মোট ৩ জন ও শ্যামনগরে ২ জনকে অপরণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসে জেলায় কোন ডাকাতি ও এসিড নিক্ষেপ এবং অপরণের ঘটনা নি। সেপ্টেম্বর মাসে জেলার কোন থানায় ডাকাতি এবং এসিড নিক্ষেপের ঘটনা না থাকলেও সদর ও শ্যামনগরে ২ জনকে অপরণের ঘটনা ঘটেছে। অক্টোবর মাসে জেলায় কোন এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি তবে শুধুমাত্র সদরে ১টি ডাকাতি ও কলারোয়ায় ১টি অপহরণের ঘটনা রয়েছে। এর আগের বছর বিগত ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে জেলায় অপরণের ঘটনা ছিল ২টি।

জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র আরও জানায়, ফেলে আসা বছরের নভেম্বর মাসে ডাকাতি, এসিড নিক্ষেপ ও অপরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। বছরের সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসের চিত্র প্রায় একই রকম। এ মাসে জেলায় ডাকাতি ও এসিড সন্ত্রাস হয়নি। তবে অপহরণ হয়েছে ৫ জন। এরমধ্যে কলারোয়ায় ১টি, দেবহাটায় ১টি, আশাশুনিতে দুটি ও কালিগঞ্জে ১টি অপরহরণের ঘটনা ঘটেছে।

জেলায় বিগত বছরের আইনশৃঙ্খলার চিত্র থেকে দেখা গেছে, আগস্ট ও নভেম্বর মাসে অপহরণ, ডাকাতি ও এসিড নিক্ষেপের কোন ঘটনা নি। তবে ৩৪টি অপহরণের মধ্যে শ্যামনগর থানায় ৯টি অপহরণের ঘটনা রয়েছে। এছাড়া বাকি ২৫টি অপহরণ হয়েছে জেলার অপর ৭টি থানায়।  পাশাপাশি জেলায় ৫টি ডাকাতির ঘটনার মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ২টি, কলারোয়ায় ১টি, কালিগঞ্জে ১টি ও তালায় ১টি ঘটনা ঘটেছে। সাতক্ষীরা সদরে ১টি, কালিগঞ্জে ১টি ও তালায় ১টি করে এসিড নিক্ষেপেন ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদায় করা হয়েছে ২০১২ সাল।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গেল বছর অনেকগুলো ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও কুশখালিতে ট্রাকসহ গরু ডাকাতি ও দিঘীর পাড়ে সিগারেট কোম্পানির অফিসে ডাকাতির ঘটনা ছাড়া আর কোন মামলা হয়নি। শহরের কাটিয়া, পলাশপোলসহ আশপাশের এলাকার বাড়ির গ্রীল দিন দুপুরে কেটে বা খুলে লক্ষ লক্ষ টাকার স্বর্ণ খোয়া গেলেও মামলা হয়েছে চুরির অভিযোগে। ফলে ভুক্তভোগীদের দাবি ঘটনার বিপরীতে ভিন্ন প্রকৃতির মামলা হওয়ায় অপরাধীরা খুব সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।