সন্ত্রাসী পুত্রদের বিচার দেখে মরতে চান বৃদ্ধ পিতা খায়বার সরদার


প্রকাশিত : January 11, 2013 ||

শহীদুল ইসলাম: এই সমাজ, এই রাষ্ট্র, আমার সন্ত্রাসী পুত্রদের বিচার করবে কী না? তা আমি জানি না। রাষ্ট্র বিচার করুক আর না করুক আপনারা সমাজের বিবেক। আপনারা আমার সন্ত্রাসী ছেলেদের কলঙ্কিত চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরুণ। সমাজ যেন তাদের ঘৃণা করে। সমাজের সহজ সরল মানুষ যেন সাইলু-মোহন কে বয়কট করে। আর কোন পিতার ঔরসে যেন এমন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর জন্ম না হয়। পিতা হিসেবে সাইলু-মোহনদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে এ আমার প্রাণের দাবি।
বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই নিজের ঔরসজাত সন্ত্রাসী পুত্রদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়ের এলাকার বাসিন্দা শতবর্ষী খায়বার সরদার। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তার জামাই পটুয়াখালি শহরের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন, নাতি ফিরোজ হোসেনসহ অনেকেই।
সংবাদ সম্মেলনে খায়বার সরদার বলেন, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার জগনাথপুর ছোট মৌজার এসএ খতিয়ান নং ৯,২,২২,২৬,১৫০,৪৬ দাগ নং ১২৮/৩২২ -এ ৩৫২ বিঘা জমি থেকে তার প্রত্যেক মেয়েকে ৮ বিঘা ও প্রত্যেক ছেলেকে ১৬ বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও মেয়েরা কখনো ভোগ দখল করতে না আসায় ৩ বছর আগে তিনি মেয়েদের ডেকে জমির ভোগ দখল বুঝে দেন। ছোট মেয়ে ও বড় মেয়ের ১৬ বিঘা জমিতে বেড়িবাধ দিয়ে মৎস্য ঘের করে আসছিলো নাতি ফারুক হোসেন রানা ও তার মা আনজুমান আরা বেগম রিক্তা। খায়বার সরদার বলেন, এরপর ওই জমির উপর কুনজর পড়ে আমার ছেলে সাইলু ও মোহনের। সাইলু মোহন তাদের বোনের জমি জোরপূর্বক দখল নিতে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ৪ বছর আগে মোহন ভূঁয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে ফারুক হোসেন রানাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি মধ্য রাতে সাইলু ও মোহন তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দেবহাটার কদম খালি এলাকার ঘেরের রেস্ট হাউসে হামলা চালায়। সাইলু ও মোহনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এসময় আমার নাতি ফারুক হোসেন রানা ও মেয়ে আনজুমান আরা বেগম রিক্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা বেধড়ক কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। হাতে, পায়ে মাথায় কুপিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে যায় তারা। এ সময় ঘেরে লুটপাট চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মাছ, নগদ ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা, ৬০ হাজার টাকার সোনার গহনাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে সন্ত্রাসীরা।
খায়বার সরদার বলেন, খুন, ধর্ষণ, মাদক, ছিনতাই, অস্ত্রবাজী, চাঁদাবাজি, এমন কোন অপরাধ নেই যা সাইলু-মোহন করেনি। এমন ছেলে পৃথিবীতে থাকার চেয়ে না থাকা ভালো। আমি আমার ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে মরতে চাই।
প্রসঙ্গত, খায়বার সরদারের তিন ছেলে মোমিনুল্লাহ মোহন ও খলিলুল্লাহ ঝড়– এবং সাইফুল্লাহ কিসলু দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এদের মধ্যে সাইফুল্লাহ কিসলু ২/৩ বছর আগে মারা গেছে।