তালায় জলাবদ্ধতা ও কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত বোরো ধানের বীজতলা, দিশেহারা কৃষক


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১১, ২০১৩ ||

তালা প্রতিনিধি: ২০১১ সালে ভয়াবহ বন্যায় তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার ২শ হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। নেট-পাটা ও অবৈধ দখলের কারণে অধিকাংশ বিল চাষাবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পর পর দু’বছর কোন ফসল ফলাতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে জলাবদ্ধ এলাকার কৃষক।
অপর দিকে তীব্র শীতের কারণে ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে পড়েছে কৃষক। সরেজমিনে উপজেলার কুমিরা, তেঁতুলিয়া, তালা সদর, জালালপুর, নগরঘাটা, ইসলামকাটী, মাগুরাসহ অন্যান্য এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এলাকাগুলোতে। ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে অধিকাংশ ইউনিয়নের বিলের জমিতে চাষাবাদ করতে পারেনি কৃষক। প্রায় ২ বছর ফসল ফলাতে না পারায় চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের। জলাবদ্ধতা বিলের মধ্য তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া, ধলবাড়িয়া, লক্ষণপুর, দেওয়ানীপাড়া, সুভাষিনী, তেরসি, সিরাশুনী, কলাপোতা, আড়ংপাড়া বিল, কুমিরা ইউনিয়নের মির্জাপুর, কেশা, নোয়াকাটী, বকশিয়া, সেনপুর, আমানুল্লাপুর ও মাহমুদপুর বিল, ইসলামকাটী ইউনিয়নের ভবানিপুর, খড়াইল, কাজীডাঙ্গা, কেছমতঘোনা, গোনডাঙ্গা ও বরাত বিল, তালা সদর এলাকার বারইহাটি বিল, সরুলিয়া ইউনিয়নের ভৈরবনগর, কাশীপুর, বড়বিলা, শাঁকদহা, আচিমতলা ও চোমরখালী বিল, খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছী, হরিণখোলা, গাছা, মেশেরডাঙ্গী বিলসহ জালালপুর ইউনিয়ন, খলিলনগর ইউনিয়ন, নগরঘাটা ইউনিয়ন, মাগুরা ইউনিয়নের বিলগুলো জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। এ সব বিলে গত কয়েক বছর ও চলতি বছর পানি জমে থাকায় কৃষকরা তেমন কোন ফসল উৎপাদন করতে পারেনি। ফলে সুযোগ বুঝে ওই সব বিলের প্রভাবশালী জমির মালিকরা গরীব চাষীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছে। যার কারণে ওই সব বিলে আগামী বছরগুলোতে কোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভবপর হবে না। তেঁতুলিয়া, ইসলামকাটী, জালালপুর ও কুমিরা এলাকা সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়। এই ৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ধারণা খালগুলো অবৈধ দখল, মাছের ঘের, নেট-পাটা দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাঁধা সৃষ্টি করায় দ্রুত পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। অভয়তলা গ্রামের সাজ্জাত হোসেন জানান, গত বছর বন্যার পর থেকে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে চলেছে। কৃষকরা এই জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
দেওয়ানীপাড়া গ্রামের অজিয়ার রহমান জানান, গত বছর বন্যার পর থেকে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেওয়ানীপাড়া এলাকার কৃষকরা। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিয়াজান আলী মোড়ল জানান, নওয়াপাড়া থেকে অবৈধ নেট-পাটা সরিয়ে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে দ্রুত পানি সরে যাবে বলে তিনি মনে করেন। কুমিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, ইতোমধ্যে যে সকল এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সে সকল এলাকায় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। বোরো ধান এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘদিন চেপে বসা তীব্র শীতের কারণে ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন মহা বিপদে। আবার অনেক কৃষক নিজের এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে শহরমূখী হতে বাধ্য হচ্ছে। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা এলাকায় অর্ধশত স্যালোমেশিন বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ভৌগলিক অবস্থার কারণে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে অবৈধ দখলকৃত খাল, নেট-পাটা অপসারণ করার কারণে ইসলামকাটী ইউনিয়ন থেকে পানি অনেকটা সরে গেছে। দ্রুত পানি সরানোর জন্য আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোন ফান্ড ছাড়াই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।