তালায় মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের নিবন্ধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ


প্রকাশিত : January 20, 2013 ||

তালা প্রতিনিধি: স্বল্প খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ নিতে তালা উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তবে নিবন্ধনে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ ২ থেকে আড়াই শ’ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। যে প্রার্থী গোপনে তথ্য কেন্দ্রের কর্তাব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করছে, তার নিবন্ধন আগেই হয়ে যাচ্ছে। অথচ নিবন্ধনে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৫০ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
সরজমিনে শনিবার সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, নিবন্ধনের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক মানুষ। পরিষদের ২য় তলায় তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম ল্যাপটপে নিবন্ধনের কাজ করছেন। একই রুমে আরেকটি কম্পিউটারে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রেজাউল ইসলাম নিবন্ধনের কাজ করছেন। নিবন্ধনের জন্য রুমের মধ্যে ৫ জন প্রার্থী দাঁড়িয়ে আছেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাইদুর রহমান, নজরুল ইসলাম, সোহাগ সরদার, আব্দুল কাদের, কামরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান মিলে ৬ জনকে নিবন্ধন করা হয়েছে।
এদের মধ্যে নিচের লাইনে ১৯নং-এ দাঁড়িয়ে আছেন হাজরাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদের। তিনি জানেন না তার নিবন্ধন হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের কাছে তার নিবন্ধন হওয়ার কথা শুনেই তিনি অবাক। তবে লাইন মেনে নিবন্ধন না করায় ওই সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ বাবলু তথ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিনি লাইন মেনে আগ্রহী প্রার্থীদের নিবন্ধন করতে বলেন।
তথ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টা থেকে নিবন্ধনের কাজ শুরু করে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬ জনের নিবন্ধন করেছেন। ইন্টারনেটে ধীরগতির কারণে নিবন্ধন করতে দেরি হচ্ছে। এজন্য প্রার্থীদের কাছে থেকে খরচ বাবদ ৫০ টাকা নিয়ে তাদের রশিদ দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশী টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
পরিষদের বারন্দার নিচে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো লুৎফর রহমান, শামিম হোসেন, আমিরুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সকালে তথ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রথমে ২শ ৫০ টাকা চাওয়া হয়। ২০ মিনিট পরে ২শ টাকা চাওয়া হয়। এতে সকলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর আধাঘণ্টা পরেই ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে কম্পিউটারে কাজ হচ্ছে না বলে ২য় তলা থেকে আমাদের জানানো হয়।
এসময় দিবাশীষ ঘোষ, মিনরুল ইসলাম, গৌতাম বিশ্বাসসহ অনেকে জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। পিছনের লোকেরা লাইন না দিয়ে আগে এসে নিবন্ধন করে যাচ্ছে। আমরা লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি। আমরা কর্তাব্যক্তিদের সন্তষ্ট করতে পারলে আগে নিবন্ধন করতে পারতাম।
এ প্রসঙ্গে খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রনব ঘোষ বাবলু জানান, নিবন্ধন প্রার্থীদের কাছে থেকে ৫০ টাকা করে খরচ বাবদ নেওয়া হচ্ছে। কোন প্রকার বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন খরচ বাবদ ৫০ টাকা নেওয়া যাবে। যদি কোন তথ্য কেন্দ্র বেশি টাকা নেয়, তাহলে তা ঠিক হবে না।