ঠাণ্ডায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট, দুশ্চিন্তায় কৃষক


প্রকাশিত : January 20, 2013 ||

নেলী আফরিন: প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জেলায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষক চরম হতাশার মধ্যে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না করতে পারলে শুধু কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় ৭১ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজন চার হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমির বীজতলা। সেখানে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তালা উপজেলার কুমিরা, তেঁতুলিয়া, তালা সদর, জালালপুর, ঝাউডাঙ্গা, বল্ল¬ী, লাবসা ও কলারোয়া উপজেলার যুগিখালি, জয়নগর ও দিয়াড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে আমন ফসল হয়নি। এসব এলাকায় মানুষ সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে বারো চাষের উদ্যোগ নিয়েছে। চাষের জন্য আগাম বীজতলাও তৈরি করেছে। কিন্তু প্রচণ্ড শীতে অনেক জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা আর একদফা সমস্যায় পড়েছে।
তালা উপজেলা ইসলামকাটি গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি দুই কাটা জমিতে ১৫ দিন আগে ১০ কেজি ধান ফেলেছেন। বীজতলা ভাল ফুটলেও ঠাণ্ডার কারণে তা মারা যাচ্ছে। ঘোনা গ্রামের আব্দুল বারী তিন কাঠা জমিতে ও মীর আব্দুল হালিম এক কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। ঠাণ্ডায় তাদের অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি তার ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে এক বিঘা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তুুুুু গত এক সপ্তাহ আগে শৈত্য প্রবাহে তার অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। জলাবদ্ধতার কারণে আমন মৌসুমে ধান হয়নি। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি সমস্যায় পড়ছেন। একই কথা বলেন, পাথরঘাটা গ্রামের সুবীর ঘোষ ও ঝাউডাঙ্গা গ্রামের জাহিদ হোসেন।
তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, জলবদ্ধতার কারণে তাদের উপজেলার অনেক জমিতে আমন ফসল হয়নি। লোকসান পুষিয়ে নিতে জলাবদ্ধ জমি সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে বোরো চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ জিএম আব্দুর গফুর জানান, শৈত্য প্রবাহ বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তবে কি পরিমাণ জমির বীজতলা নষ্ট হয়েছে তা এখনও নির্ণয় করা যায়নি। তবে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, ১৭১ হেক্টর জমিতে বীজতলা বেশি তৈরির লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।